আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) সোমবার ঘোষণা করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ক্রিকেট দলকে ত্রি-২০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। এই পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে যদিও যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেট শাসন সংস্থা, ইউএসএ ক্রিকেট (USAC), গত সেপ্টেম্বর থেকে আইসিসির দ্বারা সাসপেন্ডেড অবস্থায় রয়েছে।
সাসপেনশনটির মূল কারণ ছিল শাসন কাঠামোর কার্যকরী ব্যবস্থা গড়ে তোলার ব্যর্থতা, যুক্তরাষ্ট্রের অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিক কমিটির স্বীকৃতি প্রাপ্তিতে অগ্রগতির অভাব, এবং এমন কিছু কাজ যা দেশের এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্রিকেটের সুনামকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এই সমস্যাগুলো আইসিসিকে USAC-কে সাসপেন্ড করার দিকে ধাক্কা দিয়েছে।
তবুও, আইসিসি স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় দলগুলো আইসিসি-অনুমোদিত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের অধিকার বজায় রাখবে এবং ২০২৮ সালের লস এঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া অলিম্পিক গেমসের প্রস্তুতিতে কোনো বাধা সৃষ্টি হবে না। এই নীতি অনুযায়ী, দলগুলোকে ত্রি-২০ বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি চালিয়ে যেতে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
আইসিসি উল্লেখ করেছে যে, USAC-কে সাসপেন্ড করা সত্ত্বেও, সংস্থা তাদের চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়দের বেতন ও পারফরম্যান্স প্রোগ্রামের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল সরবরাহের দায়িত্ব পালন করবে। অর্থাৎ, সাসপেনশনটি দলীয় পারফরম্যান্স বা খেলোয়াড়দের আর্থিক নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করবে না।
আইসিসির একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, USAC-র অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ বা প্রতিযোগিতামূলক অবস্থাকে ক্ষুণ্ন করতে না দেওয়া হবে, এবং ক্রিকেটের অলিম্পিকে ফিরে আসার লক্ষ্যে আইসিসির কাজকে বাধা না দেওয়া হবে। এই বক্তব্যটি সংস্থার স্পষ্ট ইচ্ছা প্রকাশ করে যে, শাসনগত সমস্যার ফলে খেলোয়াড়দের স্বপ্ন বা দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।
USAC বর্তমানে দেউলিয়া সুরে রয়েছে এবং পূর্বে আইসিসি কর্তৃক প্রস্তাবিত ঋণ সুবিধা প্রত্যাখ্যান করেছে। ঐ ঋণ প্রস্তাবের শর্ত ছিল খেলোয়াড় ও স্টাফের বেতন পরিশোধের জন্য তহবিল সরবরাহ করা, তবে USAC এই শর্তে সম্মত হয়নি। ফলে, সংস্থার আর্থিক অবস্থা আরও জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইতোমধ্যে নিশ্চিত হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের পুরুষ ত্রি-২০ দল আগামী ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ত্রি-২০ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করবে। এই টুর্নামেন্টে দলটি বিশ্বের শীর্ষ ১৬টি দলের মধ্যে স্থান পাবে এবং আইসিসি-র আর্থিক সহায়তা তাদের প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তাছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেট দল ২০২৮ সালের অলিম্পিক গেমসের জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে ক্রিকেট পুনরায় অন্তর্ভুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আইসিসি এই দুই বড় ইভেন্টের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দলকে প্রয়োজনীয় সম্পদ সরবরাহে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে শাসনগত সমস্যার কারণে কোনো বাধা না আসে।
সংক্ষেপে, আইসিসি USAC-কে সাসপেন্ড করার পরেও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ক্রিকেট দলের আর্থিক ও পারফরম্যান্স সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করবে, এবং দলকে ত্রি-২০ বিশ্বকাপ ও অলিম্পিক প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন প্রদান করবে। এই পদক্ষেপটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সমতা ও ধারাবাহিকতা রক্ষার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।



