গত সোমবার ঢাকা ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে একটি সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস.এন. মো. নজরুল ইসলাম প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে ঘটিত হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের সময় কেন পুলিশ সরাসরি হস্তক্ষেপ করেনি তা ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, ঐ দিন ঘটনার স্থানে প্রায় চার থেকে পাঁচ হাজার জনের সমাবেশ ছিল; যদি মাত্রা শূন্যে ৫০‑১০০ জন পুলিশ পাঠানো হতো, তবে গুলিবর্ষণ ও পাল্টা আক্রমণের ঝুঁকি বাড়ত, ফলে দুই‑চারজনের মৃত্যু ঘটতে পারত।
অধিকাংশ সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জোর দিয়ে বলেন, পুলিশ সর্বদা সক্ষম, তবে সব ঘটনা একসাথে সামলানো বাস্তবিকভাবে সম্ভব নয়। “যতটুকু প্রয়োজন মনে করেছি, আমাদের অবস্থা অনুযায়ী কাজ করেছি” তিনি বলেন, এবং উল্লেখ করেন যে সর্বোচ্চ গুলিবর্ষণ পর্যন্ত যাওয়া সম্ভব হলেও তা এড়িয়ে চলা হয়েছিল।
অভিযুক্ত স্থানে গ্যাস বা সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার না করার কারণও তিনি স্পষ্ট করেন। পরিস্থিতি এমন ছিল যে গ্যাস বা গ্রেনেড ব্যবহার করলে জনসাধারণের নিরাপত্তা আরও ঝুঁকিতে পড়ত, তাই ঐ সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়নি। ভবিষ্যতে যদি একই রকম ঘটনা পাঁচ‑দশ হাজার মানুষের সমাবেশে ঘটে, তবে অগ্রিম তথ্য পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
হামলার আগে ফেসবুকে কিছু পরিচিত ব্যক্তিরা “যাও, ভেঙে আনো, আগুন দিয়ে আসো” ধরনের উস্কানিমূলক পোস্ট করছিলেন। এ ধরনের মিথ্যা তথ্যের বিস্তার রোধে তিনি মিডিয়াকে আহ্বান জানান, যাতে তারা সক্রিয়ভাবে কাউন্টার‑প্রচার চালিয়ে জনগণকে সচেতন করা যায়।
আইনি দিক থেকে, প্রথম আলো অফিসে ঘটিত সন্ত্রাস বিরোধী আইনের অধীনে মামলায় মোট ৩১ জন সন্দেহভাজন শনাক্ত হয়। তাদের মধ্যে ১৭ জনকে আদালত জেল পাঠিয়েছে, আর বাকি ১৪ জনের জন্য বিচার প্রক্রিয়া চলমান। গতকাল সোমবার ১৫ জন সন্দেহভাজনকে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়, যেখানে তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, পুলিশ কর্তৃপক্ষের বিবৃতি থেকে স্পষ্ট যে, বড় জনসমাগমের সময় গুলিবর্ষণ বা কঠোর পদক্ষেপের বদলে জননিরাপত্তা রক্ষার জন্য সীমিত হস্তক্ষেপ বেছে নেওয়া হয়। তবে একই সঙ্গে তারা ভবিষ্যতে অগ্রিম তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যাতে অনুরূপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়।
এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের নিরাপত্তা ও আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আদালতের রায় ও পুলিশি তদন্তের ফলাফল পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত হবে।



