ব্রিস্টল ও অক্সফোর্ডশায়ারের এলবিট সিস্টেমস ফ্যাক্টরি ও রয়্যাল এয়ার ফোর্স ঘাঁটিতে গত বছর সংঘটিত অনধিকার প্রবেশ ও সম্পত্তি ক্ষতির অভিযোগে আটজন সন্দেহভাজন বর্তমানে হাংগ্রাস্টে আছেন। এরা “প্যালেস্টাইন অ্যাকশন” নামে নিষিদ্ধ গোষ্ঠীর সাথে যুক্ত বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। হাংগ্রাস্টের ফলে তাদের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটেছে এবং দুইজনকে সাম্প্রতিক সময়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অভিযোগের মূল বিষয় হল, গত বছর ব্রিস্টলের ফিলটন এলাকায় অবস্থিত ইলবিট সিস্টেমসের যুক্তরাজ্য শাখা ও অক্সফোর্ডশায়ারের একটি রয়্যাল এয়ার ফোর্স বেসে অননুমোদিত প্রবেশ এবং দুইটি সামরিক বিমানকে স্প্রে-পেইন্ট করা। তদন্তকারীরা উল্লেখ করেছেন যে এই কাজের ফলে কিছু সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সামরিক সম্পত্তির উপর অশোভন চিহ্ন লেগেছে।
সন্দেহভাজনরা সকলেই অপরাধমূলক ক্ষতি ও অননুমোদিত প্রবেশের অভিযোগ অস্বীকার করছেন এবং নিজেদের নির্দোষ দাবি করছেন। তাদের মধ্যে কিছু ইতিমধ্যে এক বছরের বেশি সময় ধরে জেলখানায় রয়েছে, যদিও এখনো কোনো বিচার হয়নি।
গত সপ্তাহে হাংগ্রাস্টে দুইজন হাংগ্রাস্টকারীকে জরুরি চিকিৎসা সেবার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাদের পরিবারগুলো জেলে থাকা শর্তাবলী ও সরকারী পদক্ষেপের অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পরিবারিক প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন যে, হাংগ্রাস্টের ফলে শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি পাচ্ছে এবং তাৎক্ষণিক চিকিৎসা না পেলে প্রাণঘাতী ফল হতে পারে।
হাংগ্রাস্টকারী ছয়জনের মূল চাহিদা পাঁচটি পয়েন্টে সীমাবদ্ধ। প্রথমত, তারা অবিলম্বে জামিনের আবেদন করছে। দ্বিতীয়ত, তারা ন্যায়সঙ্গত বিচারের অধিকার দাবি করছে, যার মধ্যে সক্রিয়ভাবে গোষ্ঠী ও কর্মীদের বিরুদ্ধে চালু “হেটচেস্ট” সম্পর্কিত নথিপত্রের প্রকাশ অন্তর্ভুক্ত। তৃতীয়ত, তাদের যোগাযোগের ওপর আরোপিত সেন্সরশিপের অবসান চাচ্ছে। চতুর্থত, “প্যালেস্টাইন অ্যাকশন”কে সন্ত্রাসী তালিকা থেকে সরিয়ে ফেলতে দাবি করছে। পঞ্চমত, ইসরায়েল ভিত্তিক রক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠান ইলবিট সিস্টেমসের যুক্তরাজ্য ফ্যাক্টরি বন্ধ করার দাবি জানাচ্ছে।
হাংগ্রাস্টকারীরা জেলখানায় তাদের চিঠি, ফোন কল এবং বইয়ের সরবরাহে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন। তারা দাবি করছেন যে, এই ধরনের যোগাযোগের বাধা তাদের মৌলিক মানবিক অধিকার লঙ্ঘন করে এবং হাংগ্রাস্টের তীব্রতা বাড়িয়ে দেয়।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, যুক্তরাজ্যের বর্তমান আইন অনুযায়ী প্রি-ট্রায়াল ডিটেনশন সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। তবে এই ছয়জনের ক্ষেত্রে বিচার তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি এবং তারা এক বছরের বেশি সময় ধরে জেলে রয়েছে, যা আইনি সীমা অতিক্রমের সম্ভাবনা নির্দেশ করে।
হাংগ্রাস্টকারী ছয়জনের বয়স ২০ থেকে ৩১ বছরের মধ্যে পরিবর্তিত। তাদের নাম হল কেসার জুহরা, আমু গিব, হেবা মুরাইসি, তেউতা হক্সা, কামরান আহমেদ এবং লুই চিয়ারামেলো। লুই চিয়ারামেলো ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হওয়ায় সম্পূর্ণ হাংগ্রাস্টের পরিবর্তে প্রতি অন্য দিন খাবার না খাওয়ার আংশিক হাংগ্রাস্টে লিপ্ত।
এই ছয়জনকে বর্তমানে পাঁচটি ভিন্ন কারাগারে রাখা হয়েছে, যেখানে তারা ইলবিট সিস্টেমসের ফিলটন শাখা ও রয়্যাল এয়ার ফোর্স বেসে ঘটিত ভাঙচুরের অভিযোগে আটক। আদালত এখনো তাদের ট্রায়াল তারিখ নির্ধারণ করেনি, তবে অনুমান করা হচ্ছে যে ট্রায়াল এক বছরের বেশি সময় পরই হবে, যা প্রি-ট্রায়াল ডিটেনশনের স্বাভাবিক সীমা অতিক্রম করবে। ভবিষ্যতে আদালত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে এই মামলায় কীভাবে অগ্রসর হবে তা স্পষ্ট হবে।



