যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৬ সালে আরও কঠোর অভিবাসন দমন নীতি চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নতুন বাজেটের মাধ্যমে বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করে কর্মস্থলে রেইডের সংখ্যা বাড়ানো হবে, যদিও পরবর্তী বছরের মধ্যমেয়াদী নির্বাচনের আগে বিরোধী মতামত তীব্রতর হচ্ছে।
গত বছর ট্রাম্পের প্রশাসন ইমিগ্রেশন এজেন্সিগুলোকে প্রধান শহরগুলোতে ত্বরান্বিত করে পাঠায়, যেখানে তারা পাড়া-প্রতিবেশে ঘুরে বেড়িয়ে বাসিন্দাদের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এই রেইডগুলোতে উচ্চপ্রোফাইল ব্যবসা লক্ষ্যবস্তু করা হলেও, কৃষি ক্ষেত্র, কারখানা ও অন্যান্য অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে তুলনামূলকভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে, যদিও সেসব জায়গায় অবৈধ কর্মী নিয়োগের রেকর্ড রয়েছে।
ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) ও বর্ডার প্যাট্রোলকে সেপ্টেম্বর ২০২৯ পর্যন্ত অতিরিক্ত ১৭০ বিলিয়ন ডলার তহবিল প্রদান করা হবে। এই পরিমাণ তাদের বর্তমান বার্ষিক বাজেট প্রায় ১৯ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় বিশাল বৃদ্ধি, যা জুলাই মাসে রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের অনুমোদিত বৃহৎ ব্যয় প্যাকেজের ফল।
প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী হাজার হাজার নতুন এজেন্ট নিয়োগ, অতিরিক্ত ডিটেনশন সেন্টার গঠন, স্থানীয় জেলখানায় আটক থাকা অভিবাসীদের আরও বেশি করে তুলে নেওয়া এবং বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতায় অবৈধ অবস্থায় থাকা ব্যক্তিদের সনাক্তকরণ ও গ্রেফতার করা অন্তর্ভুক্ত।
এই বিস্তৃত দমন নীতি রাজনৈতিক বিরোধের মুখে পড়লেও, প্রশাসন এগিয়ে চলেছে। মিয়ামি শহর, যেখানে বড় সংখ্যক অভিবাসী বসবাস করে, সম্প্রতি প্রায় তিন দশকের মধ্যে প্রথম ডেমোক্র্যাটিক মেয়রকে নির্বাচন করেছে। নতুন মেয়র নির্বাচনের ফলাফলকে ট্রাম্পের কঠোর নীতি নিয়ে জনমতের প্রতিক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
মিয়ামি ছাড়াও অন্যান্য স্থানীয় নির্বাচনে এবং সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ভোটাররা অভিবাসন নীতি নিয়ে বাড়তি উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। বিশেষ করে কর্মস্থল রেইডের ফলে স্থানীয় ব্যবসা ও সম্প্রদায়ের ওপর প্রভাব নিয়ে অসন্তোষের স্রোত বাড়ছে।
মাইক মাদ্রিদ, মধ্যম রিপাবলিকান রাজনৈতিক কৌশলবিদ, উল্লেখ করেন যে জনগণ এখন এই বিষয়কে কেবল অভিবাসন প্রশ্ন নয়, বরং অধিকার লঙ্ঘন, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অবহেলা এবং সংবিধানবিরোধী সামরিকীকরণ হিসেবে দেখছে। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি প্রেসিডেন্ট ও রিপাবলিকান পার্টির জন্য গুরুতর সমস্যার সৃষ্টি করছে।
ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি সম্পর্কিত সমর্থন হার মার্চে ৫০% থেকে হ্রাস পেয়েছে, বিশেষ করে বড় শহরে রেইডের পর এই পতন তীব্রতর হয়েছে। এই হ্রাস তার পরবর্তী নির্বাচনী কৌশলকে প্রভাবিত করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, ট্রাম্পের প্রশাসন ২০২৬ সালে বড় বাজেটের সহায়তায় কর্মস্থল রেইড বাড়িয়ে, নতুন ডিটেনশন সুবিধা গড়ে তুলে এবং বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে অবৈধ অভিবাসী সনাক্তকরণে তীব্রতা আনবে। তবে এই পদক্ষেপগুলো ভোটারদের মধ্যে বাড়তি বিরোধের মুখে রয়েছে, যা পরবর্তী মধ্যমেয়াদী নির্বাচনে রাজনৈতিক গতিপথকে প্রভাবিত করতে পারে।



