চিফ অ্যাডভাইজার অফিসের সর্বশেষ বিবৃতি অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর মুদ্রানীতি এবং সরকারের ব্যয়সংকোচনামূলক পদক্ষেপের ফলে ২০২৬ সালের জুন মাসে মুদ্রাস্ফীতি ৭ শতাংশের সীমা অতিক্রম করবে না বলে আশা করা হচ্ছে। এই পূর্বাভাসটি আজকের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও বাজেট ব্যয়ের ওপর অনুষ্ঠিত বৈঠকের পরে প্রকাশিত হয়েছে।
বৈঠকটি রাষ্ট্রীয় গেস্ট হাউস জামুনা-তে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে চিফ অ্যাডভাইজার প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণকারী প্রধান কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিত ছিলেন ফাইন্যান্স অ্যাডভাইজার সালেহুদ্দিন আহমেদ, পরিকল্পনা অ্যাডভাইজার ওয়াহিদুদ্দিন মাহমুদ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ. মানসুর।
মুদ্রাস্ফীতির প্রবণতা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখিয়েছে। নভেম্বর ২০২৫-এ বার্ষিক গড় মুদ্রাস্ফীতি ৯ শতাংশের নিচে নেমে আসে, যা জুন ২০২৩ থেকে প্রথমবারের মতো ঘটেছে। মার্চ ২০২৩-এ ৯ শতাংশের শীর্ষে পৌঁছানো মুদ্রাস্ফীতি জুন ২০২৫-এ আবার ৯ শতাংশের নিচে নেমে যায়।
নভেম্বর ২০২৫-এ মুদ্রাস্ফীতি ৮.২৯ শতাংশে নেমে আসে, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় স্পষ্ট হ্রাস নির্দেশ করে। একই সময়ে বাস্তব মজুরি বৃদ্ধিও ৮.০৪ শতাংশে পৌঁছায়, যা মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করে। FY ২০২২-২৩-এ মুদ্রাস্ফীতি ৯.০২ শতাংশ এবং মজুরি বৃদ্ধি ৭.০৪ শতাংশ ছিল, ফলে বাস্তব আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল।
অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারকরা উল্লেখ করেন, মুদ্রানীতি কঠোর রাখার পাশাপাশি সরকারি ব্যয় সংযমের ফলে মুদ্রাস্ফীতি দ্রুত হ্রাস পাবে এবং ২০২৬ সালের জুনে ৭ শতাংশের নিচে নেমে আসবে। এই প্রত্যাশা বর্তমান আর্থিক বছরের শেষের দিকে বাস্তব আয়ের ফাঁক কমে যাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বৈঠকে বাস্তব আয়ের ফাঁক সংকুচিত হওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। মুদ্রাস্ফীতি ও মজুরি বৃদ্ধির পার্থক্য পূর্বের বছরগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে, যা ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কৃষি খাতে ইতিবাচক সঙ্কেত দেখা গেছে। বোরো ধানের ফলন এই বছর পর্যন্ত সন্তোষজনক রেকর্ড করেছে এবং আমান ধানের ফলনও ভাল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে সরকারী ধান সংগ্রহের লক্ষ্য পূরণে আশাবাদী অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
খাদ্যশস্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সঙ্গে সঙ্গে বাজারে ধানের সরবরাহ স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা খাদ্যদ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আগস্ট ২০২৪-এ প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভের তুলনায়, বর্তমান সময়ে রিজার্ভের মোট মূল্য $৩২.৫৭ বিলিয়ন পৌঁছেছে। এই বৃদ্ধি রপ্তানি ও রেমিট্যান্সের প্রবাহের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
মুদ্রা বিনিময় হার স্থিতিশীল হওয়ায় রেমিট্যান্সের প্রবাহে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, মুদ্রা বাজারের স্থিতিশীলতা এবং রিজার্ভের পর্যাপ্ততা ভবিষ্যতে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সারসংক্ষেপে, কঠোর মুদ্রানীতি, ব্যয়সংকোচন এবং কৃষি উৎপাদনের উন্নতি একত্রে মুদ্রাস্ফীতি হ্রাসের পথে ইতিবাচক দিক নির্দেশ করে। তবে মুদ্রা বাজারের অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ঝুঁকি নজরে রেখে নীতি সমন্বয় অব্যাহত রাখা জরুরি, যাতে ২০২৬ সালের জুনে লক্ষ্যিত ৭ শতাংশের নিচে মুদ্রাস্ফীতি বাস্তবায়িত হয়।



