19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকদিল্লি ও আগরতলায় বাংলাদেশ দূতাবাসের কনসুলার ও ভিসা সেবা স্থগিত

দিল্লি ও আগরতলায় বাংলাদেশ দূতাবাসের কনসুলার ও ভিসা সেবা স্থগিত

বাংলাদেশের নিউ দিল্লি হাইকমিশন এবং আগরতলা সহায়ক হাইকমিশন নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে সকল কনসুলার ও ভিসা সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে। এই সিদ্ধান্তটি দুই মিশনের সামনে পোস্ট করা নোটিশে জানানো হয়েছে, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির কারণে সেবা পুনরায় শুরু না হওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে এবং অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।

দিল্লিতে হাইকমিশনের চারপাশে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে, কারণ হিন্দু ধর্মীয় সংস্থা বিশ্বহিন্দু পরিষদ (VHP) ও বজ্রং দালের কর্মীরা বাংলাদেশে হিন্দু যুবকের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে পরিকল্পিত প্রতিবাদে অংশ নিতে চেয়েছিলেন। পুলিশ ও পারামিলিটারি বাহিনীর নিয়মিত টহল এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে, যা কূটনৈতিক অঞ্চলকে সুরক্ষিত রাখতে সহায়তা করছে।

কলকাতায় শিলিগুড়িতে অবস্থিত ভিসা আবেদন কেন্দ্রটি, যা বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন কর্তৃক নিযুক্ত তৃতীয় পক্ষ পরিচালনা করে, প্রতিবাদকারীদের দ্বারা জোরপূর্বক বন্ধ করা হয়েছে। কেন্দ্রের কর্মীরা নিরাপত্তা হুমকির মুখে কাজ বন্ধ করে স্থান ত্যাগ করে, ফলে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া বর্তমানে স্থবির রয়েছে।

একই সময়ে, কলকাতার বিভিন্ন গোষ্ঠী বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের সামনে প্রতিবাদে সমবেত হয়, যেখানে তারা বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ এবং বিশেষ করে ময়মনসিংহে গার্মেন্টস কর্মী দীপু চন্দ্র দাসের হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করে। দীপু, ২৫ বছর বয়সী, ১৮ ডিসেম্বর ধর্মীয় সংবেদনশীলতা আঘাতের অভিযোগে ভিড়ের হাতে মারধর করে নিহত হন।

আগরতলায় স্থানীয় মিডিয়া লোকমাট টাইমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সানাতনী হিন্দু সেনা ও ত্রিপুরার টিপ্রা মোথা পার্টির যুব শাখা, যা কেন্দ্রীয় সরকারের মিত্র, হাইকমিশনের সামনে পৃথক প্রতিবাদ পরিচালনা করে। উভয় গোষ্ঠীই বাংলাদেশ সরকারের নীতি ও কর্মকাণ্ডকে সমালোচনা করে, বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে।

টিপ্রা পার্টি ফেডারেশনের যুব সভাপতি সুরজ দেববর্মা উল্লেখ করেন যে, জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা হসনাত আবদুল্লাহ এবং বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের অন্যান্য নেতারা ভারতবিরোধী মন্তব্য করে দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলছেন। এই মন্তব্যগুলোকে তিনি দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকারক বলে উল্লেখ করেন।

কলকাতার কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানান যে শিলিগুড়ির ভিসা কেন্দ্রটি তৃতীয় পক্ষের দ্বারা পরিচালিত, তবে কিছু প্রতিবাদকারী কেন্দ্রের ভিতরে প্রবেশ করে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপের পরই কেন্দ্রটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হয়।

কনসুলার ও ভিসা সেবার বন্ধের ফলে বাংলাদেশি নাগরিক ও ভারতীয় আবেদনকারীদের ভ্রমণ ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ব্যাহত হতে পারে। দু’দেশের কূটনৈতিক সংলাপের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে, যাতে নিরাপত্তা উদ্বেগ দূর করে সেবা পুনরায় চালু করা যায়।

বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করেন যে, এই ধরনের নিরাপত্তা সংক্রান্ত পদক্ষেপ কূটনৈতিক সম্পর্কের সূক্ষ্ম ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে এবং ভবিষ্যতে উভয় দেশের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজা হবে।

অবিলম্বে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নতুন নির্দেশনা পাওয়া মাত্রই সেবা পুনরায় চালু করার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমান অবস্থায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষা করা প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে রয়ে গেছে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments