যুক্তরাষ্ট্রের দুইজন আইনপ্রণেতা পাম বন্ডি, যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল,কে আইনি পদক্ষেপের হুমকি জানিয়েছেন, কারণ তিনি দেরি করে জেফ্রি এপস্টেইন সম্পর্কিত সরকারী নথিপত্রের সম্পূর্ণ প্রকাশ না করে। এপস্টেইন ফাইলের প্রকাশের শেষ তারিখ ছিল শুক্রবার, তবে প্রকাশিত নথির বেশিরভাগই লালচিহ্নিত এবং গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাদ দেওয়া হয়েছে।
রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য থমাস ম্যাসি এই পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন এবং কংগ্রেসের উভয় চেম্বারই বন্ডির বিরুদ্ধে ‘ইনহেরেন্ট কন্টেম্পট’ (অন্তর্নিহিত অবমাননা) প্রয়োগের সম্ভাবনা উন্মোচন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই প্রক্রিয়াটি আদালতের মধ্য দিয়ে না গিয়ে সরাসরি কংগ্রেসের ক্ষমতা ব্যবহার করে গৃহীত হতে পারে।
ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস (ডিজে) দাবি করে যে তারা আইনগত বাধ্যবাধকতা পূরণ করছে এবং বন্ডি নিজে বলেন যে তার প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে স্বচ্ছ। তবে ম্যাসি এবং তার সমর্থকরা দাবি করেন, প্রকাশিত নথিতে অতিরিক্ত লালচিহ্ন এবং তথ্যের গোপনীয়তা আইনগত আদেশের স্পিরিটের বিরোধী।
‘এপস্টেইন ফাইল’ বলতে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যায়বিচার বিভাগে এপস্টেইনের দুইটি অপরাধমূলক তদন্তের সময় সংগৃহীত বিশাল তথ্যভাণ্ডারকে বোঝায়। এই নথিগুলি প্রকাশের জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরে একটি আইন পাশ হয়, যা নভেম্বর মাসে রক্ষণশীল দলের চাপের ফলে গৃহীত হয়।
আইনের নির্ধারিত সময়সীমা পূরণে ডিজে কিছু নথি প্রকাশ করলেও, অধিকাংশ নথিতে গোপনীয়তা চিহ্নিত অংশ এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাদ দেওয়া হয়েছে। এই অর্ধেক প্রকাশের ফলে ম্যাসি, তার সহকর্মী এবং এপস্টেইনের শিকারদের মধ্যে ক্রোধ বৃদ্ধি পেয়েছে। ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এখনও কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি।
ডিজে জানিয়েছে, বাকি থাকা নথিগুলি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রকাশ করা হবে। তবে এই প্রতিশ্রুতি ম্যাসি এবং তার সমর্থকদের সন্তুষ্টি অর্জন করেনি, কারণ তারা দাবি করেন যে এই ধীরগতি আইনগত আদেশের ‘আত্মা’ ও ‘শব্দ’ উভয়ই লঙ্ঘন করছে।
ম্যাসি রবিবারের সিবিএসের ‘ফেস দ্য নেশন’ অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেন, ন্যায়বিচার বিভাগ আইনকে উপেক্ষা করে চলেছে এবং কংগ্রেসের অধিকারকে অবমূল্যায়ন করছে। তিনি বলেন, শিকারদের ন্যায়বিচার দ্রুততর করার জন্য সর্বোচ্চ দ্রুততম উপায় হল বন্ডির বিরুদ্ধে অন্তর্নিহিত অবমাননা আরোপ করা, যা আদালতের জটিলতা ছাড়াই কার্যকর করা যায়।
‘ইনহেরেন্ট কন্টেম্পট’ একটি বিরল আইনি পদ্ধতি, যা কংগ্রেসের উভয় চেম্বারই ব্যবহার করতে পারে, তবে শেষবার এটি প্রয়োগ করা হয়েছিল প্রায় এক শতাব্দী আগে, আমেরিকান বার অ্যাসোসিয়েশন অনুযায়ী। এই পদ্ধতি কংগ্রেসকে সরাসরি কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে অবমাননা করার জন্য শাস্তি আরোপের ক্ষমতা দেয়।
ম্যাসি এই পদ্ধতি ব্যবহার করে বন্ডির বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন, যা তিনি বিশ্বাস করেন শিকারদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, কংগ্রেসের এই পদক্ষেপ আইনগত প্রক্রিয়ার অদক্ষতা দূর করবে এবং ন্যায়বিচার বিভাগকে আইন মেনে চলতে বাধ্য করবে।
বন্ডি এবং ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিসের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হয়নি, তবে তারা দাবি করে যে তারা আইনগত বাধ্যবাধকতা পূরণে কাজ করছে এবং কোনো অবমাননা ঘটছে না। এই বিবৃতি কংগ্রেসের সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপের মুখে আরও প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।
পরবর্তী সপ্তাহে ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিসের অতিরিক্ত নথি প্রকাশের পরিকল্পনা এবং কংগ্রেসের ‘ইনহেরেন্ট কন্টেম্পট’ প্রয়োগের সম্ভাবনা দুটোই রাজনৈতিক আলোচনার মূল বিষয় হয়ে থাকবে। উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করে তুলতে এবং জনমতকে প্রভাবিত করতে বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করতে পারে।
এই বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিবেশে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে স্বচ্ছতা, ন্যায়বিচার এবং আইনগত দায়বদ্ধতার প্রশ্নে। কংগ্রেসের আইনি পদক্ষেপ সফল হলে তা সরকারের স্বচ্ছতা নীতি এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ নথি প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে। অন্যদিকে, যদি বন্ডি এবং ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস আইনগত বাধ্যবাধকতা পূরণে সফল হয়, তবে কংগ্রেসের এই ধরনের আইনি হুমকি কমে যেতে পারে।
সারসংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্রের দুইজন আইনপ্রণেতা পাম বন্ডির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন, কারণ তিনি এপস্টেইন সম্পর্কিত নথি সম্পূর্ণভাবে প্রকাশে ব্যর্থ হয়েছেন। কংগ্রেসের ‘ইনহেরেন্ট কন্টেম্পট’ ব্যবহার করার ইচ্ছা এবং ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিসের অতিরিক্ত নথি প্রকাশের পরিকল্পনা আগামী সপ্তাহে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।



