প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুস, প্রধান উপদেষ্টা, ২৪ আগস্ট রাত ৭:৩০ (বাংলাদেশ সময়) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিশেষ envoy সার্জিও গোরের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। কথোপকথনের মূল বিষয় ছিল বাণিজ্যিক শুল্ক সমঝোতা, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ১৩তম জাতীয় নির্বাচন, গণতান্ত্রিক রূপান্তর এবং জুলাই আন্দোলনের শীর্ষ কর্মী শারিফ ওসমান হাদির মৃত্যু।
গোর, যিনি একই সঙ্গে ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের দায়িত্বে আছেন, বাণিজ্যিক আলোচনার সফলতা নিয়ে ইউনুসকে প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য শুল্কে ২০ শতাংশের সীমা অর্জন করেছে, যা দু’দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
আলোচনার সময়, ইউনুস উল্লেখ করেন যে, স্বৈরশাসক শাসন থেকে অপসারিত দলের সমর্থকরা নির্বাচনী প্রক্রিয়া ব্যাহত করতে লক্ষ লক্ষ ডলার ব্যয় করছে। তিনি বলেন, এই গোষ্ঠীর নেতৃত্বে থাকা শীঘ্রই গ্রেফতার হওয়া প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (বিচারাধীন) উস্কানি দিয়ে সহিংসতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
ইউনুসের মতে, অস্থায়ী সরকার এই ধরনের হুমকির মোকাবিলায় প্রস্তুত। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে প্রায় পঞ্চাশ দিন বাকি রয়েছে এবং সরকার একটি মুক্ত, ন্যায়সঙ্গত এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। “আমরা একটি স্মরণীয় নির্বাচন করতে চাই,” তিনি যোগ করেন।
গোরও শারিফ ওসমান হাদির রাষ্ট্রদেহান্তিকের ব্যাপারে মন্তব্য করেন, যেখানে দেশের বিভিন্ন অংশ থেকে বিশাল জনসমাগম দেখা গিয়েছিল। তিনি এই ঘটনা দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনা ও জনগণের অংশগ্রহণের ইঙ্গিত হিসেবে উল্লেখ করেন।
কথোপকথনে বাণিজ্যিক বিষয়ের পাশাপাশি শুল্ক হ্রাসের প্রক্রিয়া, দু’দেশের ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক সহযোগিতা এবং বাংলাদেশে চলমান গণতান্ত্রিক রূপান্তরের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়। গোরের মতে, শুল্ক হ্রাসের ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং দু’দেশের বাণিজ্যিক পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে।
সাক্ষাৎকারে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা স্ক বশির উদ্দিন, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এবং টেকসই উন্নয়ন সমন্বয়কারী ও সিনিয়র সেক্রেটারি লামিয়া মোরশেদ। তারা সকলেই নির্বাচনের নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক আলোচনার গুরুত্বকে জোর দিয়ে বলেন।
দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে সকল কনসুলার ও ভিসা সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। উচ্চতর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নতুন কোনো নির্দেশ না আসা পর্যন্ত এই সেবাগুলি পুনরায় চালু হবে না।
এই ফোনালাপের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে, বাংলাদেশ সরকার নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখছে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক শুল্ক হ্রাসের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে অগ্রসর হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
প্রধান উপদেষ্টা ইউনুসের মন্তব্য এবং মার্কিন envoy-র ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশে একটি স্থিতিশীলতা আনার সম্ভাবনা নির্দেশ করে। তবে স্বৈরশাসক দলের আর্থিক সহায়তা ও সহিংসতা উস্কানির সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে, যা অস্থায়ী সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে তুলেছে।
আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি, বাণিজ্যিক শুল্ক হ্রাস এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা দেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।



