ঢাকায় প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে গতকাল এক বিশাল সমাবেশে সাংবাদিক, রাজনৈতিক দল, পেশাগত সংস্থা এবং নাগরিক গোষ্ঠী একত্রিত হয়ে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার আহ্বান জানায়। তারা জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে সৃষ্ট অশান্তি সৃষ্টিকারী প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের দাবি তুলে ধরেছে।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সংবাদমালিক সমিতি (NoAB), সম্পাদকীয় কাউন্সিল এবং বিভিন্ন পেশাগত সমিতির প্রতিনিধিরা। তারা মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সাম্প্রতিক হিংসা ও ধ্বংসাত্মক কাজকে কেবল একটি আক্রমণ নয়, বরং গণতন্ত্র, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের ওপর বিস্তৃত হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
গত সপ্তাহে The Daily Star এবং Prothom Alo-র অফিসে সংঘটিত হিংসা, পাশাপাশি New Age-এর সম্পাদক নুরুল কবিরের ওপর লক্ষ্যভেদী হয়রানি, মিডিয়া ক্ষেত্রের নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এই ঘটনাগুলোকে মিডিয়া স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সমাবেশের বক্তারা সরকারকে ‘ন্যায়ের জন্য প্রতিবাদ’ নামে অশান্তি সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর কার্যকলাপ দমন করতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য কঠোর সমালোচনা করেন। তারা সরকারের নিষ্ক্রিয়তাকে ‘ভয়ানক’ বলে বর্ণনা করে, এবং দ্রুত অপরাধীদের সনাক্তকরণ ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়।
বৈধ প্রতিবাদ ও মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষার জন্য সরকারকে ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে, মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি তোলা হয়।
প্রতিবাদটি ‘Bangladesh Attacked by Mob Violence’ শিরোনামে অনুষ্ঠিত হয়, যা NoAB এবং সম্পাদকীয় কাউন্সিলের সমন্বয়ে আয়োজিত। এই শিরোনামটি মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর গৃহীত হিংসাত্মক কর্মকে সমষ্টিগতভাবে নিন্দা করার উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছে।
সভায় New Age-এর সম্পাদক নুরুল কবির তার মতামত প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিটি সংবাদপত্রের নিজস্ব সম্পাদন নীতি থাকে এবং যদি কেউ সেই নীতির সঙ্গে অসন্তোষ প্রকাশ করে, তবে মিডিয়া প্রতিষ্ঠানে আগুন লাগানো কোনো গণতান্ত্রিক পদ্ধতি নয়।
কবির আরও বলেন, আক্রমণকারীরা মিডিয়া ধ্বংসের জন্য মধ্যযুগীয় পদ্ধতি ব্যবহার করেছে, যা আধুনিক সমাজের নৈতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সম্পূর্ণ বিরোধপূর্ণ। তিনি সম্পাদকীয় কাউন্সিলের সভাপতি হিসেবে এই ধরনের হিংসা বন্ধের জন্য তৎপরতা দাবি করেন।
বিএনপি সেক্রেটারি জেনারেল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও সমাবেশে তার মতামত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই আক্রমণ দুটি সংবাদপত্রের সীমাবদ্ধ নয়, বরং পুরো গণতন্ত্রের মূল ভিত্তিকে আঘাত করেছে।
ফখরুল উল্লেখ করেন, মিডিয়া স্বাধীনতা, স্বাধীন চিন্তা ও প্রকাশের অধিকারই দেশের মৌলিক অধিকার, এবং এই অধিকারগুলোর ওপর আক্রমণ দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তিনি জুলাই বিদ্রোহের স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ঐ বিদ্রোহের মূল লক্ষ্য ছিল জনগণের অধিকার রক্ষা।
বিএনপি নেতা তার জীবনের পুরো সময় স্বাধীন, সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার জন্য সংগ্রাম করেছেন এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আজকের বাংলাদেশ তিনি কখনো কল্পনা করেননি।
সমাবেশের সমাপ্তিতে সকল অংশগ্রহণকারী একতাবদ্ধতা বজায় রাখার এবং নির্বাচনের পূর্বে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে শান্তিপূর্ণ রাখতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে শেষ করেন। ভবিষ্যতে এই ধরনের হিংসা যদি রোধ না করা হয়, তবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা বাড়তে পারে, যা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নকে প্রভাবিত করবে।



