ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে রাত ৭ টার দিকে একটি অচেতন ২২ বছর বয়সী তরুণীকে সিএনজি চালিত অটো রিকশা দিয়ে এক অপরিচিত ব্যক্তি ফেলে চলে যায়। রিকশায় গৃহীত অবস্থায় নারীর শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ ছিল; তাকে তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। উপস্থিত চিকিৎসকগণ দ্রুত প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন।
জরুরি বিভাগে ওয়ার্ড মাস্টার মোহাম্মদ আইয়ুব আলী জানান, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে রিকশা চালক তরুণীকে গন্তব্যস্থলে না পৌঁছে সরাসরি হাসপাতালে সামনে ফেলে দেয়। পরে একটি ট্রলিম্যান ঘটনাটি জানিয়ে তাকে জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়। চিকিৎসকগণ শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মৃত ঘোষণা করেন।
মৃতদেহের গলায় থুতনির নিচে কালো দাগ পাওয়া গিয়েছে, যা থেকে অনুমান করা হচ্ছে গলায় কোনো বস্তু দিয়ে ফাঁস দিয়ে হত্যা করা হতে পারে। তবে সুনির্দিষ্ট কারণ জানার জন্য ময়নাতদন্তের ফলাফল অপেক্ষা করা হচ্ছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মোহাম্মদ ফারুক নিশ্চিত করেন, মৃতদেহটি মর্গে সংরক্ষিত হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
শাহবাগ থানার পুলিশও ঘটনাটি জানে এবং তদন্ত শুরু করেছে। তারা জানায়, রিকশা চালকের পরিচয় ও গন্তব্য সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি সিআইডি (অপরাধ তদন্ত বিভাগ) ক্রাইম-সিন টিমকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে মৃতদেহের নাম-পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
মৃতদেহের গলায় কালো দাগের ভিত্তিতে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করা হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে, তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত কারণ নির্ধারণ করা যাবে না। ময়নাতদন্তের ফলাফল পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও সম্ভাব্য অপরাধীর পরিচয় স্পষ্ট হবে।
পুলিশের মতে, রিকশা চালককে সিএনজি দিয়ে গন্তব্যে না পৌঁছে সরাসরি হাসপাতালের সামনে ফেলে যাওয়ার পদ্ধতি অপরাধের গুরুতর দিক নির্দেশ করে। তদন্তে রিকশা চালকের পরিচয়, রিকশার রেজিস্ট্রেশন নং, এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত সিআইসিটিভি ক্যামেরার রেকর্ড সংগ্রহ করা হচ্ছে।
অধিক তথ্যের জন্য শিকাগো পুলিশ ও সিআইডি টিমের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে ঘটনাস্থলে কোনো সন্দেহভাজন গ্রেফতার করা হয়নি; তবে রিকশা চালকের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক অভিযোগ আনা হতে পারে।
এই ঘটনার পর, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগী ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত গার্ড ও নজরদারি ব্যবস্থা চালু করবে।
সামাজিক মিডিয়ায় ঘটনাটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি ছাড়া কোনো অনুমান বা অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না। তদন্তের অগ্রগতি ও ময়নাতদন্তের ফলাফল জানার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো অতিরিক্ত তথ্য জানাবে।



