ইংল্যান্ডের টেস্ট ক্রিকেট দল অশেস সিরিজে তৃতীয় ম্যাচে পরাজিত হয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ৩-০ পিছিয়ে আছে। এই ফলাফল মাত্র এক সপ্তাহের বেশি সময়ে অর্জিত হয়েছে, যেখানে পার্থ, ব্রিসবেন এবং অ্যাডিলেডে অস্ট্রেলিয়ার দল ধারাবাহিকভাবে জয়লাভ করেছে। কোচ ব্রেনডন ম্যাককালাম, যিনি ২০২২ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দলকে নতুন আক্রমণাত্মক শৈলীতে গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন, এই পরিস্থিতি সত্ত্বেও তার পদে থাকবার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
ম্যাককালাম সিরিজকে তার ক্যারিয়ারের সর্ববৃহৎ চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করলেও, অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী পারফরম্যান্সের সামনে ইংল্যান্ডের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। পার্থ, ব্রিসবেন এবং অ্যাডিলেডে ধারাবাহিক পরাজয় দলকে শিরোপা ফিরে পাওয়ার স্বপ্ন থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। এখন কোচ এবং পুরুষ ক্রিকেটের ম্যানেজিং ডিরেক্টর রব কি উভয়েই দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি।
ম্যাককালাম জানিয়েছেন, তিনি নিজের কাজ চালিয়ে যেতে এবং এখন পর্যন্ত যে ভুলগুলো হয়েছে সেগুলো থেকে শিক্ষা নিতে চান। তিনি বলছেন, “আমি কাজটি চালিয়ে যাব, যা ঠিক হয়নি তা ঠিক করার চেষ্টা করব এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয় করব।” তার মতে, দলের ফলাফল নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া শেষ পর্যন্ত অন্যদের দায়িত্ব, নিজের নয়।
ইংল্যান্ডের ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে তার চুক্তি ২০২৭ সালের শেষ পর্যন্ত স্থায়ী, যার মধ্যে একই বছরের শুরুর দিকে অনুষ্ঠিত বাড়িতে অশেস সিরিজও অন্তর্ভুক্ত। যদিও চুক্তি দীর্ঘমেয়াদী, ম্যাককালাম স্বীকার করেন যে তার ভবিষ্যৎ শেষ পর্যন্ত বোর্ডের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। তিনি উল্লেখ করেন, “কখনো কখনো জয় না পাওয়া যায়, তখন সিদ্ধান্ত নেওয়া অন্যদের হাতে থাকে।”
কোচের কাজকে তিনি “একটি ভাল সুযোগ” এবং “মজা” হিসেবে বর্ণনা করেন, যেখানে তিনি এবং তার খেলোয়াড়রা বিশ্বজুড়ে ভ্রমণ করে উত্তেজনাপূর্ণ ক্রিকেট উপভোগ করেন। তিনি যোগ করেন, “দলকে সঙ্গে নিয়ে ভ্রমণ করা, উত্তেজনাপূর্ণ ক্রিকেট খেলা এবং কিছু লক্ষ্য অর্জন করা আমার জন্য আনন্দের বিষয়।” এই দৃষ্টিভঙ্গি তার কাজের প্রতি ইতিবাচক মনোভাবকে তুলে ধরে।
রব কি এবং ম্যাককালাম উভয়ই দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে। অস্ট্রেলিয়ার জয়লাভের পর ইংল্যান্ডের ভক্ত ও বিশ্লেষকরা কোচিং স্টাফের কৌশল ও প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। এই পরিস্থিতিতে দুজনেরই দায়িত্বের পরিমাণ বাড়ছে, কারণ দলকে পুনরুদ্ধার করার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন।
ম্যাককালামের পূর্বসূরি ক্রিস সিলভারউড চার বছর আগে ৪-০ পরাজয়ের পর পদত্যাগ করে ছিলেন। সেই সময়ের মতোই এখন ইংল্যান্ডের ক্রিকেট বোর্ডকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যা দলের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
ম্যাককালাম ২০২২ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দলকে “বেজবল” নামে পরিচিত একটি আক্রমণাত্মক শৈলীতে গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন, যেখানে বেন স্টোকসের ক্যাপ্টেনশিপের সঙ্গে মিলিয়ে খেলোয়াড়দের সাহসী ক্রিকেট খেলা উৎসাহিত করা হয়। তিনি বলেন, “আমরা এখনও চূড়ান্ত রূপে পৌঁছাইনি, তবে দলটি স্পষ্টভাবে উন্নতি করেছে।” এই উন্নতি দলকে একটি স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে।
ম্যাককালাম আরও উল্লেখ করেন, “আমরা যা সঠিক তা চিহ্নিত করি, এবং যা ভুল তা স্বীকার করি। অতিরিক্ত গর্ব না করে ভুলগুলো পুনরাবৃত্তি না করা গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি দলের আত্মবিশ্লেষণ ও ধারাবাহিক উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।
আগামী সময়ে ইংল্যান্ডের ক্রিকেট বোর্ডের দায়িত্ব হবে, কীভাবে এই সিরিজের পরবর্তী ম্যাচগুলো পরিচালনা করা হবে এবং শীঘ্রই ঘরে অনুষ্ঠিত অশেস সিরিজের প্রস্তুতি নেওয়া। নতুন চুক্তি এবং কোচের স্থায়িত্বের বিষয়গুলো দলকে পুনর্গঠন ও আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধারের মূল চাবিকাঠি হবে।
সারসংক্ষেপে, অশেস সিরিজে ধারাবাহিক পরাজয়ের পরও ব্রেনডন ম্যাককালাম তার কোচিং পদে অব্যাহত থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি নিজের কাজ চালিয়ে যাওয়ার এবং দলের ভুল থেকে শিখে উন্নতি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তবে শেষ সিদ্ধান্তের দায়িত্ব ইংল্যান্ডের ক্রিকেট কর্তৃপক্ষের হাতে রয়ে গেছে।



