মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্লোরিডার বাসভবনে বললেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো যদি পদত্যাগ করেন তবে তা তার জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হবে। তিনি যুক্তি দেন, মাদুরো যদি কঠোর পদক্ষেপ নিতে চান, তবে তা তার শেষ সুযোগ হতে পারে। একই সময়ে রাশিয়া ভেনেজুয়েলার সরকারকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের সামুদ্রিক অবরোধ ও হুমকির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেছে।
ট্রাম্পের মন্তব্যের পর মাদুরো তৎক্ষণাৎ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের বদলে ট্রাম্পের নিজের দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যাগুলোর দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত বলে আহ্বান জানালেন। তিনি টেলিভিশন সম্প্রচারে বললেন, যদি ট্রাম্প তার দেশের বিষয়গুলো সমাধান করেন তবে বিশ্বে তার অবস্থান উন্নত হবে। মাদুরোর এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলা নীতি নিয়ে বাড়তি উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
মাদুরোর মন্তব্যের পর রাশিয়া ভেনেজুয়েলার সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে, ইউক্রেনের যুদ্ধের মাঝেও মস্কো ভেনেজুয়েলার নেতৃত্বের সঙ্গে সম্প্রীতি বজায় রাখবে বলে জানিয়েছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে, ক্যারিবিয়ান সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমের বৃদ্ধি অঞ্চলীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক শিপিংয়ের জন্য হুমকি স্বরূপ। এই উদ্বেগের প্রকাশে রাশিয়া ও ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ও ইভান গিলের মধ্যে ফোনালাপ হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সামুদ্রিক বাহিনী ইতিমধ্যে ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদকে লক্ষ্য করে অবরোধ চালু করেছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী অবৈধ মাদক পাচার জাহাজে আক্রমণ এবং দুইটি তেল ট্যাঙ্কার জব্দের দাবি জানিয়েছে। তৃতীয় একটি জাহাজের অনুসরণও চলছে, যা আন্তর্জাতিক মিডিয়ার নজরে এসেছে।
এই ঘটনাগুলোর প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ মঙ্গলবার ভেনেজুয়েলার ক্রমবর্ধমান সংকট নিয়ে আলোচনা করবে। পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ এবং রাশিয়ার সমর্থন উভয়ই বিশ্লেষণ করা হবে। উভয় পক্ষের অবস্থান স্পষ্ট হওয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ বাড়বে।
ট্রাম্পের মন্তব্যে তিনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, মাদুরোর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে তার ওপর নির্ভরশীল। তিনি যুক্তি দেন, যদি মাদুরো নিজের অবস্থান শক্ত করে রাখেন, তবে তা তার শেষ সুযোগ হয়ে দাঁড়াবে। এই মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলা নীতি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়, যদিও কোনো আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপের ঘোষণা এখনো করা হয়নি।
মাদুরোর প্রতিক্রিয়ায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপকে ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ বিষয়ের হস্তক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত করে, ট্রাম্পকে তার দেশের সমস্যাগুলো সমাধান করতে বলেছিলেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, যদি ট্রাম্প তার দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যাগুলো সমাধান করেন, তবে বিশ্বে তার অবস্থান উন্নত হবে। এই বক্তব্য ভেনেজুয়েলার সরকারকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের অবস্থান দৃঢ় করতে সহায়তা করেছে।
রাশিয়া ভেনেজুয়েলার প্রতি তার সমর্থন পুনরায় নিশ্চিত করে, যুক্তরাষ্ট্রের সামুদ্রিক কার্যক্রমকে ক্যারিবিয়ান সাগরে অস্থিরতা বাড়ানোর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই ধরনের পদক্ষেপ অঞ্চলীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুতর হুমকি হতে পারে। রাশিয়া ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি পেয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের নীতি পরিবর্তনের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমের মধ্যে অবৈধ মাদক পাচার জাহাজে আক্রমণ এবং তেল ট্যাঙ্কার জব্দের পাশাপাশি তৃতীয় একটি জাহাজের অনুসরণও অন্তর্ভুক্ত। এই পদক্ষেপগুলো ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানি ও অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের এই কৌশল ভেনেজুয়েলার সরকারকে চাপে রাখার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক তেল বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে আলোচ্য বিষয়গুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকি এবং রাশিয়ার সমর্থন উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পরিষদে উভয় পক্ষের অবস্থান স্পষ্ট হওয়ায় ভবিষ্যতে কোনো সমঝোতা বা নিষেধাজ্ঞা আরোপের সম্ভাবনা বাড়বে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে এই আলোচনাগুলো ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
ট্রাম্পের মন্তব্যের পর ভেনেজুয়েলার সরকার রাশিয়ার সমর্থনকে শক্তিশালী করে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকির মুখে আন্তর্জাতিক সমর্থন বাড়ানোর চেষ্টা করছে। মাদুরোর বক্তব্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে তার নিজস্ব দেশের সমস্যাগুলো সমাধান করতে আহ্বান জানিয়ে, ভেনেজুয়েলার স্বায়ত্তশাসন রক্ষার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এই দ্বিমুখী সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কূটনৈতিক ও সামরিক কৌশল ভবিষ্যতে কীভাবে বিকশিত হবে তা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজরে থাকবে।
সারসংক্ষেপে, ট্রাম্পের মাদুরোর পদত্যাগকে বুদ্ধিমানের কাজ বলে মন্তব্য, রাশিয়ার পূর্ণ সমর্থন, এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামুদ্রিক অবরোধের ধারাবাহিকতা ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক সংকটকে নতুন পর্যায়ে নিয়ে গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এই বিষয়ের আলোচনার ফলাফল ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



