মঙ্গলবার সোনার স্পট দাম রেকর্ড স্তরে পৌঁছায়, ৪,৫০০ ডলারের কাছাকাছি সীমা অতিক্রমের পথে। আন্তর্জাতিক বাজারে যুক্তরাষ্ট্র‑ভেনেজুয়েলা উত্তেজনা বাড়ার ফলে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনার দিকে ঝুঁকেছে। একই সময়ে রূপার দামও নতুন শীর্ষে পৌঁছে, যা বৈশ্বিক ঝুঁকি পরিবেশের প্রভাবকে নির্দেশ করে।
গ্লোবাল মার্কেটে ০৩:২৯ GMT সময়ে স্পট সোনার দাম ০.৯ শতাংশ বাড়ে, ৪,৪৮৬.৪১ ডলার প্রতি আউন্সে স্থিত হয়। দিনের শুরুর দিকে দাম ৪,৪৯৭.৫৫ ডলারে স্পর্শ করেছিল, যা সর্বোচ্চ রেকর্ড হিসেবে নথিভুক্ত।
ইউএস ফিউচার বাজারে ফেব্রুয়ারি ডেলিভারির সোনার দাম ১.১ শতাংশ বাড়ে, ৪,৫১৯.৭০ ডলারে শেষ হয়। এই উত্থানটি যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা নীতি ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার সমন্বয়কে প্রতিফলিত করে।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটার উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র‑ভেনেজুয়েলা উত্তেজনা সোনাকে বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকি হেজ হিসেবে আরও আকর্ষণীয় করে তুলছে। তিনি বলেন, এই সপ্তাহে সোনার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, কারণ বাজারে সুদের হার হ্রাসের প্রত্যাশা বাড়ছে এবং বিনিয়োগকারীরা পোর্টফোলিও বৈচিত্র্যের জন্য মূল্যবান ধাতুকে বেছে নিচ্ছে।
ওয়াটার আরও যোগ করেন, সোনা ও রূপা এখনও তাদের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছায়নি, ফলে ভবিষ্যতে দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিনিয়োগকারীরা এই ধাতুকে মূলধন সংরক্ষণ এবং মুদ্রা অবমূল্যায়নের বিরুদ্ধে সুরক্ষার উপায় হিসেবে দেখছে।
অধিকন্তু, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক সময়ে ভেনেজুয়েলা থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রাপ্ত তেল ট্যাঙ্কারগুলোর প্রবেশ ও প্রস্থান বন্ধের ঘোষণা দেন। এই পদক্ষেপটি আন্তর্জাতিক তেল বাজারে অস্থিরতা বাড়িয়ে সোনার নিরাপদ সম্পদ হিসেবে চাহিদা তীব্র করে তুলেছে।
বাজার বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, ট্রাম্প শীঘ্রই নতুন ফেডারেল রিজার্ভ চেয়ারম্যানের নাম প্রকাশ করবেন, যা বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে ঘটতে পারে। এই সম্ভাব্য পরিবর্তন এবং আগামী বছরের দুইটি সুদের হার কাটার প্রত্যাশা বাজারে ডোভিশ নীতি নির্দেশ করে, ফলে সোনার দাম আরও সমর্থন পাবে।
বছরের শুরু থেকে সোনার দাম ৭০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এই উত্থানকে ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি, সুদের হার হ্রাসের বাজি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্রয়, ডলার থেকে বিচ্ছিন্নতা এবং এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ডের প্রবাহের সমন্বয় হিসেবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
নাগা গ্রুপের বাজার বিশ্লেষক ফ্র্যাঙ্ক ওয়ালবাউম উল্লেখ করেন, বছরের শেষের দিকে তরলতা কমে যাওয়া দামকে আরও অস্থির করতে পারে। তিনি সতর্ক করেন, সোনার দাম ভূ-রাজনৈতিক সংবাদ এবং সুদের হার প্রত্যাশার পরিবর্তনের প্রতি বিশেষভাবে সংবেদনশীল থাকবে।
সারসংক্ষেপে, সোনার দাম রেকর্ড স্তরে পৌঁছেছে এবং নিরাপদ সম্পদ হিসেবে তার আকর্ষণ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র‑ভেনেজুয়েলা উত্তেজনা, ফেডারেল নীতির পরিবর্তন এবং বাজারের তরলতা কমে যাওয়া ভবিষ্যতে দামকে প্রভাবিত করবে। বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্কতা ও বৈচিত্র্যপূর্ণ পোর্টফোলিও বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।



