সকাল ১১টায় রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও এলাকায় ‘মব ভায়োলেন্সে আক্রান্ত বাংলাদেশ’ শীর্ষক যৌথ প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার আয়োজন সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সংগঠন (সম্পাদক পরিষদ) ও নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (নোয়াব) করেছে। একই সময়ে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটায়, যা প্রতিবাদকারীরা পরিকল্পিত বলে দাবি করে।
প্রতিবাদে উপস্থিত বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়ে কার্যালয়ে আক্রমণকারী ও আগুন লাগানো ব্যক্তিদের নিন্দা করেন। সভার শেষে অংশগ্রহণকারীরা প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের পাশের রাস্তায় মানববন্ধন গঠন করেন, যা সমর্থনের চিহ্ন হিসেবে দেখা হয়।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঘটনাটিকে ‘দুঃখজনক’ বলে উল্লেখ করে, সরকারের কিছু অংশের এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, আক্রমণকারীরা এনসিপি-র স্লোগান ব্যবহার করে এবং তাদের কাজের পক্ষে সামাজিক সমর্থন গড়ে তুলেছে।
ইস্লামের মতে, একাধিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরে সমন্বিত পরিকল্পনা ছাড়া এত বড় আক্রমণ করা সম্ভব হতো না। তিনি উল্লেখ করেন, শারিফ ওসমান হাদি সম্পর্কিত কোনো দুর্ঘটনা হলেও, তার পরবর্তী ঘটনাগুলোর পেছনে একটি চক্রান্তের প্রস্তুতি ছিল।
প্রতিবাদকারীরা দাবি করেন, এই হামলা ও অগ্নিকাণ্ডের পেছনে সরকারী অংশের অনুমোদন বা সমর্থন থাকতে পারে। তারা সরকারকে এই ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত ও দায়ী ব্যক্তিদের বিচার করার আহ্বান জানায়।
প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে আক্রমণকারী ও হেনস্তা করা ব্যক্তিরা নিউ এজ পত্রিকার সম্পাদক নূরুল কবীরকে লক্ষ্য করে কাজ করেছে বলে ইস্লাম উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই ধরনের হিংসা সাংবাদিক স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত।
প্রতিবাদে উপস্থিত অন্যান্য সংগঠনগুলোও একই রকম উদ্বেগ প্রকাশ করে। তারা জোর দিয়ে বলেন, গণতন্ত্রের মৌলিক নীতি ও স্বচ্ছতা রক্ষার জন্য এমন আক্রমণকে সহ্য করা যাবে না।
মির্জা ফখরুল, যিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন, তিন ঘণ্টা আগে ঘটনার বিশদ জানিয়ে জানান যে, আক্রমণকারী গোষ্ঠীর পেছনে রাজনৈতিক সমর্থন ছিল। তিনি বলেন, এ ধরনের হিংসা ভবিষ্যতে পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
এদিকে, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার প্রকাশনা সংস্থাগুলো ঘটনাটির পর দুঃখ প্রকাশ করে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার কথা জানায়। তারা উল্লেখ করে, কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ করা হবে।
সরকারি পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। তবে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে তদন্তে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, যদি সরকারী অংশের জড়িত থাকার সন্দেহ সত্য প্রমাণিত হয়, তবে এটি রাজনৈতিক পরিবেশে গভীর অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে, মিডিয়া স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর প্রভাবও বাড়বে।
অধিকন্তু, এনসিপি ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলো এই ঘটনার পরবর্তী পর্যায়ে আইনগত পদক্ষেপের সম্ভাবনা উন্মোচন করেছে। তারা দাবি করে, স্বচ্ছ তদন্তের ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা সম্ভব নয়।
সামগ্রিকভাবে, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে ঘটিত হামলা ও অগ্নিকাণ্ডের পেছনে সরকারী অংশের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক সংস্থা ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত দাবি হলো, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করা।



