27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধবগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় লটো শোরুমের মালিকের অপহরণে মৃতদেহ উদ্ধার

বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় লটো শোরুমের মালিকের অপহরণে মৃতদেহ উদ্ধার

বগুড়া জেলার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় লটো শোরুমের মালিক পিন্টু আকন্দ (৩৫) কে অপহরণ করার পর তার মৃতদেহ সন্ধ্যা ৩টার দিকে আদমদীঘি উপজেলার কুমারপাড়া এলাকায় পাওয়া যায়। পিন্টু আকন্দ নওগাঁ জেলার রাণীনগর উপজেলার বাসিন্দা, যিনি শোরুমের স্বত্বাধিকারী হিসেবে স্থানীয় ব্যবসা চালাতেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অপরাধীরা অপহরণের পর শ্বাসরোধের মাধ্যমে তাকে হত্যা করে, পরে দেহটি ফেলে রেখে যায়।

দেহটি উদ্ধার করার পর বগুড়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপারইনস্পেক্টর আতওয়ার হোসেন জানান, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সাদা হায়েস মাইক্রোবাস এবং কয়েকজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একাধিক ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত, তবে বাকি সন্দেহভাজনদের সনাক্তকরণ ও গ্রেপ্তার এখনও চলমান। হোসেনের মতে, হত্যার সুনির্দিষ্ট প্রেরণা এখনো পরিষ্কার করা যায়নি এবং তদন্তের পরিধি বিস্তৃত।

সন্ধ্যা ৯টা ৮ মিনিটের দিকে একই এলাকায় হায়েস মাইক্রোবাস থেমে চারজন অপরাধী নেমে আসে। তাদের মধ্যে একজন গুলি দেখিয়ে পিন্টু আকন্দকে শোরুমের ভিতর থেকে টেনে বের করে নেয়। এরপর অপরাধীরা তাকে সাদা মাইক্রোবাসে তুলে বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়ক ধরে আদমদীঘির দিকে নিয়ে যায়। গন্তব্যের পথে অপরাধীদের মুখ সবই মাস্ক বা কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল, ফলে সনাক্তকরণ কঠিন হয়ে পড়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, অপহরণকৃত ব্যবসায়ীকে শ্বাসরোধের মাধ্যমে হত্যা করা হয় এবং দেহটি দূরবর্তী এলাকায় ফেলে রাখা হয়। দেহের অবস্থান ও মৃতদেহের শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে এই উপসংহার টানা হয়েছে। দেহে কোনো দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন না থাকলেও শ্বাসরোধের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা হত্যার পদ্ধতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অপরাধী দলটি ব্যবহার করা মাইক্রোবাসটি তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ধরা হয়েছে। মাইক্রোবাসের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও রুটের তথ্য অনুসন্ধান করা হচ্ছে, যাতে গন্তব্যস্থল ও সম্ভাব্য সহযোদ্ধাদের চিহ্নিত করা যায়। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহের প্রচেষ্টা চলছে, যাতে অপরাধের সম্পূর্ণ চিত্র উন্মোচিত হয়।

বগুড়া পুলিশ এখনো বাকি সন্দেহভাজনদের সনাক্তকরণ ও গ্রেপ্তার করার জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্তের অংশ হিসেবে, স্থানীয় গ্যাং ও অপরাধী নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযোগের সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে। এছাড়া, শোরুমের আশেপাশের নিরাপত্তা ক্যামেরা রেকর্ড এবং গ্যাংস্টারদের ফোন রেকর্ড বিশ্লেষণ করা হচ্ছে, যাতে অপরাধের পরিকল্পনা ও সমন্বয় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।

অপরাধের আইনি দিক থেকে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে হিংসাত্মক অপরাধের আইনের অধীনে মামলা দায়ের করা হবে। সংশ্লিষ্ট আদালতে প্রাথমিক শুনানির তারিখ নির্ধারিত হবে, যেখানে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রমাণ উপস্থাপন করা হবে এবং তাদের রক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা হবে। মামলার অগ্রগতি ও আদালতের রায়ের ভিত্তিতে অতিরিক্ত দণ্ড বা জরিমানা আরোপের সম্ভাবনা থাকবে।

পিন্টু আকন্দের পরিবার ও শোরুমের কর্মচারীরা এই ঘটনার শোক প্রকাশ করে, একই সঙ্গে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ এই ধরনের হিংসাত্মক অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তদন্ত চলমান থাকায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নতুন তথ্য পাওয়া মাত্রই জনসাধারণকে জানানো হবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments