মাধ্যমিক স্তরের সর্বজনীন পরীক্ষা, এসএসসি ও সমমানের তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক অংশের সূচি এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি। শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, গণভোট এবং রমজানের পরপরই সরকার পরীক্ষা আয়োজনের তারিখ নির্ধারণের সম্ভাবনা দেখছে।
প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, এপ্রিল অথবা মে মাসে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে পারে। তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক দু’ধরনের পরীক্ষার জন্য প্রায় চল্লিশ দিনের সময় প্রয়োজন হয়, তাই এই দুই মাসের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে পরীক্ষা চালানো সম্ভব হবে কিনা, তা নিয়ে কিছু উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে, কালবৈশাখী ও ঘূর্ণিঝড়ের মৌসুমে পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার।
শিক্ষা বোর্ডের সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান উল্লেখ করেছেন, তারা পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পূর্ণভাবে চালিয়ে যাচ্ছে। সরকার যখনই পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণের নির্দেশ দেবে, তখনই তা কার্যকর করা সম্ভব হবে। তবে, নির্বাচনের সময়সূচি, রমজান এবং অন্যান্য ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোর প্রভাব বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বছরের শুরুতে, ফেব্রুয়ারিতে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হওয়ার রীতি ছিল। ২০২০ সালে আবারও ফেব্রুয়ারিতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়, তবে কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে পরবর্তী তিন বছর এই সময়সূচি বজায় রাখা সম্ভব হয়নি। ধীরে ধীরে সময়সূচি সামঞ্জস্য করে, ২০২৪ সালে আবারও ফেব্রুয়ারিতে পরীক্ষা শুরু হয়, যেখানে ১৫ ফেব্রুয়ারি তারিখে প্রথম সেশন শুরু হয়। তবে, একই বছর গণঅভ্যুত্থান এবং রমজানের প্রভাবের কারণে ২০২৫ সালের পরীক্ষার সূচনা ১০ এপ্রিল থেকে হয়।
এই বছরও, এসএসসি পরীক্ষার শুরুর তারিখ এখনও সরকারীভাবে ঘোষণা করা হয়নি। যদি ফেব্রুয়ারিতে পরীক্ষা না হয়, তবে তা বিলম্ব হিসেবে গণ্য করা যাবে না; বরং নতুন সময়সূচি হিসেবে বিবেচিত হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে, এপ্রিল মাসে পরীক্ষার সম্ভাবনা বেশি, তবে মে মাসেও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে, এই দুই মাসে ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার ঝুঁকি থাকায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করবে।
শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়কও উল্লেখ করেছেন, এই বছর এসএসসি পরীক্ষা এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে, এবং ভবিষ্যতে একই সময়ে চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হতে পারে। তবে, আবহাওয়া সংক্রান্ত অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি বিবেচনা করে, মে মাসের সম্ভাবনাও বাদ দেওয়া যায় না।
শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল প্রস্তুতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। পরীক্ষার নির্দিষ্ট তারিখ না জানলেও, পাঠ্যক্রমের সব বিষয়ের ওপর সমানভাবে মনোযোগ দেওয়া উচিত। বিশেষ করে, তত্ত্বীয় অংশের জন্য নিয়মিত নোট revising এবং ব্যবহারিক অংশের জন্য ল্যাব ও প্র্যাকটিক্যাল সেশনগুলোতে সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি।
অবশেষে, শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ব্যবহারিক পরামর্শ: পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখের কাছাকাছি সময়ে একটি সময়সূচি তৈরি করুন, যেখানে প্রতিদিনের পড়াশোনার লক্ষ্য, পুনরাবৃত্তি সেশন এবং বিশ্রামের সময় স্পষ্টভাবে নির্ধারিত থাকবে। এভাবে, শেষ মুহূর্তে কোনো পরিবর্তন হলেও প্রস্তুতি বজায় থাকবে এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সম্ভব হবে।



