CBS নিউজের প্রধান সম্পাদক এক সিদ্ধান্তের পর 60 Minutes‑এর একটি প্রতিবেদন যুক্তরাষ্ট্রে বাতিল করা হলেও, কানাডার টেলিভিশন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সম্পূর্ণ এপিসোড সম্প্রচারিত হয়ে এখন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে দেখা যাচ্ছে। এই প্রতিবেদনটি ভেনেজুয়েলীয় শরণার্থীদের এল স্যালভাদোরের CECOT কারাগারে পাঠানোর পর তাদের অভিজ্ঞ কষ্টের ওপর আলোকপাত করেছিল।
প্রতিবেদনটি শারিন আলফোনসি প্রধান প্রতিবেদক এবং ওরিয়ানা জিল ডি গ্রানাডোস প্রযোজকের নেতৃত্বে তৈরি হয়। তারা ভেনেজুয়েলীয় শরণার্থীদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে কারাগারের ভয়াবহ অবস্থার ছবি তুলে ধরেছিলেন, যেখানে শরণার্থীরা ট্রমাটিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন।
CBS নিউজের সম্পাদক-ইন-চিফের মতে, এই গল্পটি এখনও সম্পূর্ণ প্রস্তুত নয় বলে এটি বাতিল করা হয়। তিনি উল্লেখ করেন যে, একই বিষয়ের উপর পূর্বে অন্যান্য মিডিয়া সংস্থা ব্যাপকভাবে রিপোর্ট করেছে এবং জনসাধারণ ইতিমধ্যে এই কারাগারের কষ্টকর বাস্তবতা সম্পর্কে সচেতন। তাই অতিরিক্ত প্রমাণ এবং প্রধান দায়িত্বশীলদের সরাসরি সাক্ষাৎকারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
সম্পাদকের সিদ্ধান্তে তিনি দর্শকের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন এবং জানান যে, কোনো সময়সূচি বা শিডিউল দর্শকের চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ। তিনি এই নীতিকে তার “উত্তর দিকের নক্ষত্র” হিসেবে উল্লেখ করেন এবং একই দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করার আহ্বান জানান।
এই সিদ্ধান্তের সময় সপ্তাহের শো তালিকা ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়ে গিয়েছিল, ফলে পরিবর্তনের জন্য যথেষ্ট সময় ছিল না। তাই যুক্তরাষ্ট্রে পরিকল্পিত সম্প্রচার বাতিলের পরেও, কানাডার অংশীদার নেটওয়ার্কের কাছে ইতিমধ্যে এপিসোড পাঠানো হয়ে গিয়েছিল।
কানাডার গ্লোবাল টিভি এই সম্পূর্ণ এপিসোডটি, যার মধ্যে শেষ মুহূর্তে বাদ দেওয়া “ইনসাইড CECOT” সেগমেন্টও অন্তর্ভুক্ত, তার স্ট্রিমিং সেবার মাধ্যমে সোমবার সন্ধ্যায় প্রকাশ করে। এই প্রকাশের ফলে ভেনেজুয়েলীয় শরণার্থীদের কষ্টের দৃশ্য এবং সাক্ষাৎকারগুলো সরাসরি দর্শকদের কাছে পৌঁছায়।
প্রচারিত হওয়ার পর, এই সেগমেন্টটি টুইটার (X) এবং ইউটিউবের মতো সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবহারকারীরা ক্লিপগুলো শেয়ার করে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে, যা মূলত যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ হওয়া কন্টেন্টের অনলাইন উপস্থিতি বাড়িয়ে দেয়।
এই ঘটনা মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের সীমা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রচারের প্রভাব নিয়ে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রে গল্পটি বাতিল করা হয়েছিল, তবু কানাডার মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় তথ্যের প্রবাহ অব্যাহত থাকে এবং জনসাধারণের কাছে গুরুত্বপূর্ণ মানবাধিকার বিষয়টি পৌঁছায়।
অবশেষে, যারা এই প্রতিবেদনটি দেখতে চান, তারা গ্লোবাল টিভির স্ট্রিমিং সেবা অথবা অনলাইন ভিডিও শেয়ারিং সাইটে সহজেই অ্যাক্সেস করতে পারবেন। একই সময়ে CBS নিউজ তার যুক্তরাষ্ট্রের দর্শকদের জন্য এই বিষয়টি পুনরায় প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত বজায় রেখেছে, যা মিডিয়া সম্পাদনা ও প্রকাশের জটিলতা তুলে ধরে।



