আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রসিকিউশন আজ অনিসুল হক, প্রাক্তন আইন মন্ত্রী এবং সালমান এফ রাহমান, শীঘ্রই পদত্যাগ করা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রাক্তন উপদেষ্টা, বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আনতে চেয়েছে। অভিযোগগুলো জুলাই ২০২৪-এ ঘটিত ‘জুলাই মাসের উত্থান’ সময়ের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
প্রসিকিউশন দল ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামকে সমর্থন করে, যিনি শুনানির সমাপ্তির পর এই আবেদনটি উপস্থাপন করেন। আদালত এই আবেদন গ্রহণ করে এবং পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করে।
অভিযোগের মূল ভিত্তি ‘কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ নীতির ওপর দাঁড়িয়ে আছে; অর্থাৎ উভয় ব্যক্তিকে তাদের পদবী ও ক্ষমতার মাধ্যমে ঘটনার দায়িত্বে টানা হয়েছে। প্রসিকিউশন যুক্তি দেন যে তারা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে হত্যাকাণ্ডকে উত্সাহিত ও সহজতর করেছেন।
প্রসিকিউশনের এক দস্তাবেজে উল্লেখ আছে যে অনিসুল ও সালমানের মধ্যে একটি ফোন কথোপকথন হয়, যেখানে তারা প্রতিবাদকারীদের ‘সম্পূর্ণভাবে শেষ করা’ উচিত বলে উল্লেখ করেন এবং তা অর্জনের জন্য কার্গো কিউরফিউ প্রয়োগের কথা বলেন। এই কথোপকথনকে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
কিউরফিউ ঘোষণার পর, ২০ জুলাই থেকে বিভিন্ন জেলা ও ঢাকা শহরে ছাত্রদের উপর অনিয়ন্ত্রিত গুলি চালানো হয়। এই গুলিবর্ষণকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের একটি প্রধান উদাহরণ হিসেবে প্রসিকিউশন উল্লেখ করে।
অন্য একটি অভিযোগে বলা হয়েছে, ২২ জুলাই ২০২৪-এ সালমান এফ রাহমান ব্যবসায়িক নেতাদের একটি দলকে গোনো ভবনে শেখ হাসিনার সঙ্গে একটি বৈঠকে নিয়ে যান। সেখানে তিনি সরকারের কঠোর দমন নীতি চালিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যবসা সম্প্রদায়ের সমর্থন নিশ্চিত করেন।
প্রসিকিউশন এই বৈঠককে সরকারের দমন নীতি শক্তিশালী করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে উপস্থাপন করে এবং এটিকে ‘উদ্দীপনা, সহায়তা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে।
অনিসুল হকের বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযোগে ২৮৬টি ‘মিথ্যা মামলা’ দায়েরের কথা উল্লেখ আছে, যা প্রায় ৪৫০,০০০ ছাত্র-প্রতিবাদীর বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়। এই মামলাগুলো গ্রেফতার, জেলখানায় নির্যাতন এবং অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের দিকে নিয়ে যায়।
প্রতিরক্ষা পক্ষের আইনজীবী সৈয়দ মুনসুরুল হক চৌধুরী দুই সপ্তাহের সময় চেয়ে আদালতে তাদের যুক্তি উপস্থাপন করতে চান। ট্রাইব্যুনাল এই অনুরোধ মঞ্জুর করে এবং পরবর্তী শুনানির তারিখ ৪ জানুয়ারি ২০২৬ নির্ধারণ করে।
এই সময়ের মধ্যে, দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন সকল কনসুলার ও ভিসা সেবা স্থগিত করেছে। উচ্চতর সরকারি ঘোষণার না আসা পর্যন্ত এই সেবাগুলো বন্ধ থাকবে।
আইসিটি-র এই দায়ের প্রক্রিয়া দেশের মানবাধিকার রেকর্ডের ওপর আন্তর্জাতিক নজরদারির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আদালতের পরবর্তী রায় এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের যুক্তি দেশের আইনি ও রাজনৈতিক পরিবেশে প্রভাব ফেলবে।
প্রসিকিউশন ও প্রতিরক্ষা উভয়েরই যথাযথ সময়সীমা ও প্রমাণ উপস্থাপনের অধিকার রয়েছে, যা ট্রাইব্যুনালের ন্যায়বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে। ভবিষ্যতে এই মামলার ফলাফল দেশের আইনি সংস্কার ও মানবাধিকার সুরক্ষায় কী প্রভাব ফেলবে তা নজরে থাকবে।



