27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeস্বাস্থ্যদারফুরে মিজলস রোগের বিস্তার ও স্বাস্থ্যসেবা সংকট

দারফুরে মিজলস রোগের বিস্তার ও স্বাস্থ্যসেবা সংকট

দারফুরের দক্ষিণে অবস্থিত ন্যালা টিচিং হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক ও মাতৃস্বাস্থ্যের সেবা প্রদানকারী মেডিকেল সোসাইটি ফার্স (MSF) জানিয়েছে যে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মিজলস রোগের রোগীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এই ভাইরাসটি টিকাদানের মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য হলেও, চলমান সামরিক সংঘর্ষের কারণে রোগের বিস্তার দ্রুততর হয়েছে। রোগের নতুন কেসের সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটের ক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়েছে।

MSF-এর জরুরি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপক আলি আলমোহাম্মদ উল্লেখ করেছেন যে, ন্যালা টিচিং হাসপাতালের মিজলস আইসোলেশন বিভাগে মাত্র ২৫টি বিছানা রয়েছে, তবু প্রতিদিন নতুন রোগীর আগমন বাড়ছে। রোগীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আইসোলেশন রুমের পূর্ণতা দ্রুত ঘটছে, ফলে রোগীর তীব্রতা অনুযায়ী সেবা প্রদান কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংস্থার কর্মীরা জানান যে, দারফুরে তাদের সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবা ক্ষমতা সীমিত এবং সব চাহিদা পূরণ করা বর্তমানে অসম্ভব। তারা সর্বোচ্চ জীবনরক্ষাকারী সেবা প্রদান করার চেষ্টা করলেও, মানবিক সংকটের পরিসর ও সরবরাহের অভাবের কারণে কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। এই সীমাবদ্ধতা রোগীর দ্রুত সনাক্তকরণ ও চিকিৎসা প্রদানকে প্রভাবিত করছে।

দারফুরের পশ্চিমাঞ্চলে সুদানের সামরিক বাহিনী ও র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (RSF) এর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘর্ষের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সংঘর্ষের ফলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অবনত হয়েছে এবং স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো প্রায়ই আক্রমণের ঝুঁকিতে পড়ে।

বিশেষ করে উত্তর দারফুরের রাজধানী এল-ফাশারে, RSF শহরটি দখল করার পর ১৮ মাসের অবরোধের পর প্রায় ১,০০,০০০ এর বেশি পরিবার তাদের বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে। এই বিশাল সংখ্যক শরণার্থী মৌলিক সেবা, খাবার ও ঔষধের অভাবে ভুগছে।

জাতিসংঘের সাম্প্রতিক সতর্কবার্তা অনুযায়ী, দারফুর এখন বিশ্বে মানবিক কষ্টের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংস্থা ও অন্যান্য মানবিক সংস্থাগুলি উল্লেখ করেছে যে, শরণার্থীরা অপর্যাপ্ত ঔষধ, খাবার এবং অন্যান্য জরুরি সামগ্রীতে সীমাবদ্ধ।

এই মানবিক সংকটের মধ্যে মিজলসের বিস্তার বিশেষভাবে উদ্বেগজনক, কারণ রোগটি অত্যন্ত সংক্রামক এবং দ্রুত সম্প্রসারিত হয়। মিজলসের প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে উচ্চ জ্বর, কাশি এবং ত্বকে লালচে দাগ দেখা যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পাঁচ বছরের নিচের শিশুদের ক্ষেত্রে মিজলসের জটিলতা বেশি দেখা যায়, যার মধ্যে শ্বাসকষ্ট, কিডনি ব্যর্থতা এবং মস্তিষ্কের ক্ষতি অন্তর্ভুক্ত। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (CDC) এর তথ্য অনুযায়ী, এই বয়সের শিশুদের মধ্যে রোগের মারাত্মক ফলাফল বেশি সম্ভাবনা থাকে।

MSF জানিয়েছে যে, গত বছর ছয় মাসের মধ্যে প্রায় ১,৭৯,০০০ সুদানি শিশুকে মিজলসের টিকাদান করা হয়েছে, তবে এই সংখ্যা পুরো রোগীর চাহিদা পূরণে যথেষ্ট নয়। নতুন কেসের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টিকাদানের হার বাড়াতে অতিরিক্ত সম্পদ ও সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

অবিলম্বে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা ছাড়া দারফুরে মিজলসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। অতিরিক্ত টিকাদান ক্যাম্প, আইসোলেশন সুবিধা বৃদ্ধি এবং মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহের জন্য তহবিল ও সরঞ্জাম সরবরাহ করা জরুরি।

পাঠকগণ কি মনে করেন, দারফুরের এই মানবিক ও স্বাস্থ্য সংকটে আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং সাধারণ মানুষ কীভাবে কার্যকরভাবে সহায়তা করতে পারে? আপনার মতামত শেয়ার করুন এবং এই জরুরি পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করুন।

৮৯/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: আল জাজিরা
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
AI-powered স্বাস্থ্য content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments