ব্রিটেনের নর্থ ইয়র্কশায়ার, মিডলসব্রোতে ১৯৫১ সালে জন্ম নেওয়া ক্রিস্টোফার অ্যান্টন রিয়া, ইতালীয় পিতা ও আইরিশ মাতার সন্তান, সাত ভাইবোনের মধ্যে এক ছিলেন। তার পরিবার স্থানীয়ভাবে ক্যামিলোর আইসক্রিম ফ্যাক্টরি ও ক্যাফে চালাত, যা স্থানীয়দের কাছে পরিচিত ছিল।
কিশোর বেলায় চ্রিস ক্যাফে কর্মে যুক্ত হন এবং নিজের প্রথম গাড়ি চালনার পরীক্ষা তার বাবার আইসক্রিম ভ্যানের ভিতরেই দেন। পরীক্ষার সময় পরীক্ষক হঠাৎ ভ্যানের বাক্স থেকে পড়ে পা কেটে ফেলেন, তবু রিয়া পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
প্রারম্ভিক বয়সে তিনি ১৯৬১ সালের হোফনার V3 গিটারটি কিনে নেন, যা তার সঙ্গীতের প্রথম সঙ্গী হয়ে ওঠে। যদিও পরিবার তাকে পারিবারিক আইসক্রিম ব্যবসা বিশ্বব্যাপী প্রসারিত করার দায়িত্ব দিত, রিয়া স্টক রুমে স্লাইড গিটার বাজিয়ে তার স্বপ্নকে অনুসরণ করেন।
স্থানীয় ব্যান্ড এলাস্টিক ব্যান্ড ও ম্যাগডালিনে পারফর্ম করার পর, ‘দ্য বিউটিফুল লসার্স” নামের গ্রুপে যোগ দেন, যেখানে তার সঙ্গীতের স্বতন্ত্র স্বর শোনার সুযোগ পায়। এই পর্যায়ে তিনি মেগনেট রেকর্ডসের সঙ্গে একক চুক্তি স্বাক্ষর করেন, যা তার ক্যারিয়ারকে নতুন দিগন্তে নিয়ে যায়।
১৯৭৮ সালে প্রকাশিত প্রথম স্টুডিও অ্যালবাম ‘হোয়াটার হ্যাপেন্ড টু বেনি স্যান্টিনি?” তার সঙ্গীতের ভিত্তি স্থাপন করে। অ্যালবামের প্রধান সিঙ্গেল ‘ফুল (ইফ ইউ থিংক ইটস ওভার)’ যুক্তরাষ্ট্রে এডাল্ট কন্টেম্পোরারি চার্টে শীর্ষে উঠে, এবং গ্র্যামি পুরস্কারের ‘বেস্ট নিউ আর্টিস্ট” ক্যাটেগরিতে মনোনয়ন পায়।
ব্রিটিশ চার্টে দুইটি অ্যালবাম শীর্ষে পৌঁছায়, এবং তার স্বতন্ত্র গর্জনময় কণ্ঠস্বর ও স্লাইড গিটারের ব্যবহার ‘রোড টু হেল”, “অবর্জ”, “অন দ্য বিচ” ও “ড্রাইভিং হোম ফর ক্রিসমাস” মত গানে চিহ্নিত হয়। এই গানগুলো গাড়ি চালনার থিমকে সুরের সঙ্গে মিশিয়ে শ্রোতাদের মুগ্ধ করে।
ম্যাগনেট রেকর্ডসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল লেভি রিয়াকে “একজন চিন্তাশীল, অন্তর্মুখী কবি” হিসেবে বর্ণনা করেন, যা তার গানের গভীরতা ও গীতিকবিতার স্বভাবকে তুলে ধরে। তার গানের লিরিক্সে রোড ট্রিপের দৃশ্য, গাড়ির গর্জন ও রাতের স্নিগ্ধতা স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
সঙ্গীতের পাশাপাশি রিয়া ছোটবেলা থেকেই চলচ্চিত্রের জন্য সঙ্গীত রচনা করার স্বপ্ন দেখতেন। ১৯৯৬ সালে ‘লা প্যাসিওনে” চলচ্চিত্রের জন্য তিনি সাউন্ডট্র্যাক রচনা করেন, যা তার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেয়। এছাড়া “সফট টপ হার্ড শোল্ডার” ছবির স্কোর ও শিরোনাম গীতও রচনা করেন।
তার ক্যারিয়ার জুড়ে মোট ২৫টি একক অ্যালবাম রিলিজ হয়েছে, যার মধ্যে দুইটি যুক্তরাজ্যের অ্যালবাম চার্টে শীর্ষে বসে। গাড়ি ও রোডের প্রতি তার অটল প্রেমই তার সৃষ্টিতে ধারাবাহিক অনুপ্রেরণা যোগায়, ফলে রোড-থিমযুক্ত গানগুলো তার সিগনেচার হয়ে ওঠে।
রিয়ার গানের থিমে গাড়ি শুধু পরিবহন মাধ্যম নয়, বরং স্বাধীনতা, আত্মঅন্বেষণ ও স্মৃতির প্রতীক। “ড্রাইভিং হোম ফর ক্রিসমাস” গানে শীতের রাতের শান্তি ও বাড়ি ফেরার আকাঙ্ক্ষা গাড়ির সিটে বসে প্রকাশ পায়, যা শীতের উষ্ণতা ও নস্টালজিয়া উভয়ই জাগিয়ে তোলে।
ব্রিটিশ রক ও ব্লুজের দৃশ্যে রিয়া একটি অনন্য স্থান দখল করে, যেখানে তার গানের লিরিক্সে রোডের দৃশ্যাবলি ও গাড়ির গর্জন একত্রে মিশে থাকে। তার গানের ভৌতিকতা ও রোমান্সের মিশ্রণ শোনার জন্য শ্রোতারা গাড়ির সিটে বসে, রোডের শেষ না হওয়া যাত্রা অনুভব করে।
সঙ্গীতের পাশাপাশি রিয়া গাড়ি সংগ্রহের প্রতি অনুরাগী, এবং তার গাড়ি সংগ্রহে ক্লাসিক ও আধুনিক গাড়ির মিশ্রণ দেখা যায়। গাড়ি চালানোর আনন্দই তার সৃষ্টির মূল চালিকাশক্তি, যা তার গানের রিদম ও মেলোডিতে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।
আজও রিয়া গাড়ি চালিয়ে নতুন সুরের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন, এবং তার সৃষ্টিগুলো নতুন প্রজন্মের শ্রোতাদের কাছে রোডের স্বাদ বহন করে। গাড়ি ও সঙ্গীতের এই অনন্য সংমিশ্রণ তাকে রক ও ব্লুজের জগতে এক অমর আইকন হিসেবে গড়ে তুলেছে।
যারা গাড়ি চালাতে পছন্দ করেন, অথবা রোড ট্রিপের স্মৃতি পছন্দ করেন, তাদের জন্য রিয়ের গানের তাল ও গতি এক নতুন দৃষ্টিকোণ প্রদান করে, যেখানে গাড়ি শুধু যাত্রার মাধ্যম নয়, বরং সঙ্গীতের সঙ্গে একত্রে আত্মার যাত্রা হয়ে ওঠে।



