রোব রেইনারের পরিবারকে এক সপ্তাহের মধ্যে শোকের ছায়া ঘিরে রেখেছে। ১৪ ডিসেম্বর, ৭৮ বছর বয়সী রেইনার এবং তার ৭০ বছর বয়সী স্ত্রী মিশেল লস এঞ্জেলেসের ব্রেন্টউড বাড়িতে গুলি করে নিহত হন। লস এঞ্জেলেস মেডিক্যাল এক্সামিনার অনুসারে দুজনের দেহে একাধিক তীক্ষ্ণ আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। তাদের ৩২ বছর বয়সী পুত্র নিক রেইনারকে দুইটি প্রথম ডিগ্রি হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে।
রেইনারের মৃত্যুতে শিল্প জগতের বহু নাম শোক প্রকাশ করেছে। সিবিএস নিউজের বিশেষ অনুষ্ঠান “রোব রেইনার — সীনস ফ্রম এ লাইফ” রবিবার সম্প্রচারিত হয়, যেখানে রেইনারের সহকর্মী ও বন্ধুদের স্মৃতিচারণা শোনা যায়। অনুষ্ঠানে ম্যান্ডি প্যাটিনকিন, ক্যাথি বেটস, জেরি ও’কনেল এবং অন্যান্য পরিচিত মুখ উপস্থিত ছিলেন।
ম্যান্ডি প্যাটিনকিন, যিনি রেইনারের ১৯৮৭ সালের চলচ্চিত্র “দ্য প্রিন্সেস ব্রাইড”-এ কাজ করেছেন, রেইনারের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে চোখে জল নিয়ে কথা বলেন। তিনি রেইনারের কথাকে স্মরণ করে বলেন, রেইনার তাকে সর্বোত্তম মানুষ হতে উৎসাহিত করতেন এবং একবার তিনি বলেছিলেন, “আমি চাই তুমি নিজের পথে না থেমে যাও”। প্যাটিনকিন জানান, রেইনারের এই নির্দেশনা আজও তার জীবনের পথপ্রদর্শক।
ক্যাথি বেটস, যিনি রেইনারের ১৯৯০ সালের চলচ্চিত্র “মিসেরি”‑এ অস্কার জয়ী চরিত্রে অভিনয় করেন, তাও রেইনারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, যদি তিনি “মিসেরি” না করতেন, তবে তার ক্যারিয়ার ও বন্ধুত্বের পথ ভিন্ন হতো। বেটসের মতে, রেইনারের সঙ্গে কাজ করা তার জীবনের সমৃদ্ধি বাড়িয়ে দিয়েছে এবং তার শিল্পীজীবনের দিক পরিবর্তন করেছে।
অনুষ্ঠানে জেরি ও’কনেলও রেইনারের সঙ্গে কাজের স্মৃতি শেয়ার করেন, যদিও তিনি সরাসরি কোনো উদ্ধৃতি দেননি। অন্যান্য শিল্পী ও বন্ধুদের মন্তব্যে রেইনারের মানবিক দিক, তার কাজের প্রতি নিষ্ঠা এবং চলচ্চিত্র জগতের ওপর তার প্রভাবের কথা উঠে আসে। সবাই সম্মত হন, রেইনারের কাজ ও ব্যক্তিত্ব ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
রেইনারের মৃত্যুতে আলবার্ট ব্রুক্সের মতানুযায়ী শোকের প্রকাশও দেখা গিয়েছে, যদিও তিনি সরাসরি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি রেইনারের মৃত্যুর পর নিজেকে অস্বীকারের অবস্থায় অনুভব করছেন বলে প্রকাশ করেন। এই শোকের মুহূর্তে শিল্প জগতের বহু নাম একত্রে রেইনারের স্মৃতিকে সম্মান জানাতে সমবেত হয়েছে।
রেইনারের পরিবারে এই ট্র্যাজেডি গভীর শোকে ডুবে রেখেছে। প্যাটিনকিনের মন্তব্যে তিনি রেইনার ও মিশেলের সঙ্গে সংযোগের অনুভূতি প্রকাশ করেন এবং বলেন, রেইনারের স্মৃতি কখনো ম্লান হবে না। তিনি যুক্তি দেন, রেইনারের গল্প শোনার সময় তিনি তার উপস্থিতি অনুভব করেন এবং রেইনারের অবদান কখনো ভুলে যাবে না।
সিবিএস নিউজের এই বিশেষ অনুষ্ঠানটি রোব রেইনারের জীবনের বিভিন্ন দিককে তুলে ধরেছে, তার চলচ্চিত্রের সাফল্য, তার মানবিক গুণাবলি এবং শিল্পী বন্ধুদের সঙ্গে তার সম্পর্ক। রেইনারের কাজের মাধ্যমে গড়ে ওঠা বন্ধুত্ব ও শিল্পের প্রতি তার অবদানকে স্মরণ করে এই অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।
রেইনারের মৃত্যুর পরপরই তার পরিবার ও বন্ধুদের শোকের সময়ে, সিবিএস নিউজের এই অনুষ্ঠানটি একটি স্মরণীয় স্মারক হিসেবে কাজ করেছে। রেইনারের চলচ্চিত্রের উত্তরাধিকার এবং তার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক মাইলফলক হিসেবে রয়ে যাবে।



