ইরানের উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা ২০ ডিসেম্বর ইসরায়েলি মিডিয়া ও রাজনৈতিক কৌশলকে ইরানের প্রতি সাম্প্রতিক আক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবহৃত একটি প্রচারণা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর উপ-প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ ওয়াহিদি, NBC নিউজের একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর ইসরায়েলি পদক্ষেপের প্রকৃতি সম্পর্কে বিশদ মন্তব্য করেন।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠকে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নতুন আক্রমণের পরিকল্পনা উপস্থাপন করবেন বলে জানা যায়। এই তথ্যটি এবিসি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যা ইসরায়েলি সরকারের ভবিষ্যৎ কৌশলগত পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেয়।
ইরানি কমান্ডার জোর দিয়ে বলেন, ইসরায়েলি মিডিয়া ও রাজনৈতিক প্রচারণা বাস্তবতা বিকৃত করে, যাতে ইরানের প্রতি আক্রমণের পরিণতি ও তার ফলাফলকে কমিয়ে দেখানো যায়। তিনি উল্লেখ করেন, ইসরায়েল মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জনমতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে, যা বাস্তব পরিস্থিতি প্রতিফলিত করে না।
ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক ১২ দিনের যুদ্ধে, ইসরায়েলি শাসন কাঠামো কোনো কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই ব্যর্থতা ইসরায়েলকে ক্রমবর্ধমান বিচ্ছিন্নতা, অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং কৌশলগত সমস্যার মধ্যে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। ফলে, ইসরায়েলকে এখন মরিয়া প্রচেষ্টায় নিয়োজিত হতে হচ্ছে, যাতে তার আন্তর্জাতিক অবস্থান ও নিরাপত্তা বজায় রাখা যায়।
অন্যদিকে, ইরান আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক উন্নয়নের ওপর নিবিড় নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। ইরানি সামরিক বাহিনীর প্রবীণ কমান্ডার ইঙ্গিত দেন, ইসরায়েলি বিবৃতি ও প্রচারণা দীর্ঘমেয়াদে কোনো ফলাফল না এনে দিতে পারে। তিনি ইরানের কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
ইসরায়েলি পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হলে, তা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামোতে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে সম্ভাব্য আক্রমণ পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হলে, যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ও সামরিক সমর্থন ইরানের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। একই সময়ে, ইরানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও আঞ্চলিক পর্যবেক্ষণ তার কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় সহায়তা করবে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, ইসরায়েলি মিডিয়া প্রচারণা ও রাজনৈতিক কৌশল আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে পারে, তবে ইরানের দৃঢ় অবস্থান ও পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা এই প্রচারণার প্রভাব সীমিত রাখতে পারে। ভবিষ্যতে, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সংলাপের সুযোগ বাড়তে পারে, অথবা যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা এই দ্বন্দ্বকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, ইসরায়েলি সরকার তার কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের জন্য মিডিয়া ও রাজনৈতিক উপকরণ ব্যবহার করছে, আর ইরান তার নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্বার্থ রক্ষার জন্য কূটনৈতিক ও সামরিক পর্যবেক্ষণ বজায় রাখছে। উভয় পক্ষের এই পারস্পরিক ক্রিয়া মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলবে, এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য সতর্কতা ও সমন্বিত নীতি প্রয়োজনীয়তা বাড়াবে।



