28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিআইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের মন্তব্য: পুলিশ, বিচার ও প্রশাসনের পরিচালনা কঠিন

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের মন্তব্য: পুলিশ, বিচার ও প্রশাসনের পরিচালনা কঠিন

স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (এসইউবি) রোববার অনুষ্ঠিত সপ্তম সমাবর্তনে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল উল্লেখ করেছেন যে, গত দেড় দশকে পুলিশ, বিচার ও প্রশাসনের মতো মূল প্রতিষ্ঠানগুলোর ভিত্তি দুর্বল হওয়ায় সেগুলোকে কার্যকরভাবে চালানো এখন চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার হওয়ার পরেও ব্যক্তি পর্যায়ে অর্জন থাকা সত্ত্বেও টেকসই প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলায় বাংলাদেশ পিছিয়ে রয়েছে।

আসিফ নজরুলের মতে, অতীতের সময়ে এই প্রতিষ্ঠানগুলো অগ্রগতির পথে ছিল, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের মূল কাঠামো ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে। ফলে, আইন শৃঙ্খলা রক্ষা, ন্যায়বিচার নিশ্চিত এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম চালানোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জটিলতা দেখা দিচ্ছে। তিনি এই বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানের সভাপতি দ্বারা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশ করা হয়েছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের দেশগুলো কীভাবে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে গিয়েছে তা উদাহরণ দিয়ে বললেন, “যে দেশগুলো প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করেছে, সেগুলোই অগ্রগতি অর্জন করেছে”। বিপরীতে, বাংলাদেশে ব্যক্তি ও পরিবারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, ফলে অর্জিত সাফল্যগুলো টেকসই হয়নি।

আসিফ নজরুল আরও জোর দিয়ে বলেন, আধুনিক বিশ্বে কেবল ডিগ্রি নয়, সক্ষমতা, শৃঙ্খলা এবং বিশ্বাসযোগ্যতাও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি দক্ষতাকে অভ্যাসে রূপান্তর, নীতিকে পরিচয়ে পরিণত এবং দেশপ্রেমকে আচরণে প্রকাশ করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি বলছেন, ভবিষ্যতে দেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান বজায় রাখতে এই মানদণ্ডগুলোকে রূপান্তরিত করা আবশ্যক।

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তিনি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার আত্মার মাগফিরাতের প্রার্থনা করেন। হাদির মৃত্যুর পর তিনি বলেন, “আমি এত বড় জানাজা দেখিনি; মানুষের সমবেত দোয়া ও শোক আমাকে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করিয়ে দেয় যে আল্লাহ তাকে সর্বোচ্চ স্বর্গে স্থাপন করবেন”। এছাড়া, তিনি হাদির ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা, সৎ জীবনযাপন এবং কর্মীদের প্রতি তার অবদানের প্রশংসা করেন, যা বহু নেতার জন্য অনুকরণীয়।

অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তৃতা দিয়েছেন। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন-ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজ সমাবর্তনের মূল বক্তা হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া, এসইউবির ট্রাস্টি বোর্ডের প্রেসিডেন্ট এ এম শামীম, ভাইস-প্রেসিডেন্ট মো. মাহবুবুর রহমান এবং উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতার হোসেন খানও উপস্থিত ছিলেন।

আইন উপদেষ্টার এই মন্তব্যগুলো দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিমণ্ডলে প্রাসঙ্গিক আলোচনার সূচনা করতে পারে। প্রতিষ্ঠানগত দুর্বলতা ও সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তিনি যে দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছেন, তা সরকার ও বিরোধী দলের নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে, পুলিশ ও বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়াতে কী ধরনের সংস্কার প্রয়োজন, তা নিয়ে ভবিষ্যতে পার্টি ও নাগরিক সমাজের মধ্যে বিতর্কের সম্ভাবনা রয়েছে।

বৈধ উপদেষ্টার মতে, টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা অপরিহার্য, যা না হলে দেশের সামাজিক-অর্থনৈতিক অগ্রগতি ব্যাহত হতে পারে। তিনি এই দৃষ্টিকোণ থেকে সরকারকে প্রতিষ্ঠান সংস্কারের দিকে ত্বরান্বিত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান।

সমাবর্তন অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে উপস্থিত সবাই একত্রে হাদির আত্মার শান্তি ও পরিবারের মঙ্গলের জন্য প্রার্থনা করেন। এই সমাবর্তন, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠনের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়, একই সঙ্গে দেশের বৃহত্তর প্রতিষ্ঠানগত চ্যালেঞ্জের ওপর আলোকপাত করেছে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments