রাউজান উপজেলার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম সুলতানপুর গ্রামে গতরাতে প্রায় ৩:৪৫ টায় দু’টি বাড়িতে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। দু’টি বাড়ি হিন্দু সম্প্রদায়ের সুখ শীল ও অনিল শীলের, যেখানে মোট আটজন পরিবারিক সদস্য বাস করতেন। অগ্নিকাণ্ডের ফলে কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও দুই বাড়ির সাতটি কক্ষ সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গিয়েছে এবং মূল্যবান সামগ্রী নষ্ট হয়েছে।
আগুনের শিখা বাড়ির দরজা থেকে বাইরে হুক দিয়ে বন্ধ করা হয়েছিল বলে বাসিন্দারা জানান। রাতের খাবার শেষে ঘুমিয়ে পড়া পরিবারগুলো অগ্নিকাণ্ডের শিকারে পরার সঙ্গে সঙ্গে দরজা খুলতে না পারায় আতঙ্কে পড়ে। টিন ও বাঁশের তৈরি সুরক্ষামূলক বেড়া কেটে তারা বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়।
অনিল শীলের ছেলে, দুবাইতে বসবাসকারী মিঠুন শীল, প্রথমে ঘটনাস্থলে পৌঁছে বলেন, তার পাসপোর্ট, বাড়ির আসবাবপত্র এবং নগদ অর্থসহ ৮০-৯০ হাজার টাকার মূল্যমানের সামগ্রী পুড়ে গিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, দরজা দু’টিতে হুক লাগিয়ে রাখা অবস্থায় পরিবারগুলোকে হুড়োহুড়ি করে বের হতে হয়।
সকাল প্রায় ১০:৩০ টায় রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস.এম. রাহাতুল ইসলাম এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংছিং মারমা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেন। উভয় কর্মকর্তা অগ্নিকাণ্ডের দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেন এবং দু’টি পরিবারকে জরুরি সহায়তা প্রদান করেন। স্থানীয় প্রশাসন থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ২৫ কেজি চাল, পাঁচ হাজার টাকা নগদ এবং কম্বল বিতরণ করা হয়।
রাউজান থানা দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার সাজেদুল ইসলামও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জানিয়েছেন, আগুনের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। তিনি নিশ্চিত করেন, দু’টি বাড়ির দরজায় হুক দিয়ে আগুন জ্বালানো হয়েছে এবং তা অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণ। বর্তমানে সন্দেহভাজনদের সনাক্ত করার জন্য তদন্ত চালু রয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ জানিয়েছে, দরজা হুক দিয়ে বন্ধ করা এবং বাড়ি জ্বালানোর কাজ ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়েছে, যা দহসের অপরাধের অন্তর্ভুক্ত। সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী দহসের শাস্তি কঠোর, এবং তদন্তে প্রমাণ সংগ্রহের পাশাপাশি সম্ভাব্য সাক্ষী ও পার্শ্ববর্তী বাসিন্দাদের বিবৃতি নেওয়া হবে।
এই ঘটনার আগে গত শুক্রবার রাউজান পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে একই রকমের অগ্নিকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছিল, তবে সেসব ঘটনার বিশদ এখনো প্রকাশিত হয়নি। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ উভয়ই ধারাবাহিকভাবে নিরাপত্তা বাড়াতে এবং অনুরূপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছে।
অধিক তদন্তের ফলাফল ও আদালতে মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে পরবর্তী সময়ে তথ্য প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে, রাউজান থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রশাসন দু’টি পরিবারকে সহায়তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য সমন্বিতভাবে কাজ করছেন।



