22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিডেনমার্ক যুক্তরাষ্ট্রের দূতকে ডেকেছে গ্রিনল্যান্ডের বিশেষ প্রতিনিধি নিয়োগের পর

ডেনমার্ক যুক্তরাষ্ট্রের দূতকে ডেকেছে গ্রিনল্যান্ডের বিশেষ প্রতিনিধি নিয়োগের পর

ডেনমার্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রী লার্স লক্কে রাসমুসেন সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের দূতকে ডেকেছেন, কারণ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ডের জন্য বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে লুইজিয়ানা গভার্নর জেফ ল্যান্ড্রিকে নিয়োগের পর তিনি গভীর রাগ প্রকাশ করেছেন। রাসমুসেনের মতে, এই পদে নিয়োগ করা ব্যক্তির মন্তব্যে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার পরিকল্পনা উল্লেখ করা হয়েছে, যা ডেনমার্কের সার্বভৌমত্বের সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ট্রাম্পের প্রশাসন গত সপ্তাহে লুইজিয়ানা গভার্নরকে গ্রিনল্যান্ডের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে ঘোষণা করে, এবং ট্রাম্পের নিজস্ব সামাজিক নেটওয়ার্কে পোস্টে উল্লেখ করা হয় যে গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্ব যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। ল্যান্ড্রি, ট্রাম্পের পোস্টের উত্তরে এক সামাজিক প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশে রূপান্তর করার কাজের জন্য প্রস্তুত।

ডেনমার্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের দূতকে শীঘ্রই ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে ডেকে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। রাসমুসেনের মতে, ডেনমার্কের স্বার্থ রক্ষা এবং ডেনমার্কের ভূখণ্ডিক অখণ্ডতা রক্ষার জন্য এই পদক্ষেপটি অপরিহার্য, এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ডেনমার্কের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করার আহ্বান জানিয়েছেন।

গ্রিনল্যান্ডের সম্পদ‑সমৃদ্ধ ভূখণ্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ বহু বছর ধরে প্রকাশিত হয়েছে। ট্রাম্প পূর্বে গ্রিনল্যান্ডের ভূগোলিক অবস্থান ও প্রাকৃতিক সম্পদের কারণে তা নিরাপত্তা ও কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেছেন এবং কখনও কখনও সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা উল্লেখ করে থাকেন। তবে ডেনমার্কের ন্যাটো মিত্র হিসেবে এই ধরনের হুমকি তার পার্টনারশিপকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য উদ্বেগের বিষয়।

ডেনমার্কের সরকারী দৃষ্টিকোণ থেকে, গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অংশ হিসেবে স্বীকৃত এবং এর স্বায়ত্তশাসনকে সম্মান করা হয়। যদিও গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসন রয়েছে, তবে আন্তর্জাতিক আইনে এটি ডেনমার্কের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই ট্রাম্পের ধারাবাহিক দাবি ও যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পদক্ষেপকে ডেনমার্কের সরকার অগ্রহণযোগ্য বলে চিহ্নিত করেছে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর প্রভাবের সম্ভাবনা নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেছে।

গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স‑ফ্রেডেরিক নিলসেনের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, ল্যান্ড্রির নিযুক্তি ডেনমার্কের অভ্যন্তরীণ বিষয়কে পরিবর্তন করে না এবং গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসনকে প্রভাবিত করে না। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিজস্ব জনগণের হাতে, এবং এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের অভ্যন্তরে কোনো পরিবর্তন ঘটবে না।

একটি জানুয়ারি মাসের মতামত জরিপে দেখা যায়, গ্রিনল্যান্ডের প্রায় ৫৭,০০০ বাসিন্দার অধিকাংশই ডেনমার্ক থেকে স্বাধীনতা অর্জনের পক্ষে, তবে তারা যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেনি। এই ফলাফলটি স্পষ্ট করে যে, গ্রিনল্যান্ডের জনগণ স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীনতার দিকে ঝুঁকছে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো একীভবনের ইচ্ছা নেই।

ভবিষ্যতে ডেনমার্কের পররাষ্ট্র নীতি কীভাবে গড়ে উঠবে তা এখনও অনিশ্চিত, তবে ডেনমার্কের সরকার স্পষ্টভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে ডেনমার্কের ভূখণ্ডিক অখণ্ডতা ও স্বায়ত্তশাসনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে আহ্বান জানাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে কোনো ব্যাখ্যা না পাওয়া পর্যন্ত, ডেনমার্কের কূটনৈতিক পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে, এবং এই বিষয়টি ন্যাটো মিত্রদের মধ্যে আলোচনার বিষয় হতে পারে।

৮৯/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: আল জাজিরা
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments