প্রিমিয়ার লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে, ফুলহ্যাম নটিংহাম ফরেস্টকে পরাজিত করে তিন পয়েন্টের সুবিধা অর্জন করেছে। রাউল জিমেনেজের পেনাল্টি গোলই একমাত্র স্কোর হয়ে দলকে নিরাপদ অবস্থানে নিয়ে এসেছে, যা তাদের নিচের তিনটি দলে থেকে দশ পয়েন্টের ব্যবধান তৈরি করেছে।
ফুলহ্যামের কোচ মারকো সিলভা দলের বিকল্প সীমিত হওয়ায় অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হয়েছেন। আফ্রিকা কাপের কারণে ক্যালভিন বাসে, আলেক্স ইওবি ও স্যামুয়েল চুকুয়েজের অনুপস্থিতি দলকে আরও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে, তবু তারা রক্ষণশীল খেলায় অগ্রসর হয়েছে।
ম্যাচটি শুরু থেকেই উভয় দলে শারীরিকতা ও থেমে থেমে খেলা দেখা যায়। উভয় দিকই শেষ ত্রৈমাসিকে আক্রমণাত্মক সুযোগ তৈরি করতে পারলেও, গোলের সুযোগ কম থাকায় ম্যাচটি শূন্য-শূন্যে শেষ হতে পারত। শেষ পর্যন্ত ডগলাস লুইজের হেডের ভুলের ফলে পেনাল্টি দেওয়া হয়, যা জিমেনেজ সফলভাবে সম্পন্ন করেন।
ফুলহ্যাম দ্বিতীয়ার্ধে শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণাবেক্ষণ বজায় রাখে, ফলে ফরেস্টের মাঝখানের সৃজনশীলতা সীমিত থাকে। সীন ডাইচের দল উল্লেখযোগ্য সুযোগ তৈরি করতে পারে না এবং পেনাল্টি সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে। ফরেস্টের পাঁচ পয়েন্টের লিড বজায় রাখতে পারার সুযোগ হারায়।
প্রারম্ভিক পর্যায়ে ফুলহ্যাম দ্রুত আক্রমণ করার চেষ্টা করে। কেভিন বাম দিক থেকে দৌড়ে গিয়ে বিপজ্জনক ক্রস দেন, তবে ফরেস্ট তা প্রতিহত করে। মাঝখানে ইলিয়ট অ্যান্ডারসনের সক্রিয় উপস্থিতি দলকে সমর্থন করে, ফলে দু’দলই মাঝখানে তীব্র লড়াই করে।
ফরেস্টের ইগর জেসুসেরও শুরুর দিকে সুযোগ থাকে। মর্গান গিবস-হোয়াইট ও নেকো উইলিয়ামসের সমন্বিত পাসের পরে তিনি কাছাকাছি থেকে শট দেন, তবে তা গোলের বাইরে যায়। একই সময়ে অ্যান্টনি রবিনসনের ভুলের ফলে জিমেনেজের জন্য একটি সুযোগ তৈরি হয়, তবে তা শেষ পর্যন্ত গোল না হয়ে শেষ হয়।
ফুলহ্যাম উচ্চপ্রেসে অস্বস্তি বোধ করে, বিশেষ করে যখন ফরেস্টের খেলোয়াড়রা দ্রুত বল পুনরুদ্ধার করে। তবে দলের ছোট স্কোয়াডের কারণে তারা দ্রুত পরিবর্তন করতে সক্ষম হয় না, যা ম্যাচের গতি ধীর করে দেয়।
ম্যাচের মাঝখানে কেভিনের মাথায় নিজেরই খেলোয়াড়ের কিকের ফলে আঘাত লাগে এবং তাকে দীর্ঘ সময়ের চিকিৎসা নিতে হয়। যদিও তিনি মাঠে ফিরে আসতে পারেননি, তবু দলের কাঠামো বজায় থাকে।
ফুলহ্যামের রক্ষণাবেক্ষণমূলক কৌশল এবং জিমেনেজের পেনাল্টি গোলই শেষ ফলাফল নির্ধারণ করে। এই জয় দলকে নিচের তিনটি দলে থেকে দূরে রাখে এবং পরের সপ্তাহে ওয়েস্ট হ্যামের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি দেয়।
ফরেস্টের কোচ ডাইচের দল এখন ১৮তম স্থানে রয়েছে, যেখানে ওয়েস্ট হ্যাম ১৯তম। পয়েন্টের পার্থক্য পাঁচ, তবে এই পরাজয় তাদের লিড বাড়ানোর সুযোগ হারিয়ে দেয়।
পরবর্তী ম্যাচে, ফুলহ্যাম শনিবার ওয়েস্ট হ্যামের বিরুদ্ধে খেলবে, যেখানে তারা পুনরায় পয়েন্ট সংগ্রহের লক্ষ্য রাখবে। অন্যদিকে, নটিংহাম ফরেস্টের পরবর্তী প্রতিপক্ষ হবে লিভারপুল, যা তাদের পুনরুদ্ধারের শেষ সুযোগ হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, ম্যাচটি শারীরিকতা ও রক্ষণশীলতার মিশ্রণে গঠিত ছিল, যেখানে রাউল জিমেনেজের পেনাল্টি গোলই একমাত্র স্কোর হয়ে দলকে নিরাপদ অবস্থানে নিয়ে এসেছে।



