আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের মুদ্রণ ও প্রকাশনা শাখা গতকাল গেজেটে ‘সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যানসিয়াল কর্পোরেশনসহ স্ব-শাসিত সংস্থাসমূহে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ প্রকাশ করেছে। এই অধ্যাদেশটি সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে বয়সসীমা সংক্রান্ত পূর্বের বিধানকে সংশোধন করে এবং একই দিন থেকে কার্যকর হবে।
২০২৪ সালে গৃহীত ১১ নং অধ্যাদেশের পূর্ণ শিরোনাম ও কিছু ধারা এই সংশোধনের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়েছে। মূলত শিরোনাম, প্রস্তাবনা এবং ধারা ১‑এর উপ‑ধারা (১) ও ধারা ৩‑এর দফা (গ) থেকে ‘অর্ধ-স্বায়ত্তশাসিত’ শব্দটি ও সংশ্লিষ্ট চিহ্নগুলো মুছে ফেলা হয়েছে। ফলে সংশোধিত শিরোনামটি এখন দীর্ঘ হলেও স্পষ্টভাবে সকল প্রযোজ্য সংস্থাকে অন্তর্ভুক্ত করে।
অধিকন্তু, ২০২৪ সালের ১১ নং অধ্যাদেশে নতুন ধারা ৩ক যুক্ত করা হয়েছে। এই ধারা নতুন সংযোজনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য পরিবর্তনের জন্য কাঠামো তৈরি করেছে, যদিও এর নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু গেজেটে প্রকাশিত মূল পাঠে উল্লেখ করা হয়নি।
সংশোধনের মূল উদ্দেশ্য ছিল আইনগত শিরোনাম ও ধারা গুলোকে বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা। ‘অর্ধ-স্বায়ত্তশাসিত’ শব্দটি বাদ দিয়ে সংস্থার প্রকৃত স্বায়ত্তশাসন স্তরকে স্পষ্ট করা হয়েছে, যা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিভ্রান্তি কমাতে সহায়ক হবে।
অধ্যাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা হল ধারা ৩, যেখানে বলা হয়েছে যে, যদি কোনো সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যানসিয়াল কর্পোরেশন অথবা স্ব-শাসিত সংস্থার নিজস্ব নিয়োগ বিধিমালা বা ক্ষেত্র‑বিশেষ প্রবিধানে সরাসরি নিয়োগের জন্য সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বছর অতিক্রম করে নির্ধারিত থাকে, তবে সেই বয়সসীমা অপরিবর্তিত থাকবে। অর্থাৎ, পূর্বে নির্ধারিত উচ্চ বয়সসীমা বজায় থাকবে এবং নতুন কোনো সীমা আরোপ করা হবে না।
এই ধারা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পূর্বে কিছু সংস্থায় বয়সসীমা ৩২ বছরের বেশি নির্ধারিত ছিল এবং সংশোধনের মাধ্যমে তা রক্ষা পাবে। ফলে বর্তমান কর্মী ও প্রার্থীদের জন্য কোনো অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন ঘটবে না, যা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখবে।
মন্ত্রণালয় এই সংশোধনকে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও আইনি সামঞ্জস্যের দিকে একটি পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। সংশোধিত শিরোনাম ও ধারা গুলোকে আধুনিক প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে মানানসই করে, নিয়োগের মানদণ্ডে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা দূর করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন যে, এই ধরনের বিধানগত পরিবর্তন সাধারণত দীর্ঘমেয়াদী মানবসম্পদ পরিকল্পনা ও কর্মী ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত। যদিও সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে সরকারী সংস্থার নিয়োগ নীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই ধরণের সংশোধন প্রায়ই প্রয়োজনীয় বলে গণ্য করা হয়।
ভবিষ্যতে এই অধ্যাদেশের কার্যকর হওয়ার পর, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে তাদের নিজস্ব নিয়োগ বিধিমালা পুনরায় পর্যালোচনা করতে হবে যাতে নতুন শিরোনাম ও ধারা অনুসারে সঙ্গতি রক্ষা করা যায়। কোনো বিরোধ বা অসামঞ্জস্য দেখা দিলে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের সম্ভাবনা থাকবে।
সারসংক্ষেপে, গেজেটে প্রকাশিত এই অধ্যাদেশটি সরাসরি নিয়োগের সর্বোচ্চ বয়সসীমা সংক্রান্ত পূর্বের বিধানকে আধুনিকায়ন করেছে, ‘অর্ধ-স্বায়ত্তশাসিত’ শব্দটি বাদ দিয়ে শিরোনামকে পরিষ্কার করেছে এবং নতুন ধারা ৩ক যুক্ত করেছে। একই সঙ্গে, ৩২ বছরের বেশি বয়সসীমা নির্ধারিত পদগুলোর জন্য পূর্বের সীমা বজায় রাখার মাধ্যমে কর্মী সুরক্ষা নিশ্চিত করেছে।
এই পরিবর্তনগুলো সরকারী ও স্বশাসিত সংস্থার মানবসম্পদ নীতি গঠনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে এবং ভবিষ্যতে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করবে।



