27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিমিয়ানমারে ২৮ ডিসেম্বর জাঁতা শাসনের অধীনে নির্বাচন, ভোটারদের হুঁশিয়ারি ও ভোট বাড়াতে...

মিয়ানমারে ২৮ ডিসেম্বর জাঁতা শাসনের অধীনে নির্বাচন, ভোটারদের হুঁশিয়ারি ও ভোট বাড়াতে নাচ-গান ব্যবহার

মিয়ানমার সরকার ২৮ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা করতে যাচ্ছে, যা সামরিক জাঁতা শাসনের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের দিন নিকটবর্তী হওয়ায় জাঁতা প্রধান মিন অং হ্লাইং ভোটারদের সতর্কতা জানিয়ে গেছেন যে ভোট না দেওয়া বা প্রত্যাখ্যান করা গণতন্ত্রের অগ্রগতিকে প্রত্যাখ্যানের সমতুল্য।

গত শনিবার মাগওয়েতে সামরিক কর্মকর্তা ও তাদের পরিবার সদস্যদের সমাবেশে মিন অং হ্লাইং সরাসরি জনগণকে লক্ষ্য করে বলেছেন, ভোটদান থেকে বিরত থাকা মানে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে অংশ না নেওয়া। তিনি এ কথাটি পুনরায় জোর দিয়ে বলেছিলেন যে গণতন্ত্রের ভিত্তি হল নাগরিকের সক্রিয় অংশগ্রহণ।

তবে দেশের সাধারণ জনগণ সামরিক শাসনের বৈধতা স্বীকার করতে অনিচ্ছুক এবং নির্বাচনকে ঘিরে ব্যাপক ভোটবর্জনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ভোটবর্জনের আহ্বান জানিয়ে পোস্টার ও সামাজিক মাধ্যমে প্রচার বাড়ছে, যা জাঁতা শাসনের জন্য একটি স্পষ্ট চ্যালেঞ্জ।

এদিকে নির্বাচন কমিশন ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে বিনোদন শিল্পের নায়কদের ব্যবহার শুরু করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে উত্তরাঞ্চলের শান রাজ্যের কিয়াউকমে এবং নওংঘকিয়ো শহরে জাঁতা সমর্থিত গায়ক-নর্তকীদের পাঠানো হয়েছে, যাতে তারা গান ও নাচের মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভোট দিতে উৎসাহিত করেন।

এই নায়কদের উপস্থিতি ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করার পাশাপাশি জাঁতা শাসনের ‘জনমত’ প্রদর্শনের একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। তারা স্থানীয় সংস্কৃতির সাথে মানিয়ে নিয়ে পারফরম্যান্স করে, যেখানে ভোটের গুরুত্বকে সৃজনশীলভাবে তুলে ধরা হয়।

মিন অং হ্লাইং এবং তার ডেপুটি সো উইন ইয়াঙ্গুনও ম্যান্ডালয়, মাগওয়ে এবং কাচিন রাজ্য পরিদর্শন করে প্রার্থীদের সমর্থন করার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা এমন প্রার্থীদের পক্ষে কথা বলেছেন, যারা সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করতে সক্ষম এবং দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সক্ষম।

মিয়ানমারের নির্বাচনী আইনে ভোটের কোনো ন্যূনতম হার নির্ধারিত না থাকলেও, জাঁতা শাসন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জনসমর্থন প্রদর্শনের জন্য এই নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করছে। তাই তারা মিডিয়া ও সাংস্কৃতিক ইভেন্টের মাধ্যমে ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

পূর্বে ২০২০ সালের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে নির্বাচিত বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করা হয়েছিল, যার ফলে প্রেসিডেন্ট ইউ উইন মিন্ট এবং স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি সহ বহু নেতা কারাগারে পাঠানো হয়। তাদের বেশিরভাগই এখনও কারাবন্দি অবস্থায় রয়েছেন, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলেছে।

সামরিক শাসন দেশের বিশাল অংশের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলায় এখন তিন ধাপে নির্বাচন পরিচালনার পরিকল্পনা তৈরি করেছে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম ধাপে নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলোতে ভোট নেওয়া হবে, পরবর্তী ধাপে অবশিষ্ট অঞ্চলগুলোকে ধীরে ধীরে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

পশ্চিমা দেশ ও জাতিসংঘের বেশিরভাগ সংস্থা এই নির্বাচনকে স্বাধীন ও ন্যায্য নয় বলে প্রত্যাখ্যান করেছে, তবে চীন, রাশিয়া এবং ভারতের মতো দেশগুলো জাঁতা শাসনের সঙ্গে কূটনৈতিক সমর্থন বজায় রেখেছে। আন্তর্জাতিক সমর্থনকে ভিত্তি করে জাঁতা সরকার এই নির্বাচনের মাধ্যমে মিন অং হ্লাইংকে পুনরায় প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় বসানোর লক্ষ্য রাখছে।

নির্বাচনের ফলাফল যদি জাঁতা শাসনের পক্ষে যায়, তবে দেশের অভ্যন্তরীণ বিরোধ কমে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার অবস্থান শক্তিশালী হতে পারে। অন্যদিকে, ব্যাপক ভোটবর্জন ও আন্তর্জাতিক সমালোচনা শাসনের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করে, যা ভবিষ্যতে আরও রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাতের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments