সঙ্গীত জগতের বিশিষ্ট গায়ক‑গীতিকার বারি ম্যানিলো, ৮২ বছর বয়সে বাম ফুসফুসে একটি ক্যান্সার‑সদৃশ দাগের অপসারণের জন্য শল্যচিকিৎসা গ্রহণের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। তিনি সাম্প্রতিক ছয় সপ্তাহের ব্রঙ্কাইটিস এবং অতিরিক্ত পাঁচ সপ্তাহের পুনরাবৃত্তি রোগের পরই একটি এমআরআই করিয়ে তাছাড়া রোগের প্রাথমিক সনাক্তকরণে সাফল্য পেয়েছেন।
ব্রঙ্কাইটিসের উপসর্গ থেকে সেরে ওঠার পর, লাস ভেগাসের ওয়েস্টগেট থিয়েটারে পারফর্ম করার সময় তার চিকিৎসক অতিরিক্ত নিরাপত্তার জন্য এমআরআই করিয়ে দেখেছেন যে ফুসফুসে একটি অস্বাভাবিক দাগ রয়েছে। পরীক্ষায় দেখা যায়, দাগটি ক্যান্সার‑সদৃশ এবং তা সরিয়ে ফেলতে হবে, তবে ডাক্তাররা নিশ্চিত যে এটি এখনও অন্য কোনো অংশে ছড়ায়নি।
ডাক্তারদের মতে, দাগটি প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়েছে, ফলে কেমোথেরাপি বা রেডিয়েশন থেরাপি প্রয়োজন হবে না। ম্যানিলো এই তথ্যকে “শুদ্ধ ভাগ্য” এবং “দক্ষ ডাক্তার” এর কৃতিত্বে স্বীকার করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে রোগের দ্রুত সনাক্তকরণই তার পুনরুদ্ধারের মূল চাবিকাঠি।
ইনস্টাগ্রাম পোস্টে তিনি জানান, ব্রঙ্কাইটিসের দীর্ঘমেয়াদী অশান্তি কাটিয়ে উঠে আবার স্টেজে ফিরে আসার পরই এই জরুরি পরীক্ষা করা হয়। ফলস্বরূপ, বাম ফুসফুসে একটি ক্যান্সার‑সদৃশ দাগ পাওয়া যায়, যা শল্যচিকিৎসার মাধ্যমে অপসারণ করা হবে। তিনি এই বিষয়টি “শুধু ভাগ্যই নয়, চমৎকার চিকিৎসকের কৃতিত্বও” বলে উল্লেখ করেন।
শল্যচিকিৎসা সম্পন্ন হওয়ার পর, তিনি কোনো কেমোথেরাপি বা রেডিয়েশন থেরাপি গ্রহণ করবেন না; তার পুনরুদ্ধার পরিকল্পনায় মূলত বিশ্রাম, চিকেন স্যুপ এবং আই লাভ লুসি সিরিজের পুনরায় দেখা অন্তর্ভুক্ত। ডাক্তারদের অনুমান অনুযায়ী, পুরো শারীরিক পুনরুদ্ধার প্রায় এক মাস সময় নিতে পারে।
এই সময়সীমা বিবেচনা করে, জানুয়ারিতে নির্ধারিত তার আরেনা কনসার্টগুলোকে পুনরায় নির্ধারিত করা হয়েছে। ম্যানিলো উল্লেখ করেছেন যে তিনি নতুন তারিখের জন্য অপেক্ষা করছেন এবং দ্রুত স্টেজে ফিরে আসার জন্য দিন গুনে গুনে অপেক্ষা করছেন।
জনস্বাস্থ্যের প্রতি তার দায়িত্ববোধও প্রকাশ পেয়েছে; তিনি জনগণকে সতর্ক করেছেন যে কোনো ক্ষুদ্র উপসর্গের ক্ষেত্রেও দ্রুত পরীক্ষা করানো উচিত। তার মতে, সময়মতো সনাক্তকরণ রোগের অগ্রগতি রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বারি ম্যানিলো এই রোগের সঙ্গে লড়াই করার সময়ও তার সঙ্গীতের প্রতি অটুট উত্সাহ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, শল্যচিকিৎসার পর পুনরায় মঞ্চে ওঠার দিন গুনে গুনে অপেক্ষা করছেন এবং তার ভক্তদের সঙ্গে আবার সুর ভাগাভাগি করার জন্য উদগ্রীব।
এই সংবাদটি তার ভক্ত ও সঙ্গীতপ্রেমীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহের পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।



