হেগলিগ তেলক্ষেত্র দখল করার পর দক্ষিণ কোরডোফানের বহু পরিবার তীব্র লড়াই থেকে পালিয়ে কস্টি শহরের গস আল-সালাম শরণার্থী ক্যাম্পে পৌঁছেছে। ডিসেম্বরের শুরুর দিকে র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (RSF) কৌশলগত হেগলিগ তেলক্ষেত্র দখল করে, যখন সুদানের সশস্ত্র বাহিনী (SAF) অঞ্চল ত্যাগ করে। এই ঘটনার পরপরই প্রায় ১,৭০০ শরণার্থী, বেশিরভাগই নারী ও শিশুরা, নিরাপত্তা ও মৌলিক সেবার অভাবে তাড়াতাড়ি প্যাকেজে চড়ে গন্তব্যের দিকে রওনা হয়।
শরণার্থীরা দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর যাত্রা শেষে কস্টির সাদা নীল নদী পার হয়ে গস আল-সালাম শিবিরে পৌঁছায়। ক্যাম্পে তৎক্ষণাৎ তাঁরা অস্থায়ী তাঁবুতে আশ্রয় নেয়, তবে শিবিরের অবস্থা এখনও অস্থির। তীব্র বৃষ্টির পরেও তাঁবুগুলো দ্রুত গড়ে তোলা হয়, কিন্তু শরণার্থীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মৌলিক চাহিদা—কম্বল, শীট, খাবার—এর ঘাটতি তীব্রতর হচ্ছে।
একজন বয়স্ক নারী, যিনি শিবিরে নতুনই পৌঁছেছেন, বললেন, “আমরা কিছুই না নিয়ে চলে গেছি, কেবল কিছু কাপড়ই সঙ্গে রেখেছি।” তার মুখে ক্লান্তি ও নিঃসঙ্গতার ছাপ স্পষ্ট, আর তার কথায় শরণার্থীর মৌলিক চাহিদার অভাব প্রকাশ পায়। একই শিবিরে আরেকজন বয়স্ক শরণার্থী জানান, “আমাদের কোনো কম্বল নেই, শীটও নেই, আমরা বয়স্ক মানুষ, এই পরিস্থিতি সহ্য করা কঠিন।”
তিন বছর ধরে চলমান RSF ও SAF এর মধ্যে সংঘর্ষের ফলে প্রায় ১৪ মিলিয়ন মানুষ তাদের বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, দেশের সর্বত্র প্রায় ২১ মিলিয়ন মানুষ তীব্র ক্ষুধার সম্মুখীন, যা বিশ্বে সবচেয়ে বড় মানবিক সংকটের মধ্যে একটি হিসেবে চিহ্নিত। এই বিশাল সংখ্যক শরণার্থী এবং ক্ষুধার্ত জনগণকে সমর্থন করার জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা এখনও অপর্যাপ্ত, এবং মৌলিক সেবার ঘাটতি শিবিরে বসবাসকারীদের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলছে।
গস আল-সালাম শিবিরের এক কোণে উম্মা আজমি তার নবজাতক শিশুর পাশে বসে আছেন। তিনি জানান, গর্ভধারণের শেষ মাসে তিনি রাস্তায় কাজের চাপের মধ্যে আটকে গিয়ে, কোনো চিকিৎসা সহায়তা ছাড়াই শিশুকে উন্মুক্ত বাতাসে জন্ম দেন। “নয় মাসের অপেক্ষা শেষে রাস্তায়ই সন্তানকে জন্ম দিলাম, পরিস্থিতি খুবই কঠিন,” তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন। শিশুর জন্মের পরপরই তিনি খাবারের অভাবে কষ্ট পাচ্ছেন; কখনও কখনও তারা আশেপাশে পাওয়া যেকোনো খাবারই খেতে বাধ্য হন।
জাতিসংঘের একজন কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, “সুদানের বর্তমান মানবিক সংকটের মাত্রা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ত্বরিত হস্তক্ষেপের দাবি রাখে।” তিনি আরও জানান, মানবিক সাহায্যের প্রবাহ বাড়াতে এবং শরণার্থীদের মৌলিক চাহিদা পূরণে ত্বরিত সমন্বয় প্রয়োজন। তবে এখন পর্যন্ত শিবিরে পৌঁছানো সাহায্যের পরিমাণ মৌলিক চাহিদা মেটাতে যথেষ্ট নয়, ফলে শরণার্থীরা শীতল রাত, তাপের ঝাপটা এবং খাবারের ঘাটতিতে ভুগছে।
আঞ্চলিক পর্যায়ে, হেগলিগ তেলক্ষেত্রের দখল আন্তর্জাতিক তেল বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে তুলেছে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। তেল রপ্তানি ও অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত দেশগুলো এই সংঘাতের সমাধানে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করছে, তবে এখনও কোনো স্থায়ী সমঝোতা গড়ে ওঠেনি।
শিবিরে বসবাসকারী শরণার্থীদের জন্য পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দাতা দেশের কাছ থেকে অতিরিক্ত খাবার, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের সরঞ্জাম এবং চিকিৎসা সেবা পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই সহায়তা কার্যকরভাবে পৌঁছাতে লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবেলা করতে হবে। শরণার্থীদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে এবং দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসন পরিকল্পনা গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য।
সুদানের চলমান যুদ্ধের পরিণতিতে মানবিক সংকটের মাত্রা বাড়ছে, এবং কস্টি শিবিরের শরণার্থীরা এই সংকটের সরাসরি শিকার। তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণ, নিরাপদ আশ্রয় এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা না হলে মানবিক দুর্যোগের পরিধি আরও বিস্তৃত হতে পারে। আন্তর্জাতিক সংস্থা, দাতা দেশ এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সমন্বিত পদক্ষেপই শরণার্থীদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের মূল চাবিকাঠি হবে।



