19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিট্রাম্পের 'গোল্ডেন ফ্লিট' পরিকল্পনা: নতুন ট্রাম্প ক্লাস যুদ্ধজাহাজের সূচনা

ট্রাম্পের ‘গোল্ডেন ফ্লিট’ পরিকল্পনা: নতুন ট্রাম্প ক্লাস যুদ্ধজাহাজের সূচনা

ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো গলফ ক্লাবে সোমবার, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন “গোল্ডেন ফ্লিট”ের অংশ হিসেবে নিজ নামে নামকরণ করা যুদ্ধজাহাজের সিরিজ নির্মাণের ঘোষণা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, ট্রাম্প ক্লাসের ইউএসএস ডিফিয়েন্ট জাহাজগুলো শীঘ্রই নির্মাণে যাবে এবং প্রায় দুই বছর অর্ধেকের মধ্যে সেবায় প্রবেশ করবে।

এই ঘোষণার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর আধুনিকীকরণ পরিকল্পনা ত্বরান্বিত করার লক্ষ্য রয়েছে, যেখানে ম্যানড ও অনম্যানড উভয় ধরণের নৌযান অন্তর্ভুক্ত হবে। ট্রাম্পের মতে, নতুন যুদ্ধজাহাজগুলো দ্রুততম, বৃহত্তম এবং পূর্বের যেকোনো যুদ্ধজাহাজের তুলনায় শতগুণ বেশি শক্তিশালী হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ, পররাষ্ট্র মন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং নৌবাহিনীর মন্ত্রী জন ফেলান উপস্থিত ছিলেন। ফেলান উল্লেখ করেন, ট্রাম্পের অনুরোধে “বড়, সুন্দর” ধরনের যুদ্ধজাহাজের নকশা করা হয়েছে, যা হাইপারসনিক ও অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক অস্ত্র বহন করতে সক্ষম হবে এবং নৌবাহিনীর ফ্ল্যাগশিপ হিসেবে কাজ করবে।

নতুন জাহাজগুলো সম্পূর্ণভাবে দেশীয় উৎপাদন হবে এবং নির্মাণ প্রক্রিয়ায় হাজারো কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ট্রাম্প এই প্রকল্পকে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে তুলে ধরেন।

অন্যদিকে, সামরিক বিশ্লেষক ও নৌবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজ নির্মাণ ক্ষমতা ও মোট উৎপাদনে চীনের পিছিয়ে থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে সতর্কতা প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, বর্তমান সময়ে চীনের নৌশক্তি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, আর যুক্তরাষ্ট্রকে এই ফাঁক পূরণে ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে হবে।

১৯ ডিসেম্বর, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী কোস্ট গার্ডের লেজেন্ড-ক্লাস ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাটার ভিত্তিক নতুন নৌযানগুলোরও ঘোষণা করে। চিফ অফ নেভাল অপারেশনস ড্যারিল কডল উল্লেখ করেন, “লাল সাগর থেকে ক্যারিবিয়ান পর্যন্ত সাম্প্রতিক অপারেশনগুলো দেখায় যে আমাদের ছোট পৃষ্ঠতল যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা অপর্যাপ্ত, যা আমাদের মোট জাহাজের এক তৃতীয়াংশের কম।” এই মন্তব্য নতুন যুদ্ধজাহাজের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট করে।

প্রেসিডেন্টের এই উদ্যোগের রাজনৈতিক প্রভাবও বিশাল হতে পারে। ঘরোয়া শিল্প ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি ট্রাম্পের সমর্থকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা বাড়াতে পারে, বিশেষ করে রক্ষণশীল ভোটারদের মধ্যে। তবে, উচ্চ ব্যয়, প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ এবং চীনের সঙ্গে সামুদ্রিক প্রতিযোগিতা বাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে কিছু বিশেষজ্ঞের সমালোচনা রয়েছে। তারা প্রশ্ন তুলছেন, দুই বছর অর্ধেকের মধ্যে এত বড় ও জটিল জাহাজ চালু করা বাস্তবসম্মত কি না।

ট্রাম্পের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলকে পুনর্গঠন করার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদি সফল হয়, তবে এটি নৌবাহিনীর ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে এবং আন্তর্জাতিক নৌবাহিনীর ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলবে। অন্যদিকে, পরিকল্পনার বাস্তবায়ন ধীর হলে বা ব্যয় বাড়লে রাজনৈতিক বিরোধিতা তীব্র হতে পারে, যা পরবর্তী নির্বাচনী চক্রে প্রভাব ফেলতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, ট্রাম্পের “গোল্ডেন ফ্লিট” ঘোষণাটি যুক্তরাষ্ট্রের নৌশক্তি পুনর্গঠনের একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী উদ্যোগ, যা দেশীয় উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক প্রতিযোগিতায় নতুন মাত্রা যোগ করার লক্ষ্য রাখে। ভবিষ্যতে এই প্রকল্পের অগ্রগতি ও বাস্তবায়ন কীভাবে ঘটবে, তা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক দৃশ্যপটের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

১০০/১০০ ২টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসিআল জাজিরা
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments