ইসরায়েলি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন‑গভির রোববার ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য কুমিরের বেষ্টনীসহ একটি কারাগার নির্মাণের ধারণা উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের ব্যবস্থা গৃহীত হলে কোনো বন্দি পালাতে পারবে না।
স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল ১৩ জানিয়েছে, ইসরায়েলি কারাগার পরিষেবা এই প্রস্তাবটি বর্তমানে বিশ্লেষণাধীন। প্রস্তাবের মূল ধারণা হল, কারাগারের চারপাশে কুমিরের খাঁচা স্থাপন করে বন্দিদের পালানোর সম্ভাবনা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা।
প্রস্তাবটি গত সপ্তাহে ইসরায়েলি কারাগার পরিষেবার প্রধান কমিশনার কোবি ইয়াকোবের সঙ্গে বেন‑গভিরের আলোচনা সভায় উপস্থাপিত হয়। পরিকল্পিত কারাগারটি উত্তরের হামাত গাদার অঞ্চলে স্থাপিত হতে পারে, যা সিরিয়ার দখলকৃত গোলান উচ্চভূমি ও জর্ডান সীমান্তের নিকটবর্তী।
হামাত গাদার এলাকায় ইতিমধ্যে একটি কুমিরের খামার এবং চিড়িয়াখানা রয়েছে, যা এই প্রস্তাবের বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সরবরাহ করতে পারে বলে ধারণা করা হয়।
কুমির-ঘেরা কারাগার পরিকল্পনার পাশাপাশি, বেন‑গভির ইসরায়েলি সংসদে একটি বিলের অনুমোদনের পথে অগ্রসর হচ্ছেন। এই বিলটি পাশ হলে, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা বা অংশগ্রহণের অভিযোগে অভিযুক্ত ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড আরোপ করা হবে।
বিলটি ১১ নভেম্বর প্রথম পাঠে অনুমোদিত হয়েছে এবং আইনগতভাবে কার্যকর হতে হলে দ্বিতীয় ও তৃতীয় পাঠ অতিক্রম করতে হবে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে, ইসরায়েলের নিরাপত্তা নীতি ও মানবাধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ হবে।
বর্তমানে ইসরায়েলের কারাগারগুলোতে দশ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি বন্দি আটক রয়েছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী ও শিশুও অন্তর্ভুক্ত, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার নজরে এসেছে।
প্রস্তাবিত কুমির-ঘেরা কারাগার ও মৃত্যুদণ্ড বিলের সমন্বয়কে ইসরায়েলি নিরাপত্তা নীতির কঠোরতা বৃদ্ধি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই ধরনের পদক্ষেপকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।
ইসরায়েলি কারাগার পরিষেবা কর্তৃক প্রস্তাবের বিশদ পর্যালোচনা চলমান, তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মন্তব্যে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা ও মানবিক দিক উভয়ই বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিলের দ্বিতীয় পাঠের সময়সূচি এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে, বেন‑গভিরের সমর্থক দল এই আইনকে দ্রুত পাশ করাতে চাপ দেবে। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলো আইনটির মানবাধিকার লঙ্ঘনের সম্ভাবনা তুলে ধরছে।
ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য কুমির-ঘেরা কারাগার নির্মাণের ধারণা ও মৃত্যুদণ্ড বিলের সমন্বয় ইসরায়েলি অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে। এই পদক্ষেপগুলো ভবিষ্যতে গেজা ও পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি ও শান্তি প্রক্রিয়ার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
ইসরায়েলি সরকার ও নিরাপত্তা সংস্থার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া প্রত্যাশিত। মানবাধিকার সংস্থা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নির্ধারকরা এই বিষয়গুলোতে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে পারেন।
সর্বশেষে, কুমির-ঘেরা কারাগার ও মৃত্যুদণ্ড বিলের বাস্তবায়ন ইসরায়েলি নিরাপত্তা নীতি, ফিলিস্তিনি বন্দিদের অধিকার এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিবেশের মধ্যে একটি জটিল সমন্বয় তৈরি করবে।



