ঢাকায় লে মেরিডিয়েন হোটেলে শনিবার অনুষ্ঠিত ১৭তম সেরা ব্র্যান্ড পুরস্কার অনুষ্ঠানে ওয়ালটন গ্রুপের ফ্রিজ, এয়ার কন্ডিশনার এবং টেলিভিশন বিভাগে ২০২৫ সালের সেরা ব্র্যান্ড শিরোপা প্রদান করা হয়। এই স্বীকৃতি দেশের সর্বব্যাপী ভোক্তা সমীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছে, যা বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম ও তার অংশীদার সংস্থার সমন্বয়ে পরিচালিত হয়।
পুরস্কার গ্রহণের দায়িত্বে ছিলেন ওয়ালটনের বিভিন্ন শীর্ষ কর্মকর্তা। এয়ার কন্ডিশনার বিভাগে চিফ বিজনেস অফিসার মো. তানভীর রহমান, ফ্রিজ বিভাগে চিফ বিজনেস অফিসার তাহাসিনুল হক, হাই‑টেক বিভাগে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মো. শাহজালাল হোসেন লিমন ও তানভীর আনজুম, এবং চিফ মার্কেট অফিসার জোহেব আহমেদ প্রত্যেক বিভাগে শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডের মর্যাদা তুলে ধরেছেন।
জোহেব আহমেদ গ্রাহক, ডিলার ও সকল স্টেকহোল্ডারকে ধন্যবাদ জানিয়ে উল্লেখ করেন, এই স্বীকৃতি ওয়ালটনের ফ্রিজ, এসি ও টিভি বাজারে শীর্ষস্থান বজায় রাখার প্রমাণ। তিনি বলেন, ওয়ালটন বাংলাদেশের উৎপাদন খাতকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও ইন্টারনেট অফ থিংস (IoT) ভিত্তিক স্মার্ট পণ্য দিয়ে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে কাজ করছে, যা কোম্পানিকে বৈশ্বিক ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ডের শীর্ষে নিয়ে যাবে।
এই দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবায়নের জন্য ওয়ালটন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্মার্ট ফ্রিজ, এয়ার কন্ডিশনার, টেলিভিশন এবং অন্যান্য গৃহস্থালী যন্ত্রে AI ও IoT প্রযুক্তি সংযোজন করেছে। উদাহরণস্বরূপ, রিমোট মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, শক্তি সাশ্রয়ের স্বয়ংক্রিয় মোড এবং ভয়েস কমান্ড ফিচার এখন ওয়ালটনের পণ্যে অন্তর্ভুক্ত। এসব উদ্ভাবন গ্রাহকের ব্যবহারিক সুবিধা বাড়িয়ে তুলেছে এবং ব্র্যান্ডের পার্থক্যকরণে সহায়তা করেছে।
বহিরাগত বাজারে ওয়ালটনের পদচিহ্ন ইতিমধ্যে ৫০টিরও বেশি দেশের মধ্যে বিস্তৃত। রপ্তানি বৃদ্ধির ফলে কোম্পানির আয় ও মুনাফা উভয়ই উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে, যা দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে সহায়ক। সেরা ব্র্যান্ড পুরস্কার আন্তর্জাতিক বাজারে ওয়ালটনের বিশ্বাসযোগ্যতা আরও দৃঢ় করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
পুরস্কার নির্বাচনের পদ্ধতি হিসেবে ‘Winning Brands’ সমীক্ষা ব্যবহৃত হয়েছে, যেখানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ভোক্তাদের মতামত সংগ্রহ করা হয়। এই পদ্ধতি বৈশ্বিক স্বীকৃত এবং ব্র্যান্ডের বাজার শেয়ার, গ্রাহক সন্তুষ্টি ও পুনরায় ক্রয় সম্ভাবনা ইত্যাদি সূচক বিবেচনা করে। এই বছর মোট ৪৫টি ব্র্যান্ডকে ৪৫টি বিভাগে সম্মানিত করা হয়েছে, যা দেশের ব্যবসায়িক পরিবেশের বৈচিত্র্য ও প্রতিযোগিতার মাত্রা প্রকাশ করে।
ওয়ালটনের এই সাফল্য স্থানীয় বাজারে প্রতিযোগিতামূলক চাপ বাড়াতে পারে। অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স নির্মাতারা নতুন পণ্য লঞ্চ ও প্রযুক্তি উন্নয়নে ত্বরান্বিত হতে পারে, ফলে গ্রাহকের কাছে আরও বেশি বিকল্প উপস্থিত হবে। তবে দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ও বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের অস্থিরতা কোম্পানির জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই ওয়ালটনের জন্য ধারাবাহিক গবেষণা ও উন্নয়ন, পাশাপাশি সরবরাহকারী নেটওয়ার্কের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
সারসংক্ষেপে, ওয়ালটনের ফ্রিজ, এসি ও টিভি বিভাগে সেরা ব্র্যান্ড পুরস্কার অর্জন তার বাজার নেতৃত্বকে পুনরায় নিশ্চিত করেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণের জন্য শক্তিশালী ভিত্তি স্থাপন করেছে। ভবিষ্যতে AI ও IoT সংযুক্ত পণ্যের পরিসর বাড়িয়ে গ্রাহকের চাহিদা পূরণ করা এবং রপ্তানি বাজারে শেয়ার বাড়ানো কোম্পানির মূল কৌশল হিসেবে রয়ে যাবে।



