ইউরোপীয় কমিশন সম্প্রতি গ্যাস চালিত গাড়ি বিক্রয় ২০৩৫ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ বন্ধের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করে, নতুন গাড়ির ১০% বিক্রয়ে হাইব্রিড বা সমমানের যানবাহন অনুমোদন করেছে, শর্ত হল নির্মাতাদের কার্বন অফসেট ক্রয় করতে হবে। এই পরিবর্তনটি বৃহত্তর ‘অটোমোটিভ প্যাকেজ’ এর অংশ, যা ইউরোপীয় গাড়ি শিল্পকে পরিষ্কার ও প্রতিযোগিতামূলক রাখতে চায়।
ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এই নীতিমালা অনুমোদন করলে, ঐতিহ্যবাহী গাড়ি নির্মাতাদের চাহিদা পূরণ হবে, যারা হাইব্রিড থেকে সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক গাড়িতে রূপান্তরের জন্য অতিরিক্ত সময় চায়। তারা টেসলা এবং চীনের সাশ্রয়ী ইলেকট্রিক গাড়ির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি।
অন্যদিকে, ইলেকট্রিক গাড়ি স্টার্টআপ ও তাদের বিনিয়োগকারীরা এই নীতি পরিবর্তনে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা মনে করে, স্পষ্ট ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী নীতি সংকেত না থাকলে ইউরোপ বৈশ্বিক ইলেকট্রিক গাড়ি শিল্পে নেতৃত্ব হারাবে।
“China already dominates EV manufacturing,” Craig Douglas, World Fund‑এর পার্টনার, উল্লেখ করেন। “If Europe doesn’t compete with clear, ambitious policy signals, it will lose leadership of another globally important industry — and all the economic benefits that come with it.”
ডগলাসের সঙ্গে একই মতামত ভাগ করে ‘টেক চার্জ ইউরোপ’ নামে একটি ওপেন লেটার প্রকাশ করা হয়। ইউরোপীয় কমিশন প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়েনকে লক্ষ্য করে এই চিঠিতে ২০৩৫ সালের শূন্য-নির্গমন লক্ষ্য বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়। ক্যাবিফাই, EDF, ইন্টারাইড, ইবেরড্রোলা এবং বহু ইভি‑স্টার্টআপের সিনিয়র নির্বাহীরা এই চিঠিতে স্বাক্ষর করেন।
তবে ঐতিহ্যবাহী গাড়ি শিল্পের চাপ শক্তিশালী। এই শিল্প ইউরোপীয় ইউনিয়নের মোট কর্মসংস্থানের ৬.১% প্রতিনিধিত্ব করে, যা রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল একটি ক্ষেত্র। শিল্পের এই প্রভাব নীতি পরিবর্তনের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
স্টার্টআপ সম্প্রদায়ে এই নীতি নিয়ে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। কিছু উদ্যোগ দ্রুত সম্পূর্ণ ইলেকট্রিক রূপান্তরকে অগ্রাধিকার দেয়, অন্যদিকে কিছু হাইব্রিডের অনুমতি নিয়ে স্বল্পমেয়াদে বাজারে টিকে থাকার কৌশল গ্রহণ করে। উভয় দৃষ্টিভঙ্গি ইউরোপের গ্লোবাল ইলেকট্রিক গাড়ি বাজারে অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ভোটের ফলাফল নীতি চূড়ান্ত করবে এবং তা ইউরোপের পরিবেশগত লক্ষ্য, শিল্পের কর্মসংস্থান এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার উপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে। যদি হাইব্রিডের অনুমতি বজায় থাকে, তবে গ্যাস গাড়ি থেকে সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক গাড়িতে রূপান্তরের গতি ধীর হতে পারে, যা ইউরোপের কার্বন নির্গমন হ্রাসের লক্ষ্যকে চ্যালেঞ্জ করবে। অন্যদিকে, কঠোর শূন্য‑নির্গমন লক্ষ্য পুনরায় গ্রহণ করলে শিল্পের রূপান্তর ত্বরান্বিত হবে, তবে তা স্বল্পমেয়াদে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত চাপ বাড়াতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় কমিশন ও পার্লামেন্টের সিদ্ধান্তই ভবিষ্যৎ গাড়ি বাজারের দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে, এবং তা ইউরোপের অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত নীতির সমন্বয়কে পুনরায় গঠন করতে পারে।



