সতর্কতা: এই প্রতিবেদনে যৌন সহিংসতার বর্ণনা রয়েছে।
১৯ বছর বয়সে লন্ডনের একটি রাতের পার্টি শেষে, জেনি ইভান্স নামের এক তরুণীকে একটি পরিচিতি না থাকা সেলিব্রিটি এবং তার সঙ্গীর দ্বারা যৌন আক্রমণ করা হয়। ঘটনাটি ১৯৯৭ সালে ঘটেছে, যখন ইভান্স টুইন টাউন ছবির শুটিংয়ের পর ক্রুদের সঙ্গে লন্ডনে ছিলেন। রাতের শেষে, তিনি ট্যাক্সি ডাকার জন্য ফোন ধার নিতে চেয়েছিলেন, তবে সেলিব্রিটি এবং তার বন্ধু তা অস্বীকার করে এবং শারীরিকভাবে তাকে ধাক্কা দিয়ে তার ভারসাম্য নষ্ট করে। এরপর দুজনেই তার ওপর আক্রমণ করে, যা ইভান্সের মতে যৌন নির্যাতন হিসেবে চিহ্নিত।
আক্রমণের পর, সেলিব্রিটির বন্ধু ট্যাক্সি ডাকার ব্যবস্থা করে। ট্যাক্সি চালক কেন নামের ব্যক্তি ইভান্সকে বারবার জানিয়ে দেন যে তিনি সম্ভবত ধর্ষণ হয়েছেন এবং তাকে পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যেতে চান। তবে ইভান্স শক ও ভয়ের কারণে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেননি এবং মৌন রয়ে যান।
পরবর্তীতে, ইভান্স তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু, ভাই এবং মায়ের সঙ্গে ঘটনাটি শেয়ার করেন, তবে তৎকালীন সময়ে তিনি কোনো আইনি পদক্ষেপ নেননি। তার জীবনে অন্ধকারের ছায়া ছড়িয়ে পড়ে, যা তার ভাইয়ের অকাল মৃত্যুর পর আরও তীব্র হয়। ইভান্সের ভাই ২৪ বছর বয়সে মারা যান, যখন ইভান্স ২৩ বছর বয়সী ছিলেন। এই শোকের পরই তিনি নিজের জীবন পুনর্গঠন করার সিদ্ধান্ত নেন।
ইভান্স সেন্ট্রাল স্কুল অফ স্পিচ অ্যান্ড ড্রামা-তে ভর্তি হন এবং পরে সাংবাদিকতার পথে পা বাড়ান। তিনি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে প্রাপ্ত কষ্টকে শক্তিতে রূপান্তর করে, মিডিয়ার অস্বচ্ছতা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করার লক্ষ্য স্থির করেন। তার অনুসন্ধান শেষমেশ প্রকাশ পায় যখন তার বিরুদ্ধে গৃহীত পুলিশ রিপোর্ট ট্যাবলয়েডে প্রকাশিত হয়, যা গোপনীয় তথ্যের লিক হিসেবে চিহ্নিত হয়।
প্রকাশের পর, যুক্তরাজ্যের প্রেস ও পুলিশ সংস্থার মধ্যে ব্যাপক দুর্নীতি স্ক্যান্ডাল উন্মোচিত হয়। কয়েকটি প্রধান মিডিয়া হাউস এবং পুলিশ বিভাগকে এই লিকের সঙ্গে যুক্ত করা হয়, যা তাদের ওপর তদন্তের দিক নির্দেশ করে। বর্তমানে, সংশ্লিষ্ট ট্যাবলয়েডের বিরুদ্ধে তথ্য ফাঁসের অভিযোগে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং পুলিশ রিপোর্টের গোপনীয়তা রক্ষা না করার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আইনি দিক থেকে, ঘটনাটির তদন্ত এখনো চলমান। পুলিশ কর্তৃপক্ষের মতে, রিপোর্টে উল্লেখিত তথ্যের লিকের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট মিডিয়া সংস্থার ওপর কঠোর শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে, ইভান্সের অভিযোগের ভিত্তিতে একটি পৃথক যৌন নির্যাতন মামলাও তদন্তাধীন রয়েছে, যদিও তিনি প্রাথমিকভাবে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেননি।
এই ঘটনায় ইভান্সের মুখোমুখি হওয়া মানসিক আঘাতের জন্য তিনি মানসিক স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করছেন এবং তার পুনর্বাসনের প্রক্রিয়ায় সহায়তা পাচ্ছেন। তিনি মিডিয়ার মাধ্যমে নিজের কণ্ঠস্বর তুলে ধরতে এবং অন্য নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে সচেষ্ট।
প্রকাশিত ট্যাবলয়েডের রিপোর্টে ইভান্সের নাম ও তার অভিযোগের মূল বিষয়বস্তু প্রকাশিত হওয়ায়, তার গোপনীয়তা লঙ্ঘিত হয়েছে বলে তিনি আইনি পদক্ষেপের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তার দাবি অনুযায়ী, গোপনীয় তথ্যের প্রকাশ তার মানসিক স্বাস্থ্যের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে।
ব্রিটিশ মিডিয়া নিয়ন্ত্রক সংস্থা এই লিকের পর্যালোচনা শুরু করেছে এবং গোপনীয়তা রক্ষার জন্য নতুন নীতি প্রণয়নের কথা বিবেচনা করছে। একই সঙ্গে, পুলিশ সংস্থার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়নও চলছে, যাতে ভবিষ্যতে এধরনের লিক রোধ করা যায়।
ইভান্সের কেসটি যুক্তরাজ্যের মিডিয়া ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে গোপনীয়তা, নৈতিকতা এবং দায়িত্বের প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। তার অভিজ্ঞতা থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এই বিষয়টি নিয়ে চলমান তদন্তের ফলাফল এবং আদালতের রায়ের অপেক্ষা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং গোপনীয়তা রক্ষার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।



