নরায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের দড়ি সোনাকান্দা এলাকায় ১৩ বছর বয়সী এক মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার পর সোমবার সকালে তার মৃতদেহ প্রতিবেশীর বাড়ির সামনে পাওয়া যায়। মেয়ে সন্ধ্যা প্রায় চারটায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় এবং সন্ধ্যা শেষ পর্যন্ত কোনো চিহ্ন দেখা যায় না।
মা গরম ভাতের অপেক্ষায় ছিলেন। দুপুরের ভাত এখনও চুলায় থাকায় তিনি কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলার জন্য প্লাস্টিকের ব্যাগে ভাত পাঠিয়ে প্রতিবেশীর বাড়িতে রেখে দেন। ভাত না পৌঁছানোর পর মা গরম ভাত নিয়ে ফিরে আসার অপেক্ষা করছিলেন, কিন্তু শিশুটি ফিরে আসেনি।
রবিবার বিকেল প্রায় চারটায় মেয়েটি বাড়ির সামনে থেকে অদৃশ্য হয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত মা ও বাবা দুজনেই তাকে খুঁজে পেতে ব্যর্থ হন। সন্ধ্যা শেষে পর্যন্ত ঘরে কোনো চিহ্ন না থাকায় তারা আশেপাশের লোকজনের সহায়তায় সন্ধ্যা ৩:৩০ পর্যন্ত অনুসন্ধান চালিয়ে যান, তবু শিশুটি পাওয়া যায় না।
সকালবেলা পুলিশ প্রতিবেশীর বাড়ির দরজার সামনে মেয়ের দেহ উদ্ধার করে। দেহের পাশে একই স্থানে প্লাস্টিকের ব্যাগও পাওয়া যায়, যা মা ভাত পাঠাতে ব্যবহার করেছিলেন। দেহটি তৎক্ষণাত নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।
শিশুটির পরিবার দড়ি সোনাকান্দা এলাকার ২০ নম্বর ওয়ার্ডে ভাড়া বাড়িতে বসবাস করে। মা গৃহকর্মী, বাবা রিকশা চালক; মূল বাড়ি মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলায়। পরিবার প্রায় দশ বছর ধরে এই এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে এবং তাদের আট বছর বয়সের আরেকটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
বাবা জানান, বিকালে গাড়ি গ্যারেজে রেখে বাড়িতে ফিরে আসার পর মেয়ের নিখোঁজ হওয়া জানেন। রাত তিনটায় পর্যন্ত ঘর ও আশেপাশে খোঁজাখুঁজি চালিয়ে গিয়ে শেষ পর্যন্ত কোনো সূত্র পাননি।
স্থানীয় দুইটি মসজিদে মাইকিং করে মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার খবর জানানো হয় এবং সম্প্রদায়ের সহায়তা চাওয়া হয়।
বন্দর থানার ওসি গোলাম মুক্তার আশরাফ জানান, স্থানীয় তথ্যসূত্রের মাধ্যমে দেহটি সন্ধ্যা সময়ে উদ্ধার করা হয়। দেহটি ফরেনসিক বিশ্লেষণের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে মুখমণ্ডল ও গলায় আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়, যা যৌন নির্যাতনের ইঙ্গিত দিতে পারে।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম উল্লেখ করেন, গালে ও গলায় পাওয়া আঘাতগুলো মানুষের নখের মতো দেখাচ্ছে। এছাড়া, শিশুটি ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে কিনা তা নির্ধারণের জন্য অতিরিক্ত আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। পূর্ণ ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
শিশুর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর, চিকিৎসা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে আঘাতের ধরন এবং অবস্থান অনুসারে যৌন নির্যাতনের সম্ভাবনা রয়েছে, তবে নিশ্চিত ফলাফল ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টে নির্ভর করবে।
শিশুর মৃত্যুর খবর পেয়ে দড়ি সোনাকান্দা এলাকার প্রতিবেশীরা শোক প্রকাশ করে। অনেকেই মেয়ের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন।



