গ্যারি “মানি” মাউনফিল্ডের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ম্যানচেস্টার ক্যাথেড্রালে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে পরিবার, ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং ভক্তদের পাশাপাশি সঙ্গীত জগতের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। দ্য স্টোন রোজেস ও প্রাইমাল স্ক্রিমের প্রাক্তন বেসিস্টের শেষ যাত্রা হিটন মুর, স্টকপোর্টের তার বাড়ি থেকে ম্যানচেস্টার সিটি সেন্টারের দিকে গিয়েছিল, এবং শহরের রাস্তায় ভক্তদের বিশাল সমাবেশ দেখা গিয়েছিল।
কোর্টেজের পথে রাস্তায় ভক্তরা বালতি টুপি, স্টোন রোজেসের টি-শার্ট এবং ব্যান্ডের লোগোযুক্ত শার্ট পরিধান করে গর্বের সঙ্গে লাইন গঠন করে, যা মানির সঙ্গীতের প্রতি তাদের অটুট ভালবাসা প্রকাশ করে। কফিনটি ব্যান্ডের প্রথম অ্যালবামের ক্লাসিক পেইন্ট স্প্ল্যাশ আর্টওয়ার্কে সজ্জিত ছিল, এবং তার পাশে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের স্কার্ফ ও “R kid” লেখা একটি মণি রাখা হয়েছিল, যা তার ম্যানচেস্টারিক পরিচয়কে তুলে ধরেছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ১৯৮০‑৯০ দশকের ব্রিটিশ সঙ্গীতের আইকন, আইয়ান ব্রাউন এবং ববি গিলেস্পি, পাশাপাশি ওয়েস্টব্রিটিশ রক ব্যান্ড ওয়েসের লিয়াম গ্যালাগার। ফুটবলের জগতে নামী দুজন প্রাক্তন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড খেলোয়াড়, ডেভিড বেকহ্যাম ও গ্যারি নেভিলও সমাবেশে অংশ নেন, যা অনুষ্ঠানের মর্যাদা আরও বাড়িয়ে দেয়।
আইয়ান ব্রাউন মঞ্চে গিয়ে মানির প্রতি গভীর স্নেহ প্রকাশ করেন, তাকে নিজের ভাই ও সুন্দর মানব হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে মানি যেকোনো অন্ধকার মুহূর্তে হাসি দিয়ে তা অতিক্রম করতে পারতেন এবং যে কোনো ঘরে প্রাণবন্ততা ও আত্মা যোগিয়ে দিতেন। তার কথায় মানির সঙ্গীতের প্রতি অবিচল প্রতিশ্রুতি এবং বন্ধুত্বের গভীরতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ব্রাউন আরও একটি অনন্য প্রস্তাব দেন: শহরের কেন্দ্রে পঞ্চাশ ফুট উচ্চতার সোনার ভাস্কর্য হিসেবে মানির স্মৃতি চিরস্থায়ী করা। এই ধারণা উপস্থিত ভক্ত ও শিল্পসামাজের মধ্যে উল্লাসের সাড়া পায়, এবং তালি ও চিৎকারের মাধ্যমে সমর্থন পায়। তার বক্তৃতা ক্যাথেড্রালের বাইরে থাকা ভিড়ের কাছে স্পিকারে সম্প্রচারিত হয়, যেখানে অনেকেই বালতি টুপি ও টি-শার্ট পরিহিত অবস্থায় উল্লাসের সাথে সাড়া দেন।
কোর্টেজের সঙ্গে সাইকেল চালকরা গার্ড হিসেবে কাজ করে, এবং দ্য স্টোন রোজেসের সর্বকালের হিট “I Wanna Be Adored” গানটি স্পিকারে বাজে, যা উপস্থিতদের স্মৃতিতে গভীর ছাপ ফেলে। গানের সুরে ভাসমান পরিবেশ, মানির জীবনের সঙ্গীতময় দিককে পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেয়।
মানির কফিনে ব্যান্ডের প্রথম অ্যালবামের আইকনিক আর্টওয়ার্কের পাশাপাশি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের স্কার্ফও সজ্জিত ছিল, যা তার ম্যানচেস্টারিক পরিচয়কে আরও জোরালো করে। কফিনের পাশে রাখা “R kid” মণি, তার বন্ধু ও সহকর্মীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত স্নেহের প্রতীক হিসেবে কাজ করে।
অনুষ্ঠানের শেষে, উপস্থিত পরিবার ও বন্ধুদের চোখে অশ্রু ঝলমল করলেও, ভক্তদের মুখে স্মৃতির উষ্ণতা স্পষ্ট। মানির বেস পারফরম্যান্স দ্য স্টোন রোজেসের সাউন্ডে মূল ভূমিকা পালন করেছিল, এবং তার সঙ্গীত ঐতিহ্যকে শক্তিশালী করে গড়ে তুলেছিল।
সমাবেশের সময়, ক্যাথেড্রালের বাইরের ভিড়ের মধ্যে বহু তরুণ ও বয়স্ক ভক্ত একত্রে গিয়ে মানির প্রতি সম্মান জানায়, এবং তার সৃষ্ট সুরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। এই সমাবেশটি শুধু একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া নয়, বরং মানির সঙ্গীতের প্রতি একটি বৃহৎ সম্মানসূচক অনুষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত হয়।
অনুষ্ঠানের পর, অনেক ভক্ত সামাজিক মাধ্যমে মানির স্মৃতি ও সঙ্গীতের প্রতি তাদের ভালবাসা প্রকাশ করে, এবং ভবিষ্যতে তার সৃষ্টিগুলোকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে। এই ধরনের সমর্থন মানির সঙ্গীতের স্থায়িত্বকে আরও দৃঢ় করে।
সারসংক্ষেপে, গ্যারি “মানি” মাউনফিল্ডের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ম্যানচেস্টার ক্যাথেড্রালে একটি স্মরণীয় ও হৃদয়স্পর্শী অনুষ্ঠান হিসেবে রেকর্ড হয়, যেখানে সঙ্গীতের জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা, ফুটবলের আইকন এবং অসংখ্য ভক্ত একত্রে তার জীবন ও সৃষ্টিকর্মকে সম্মান জানায়।



