ফিলাডেলফিয়ায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সেল বায়োলজি সম্মেলনে দক্ষিণ ডাকোটা মাইন্সের গবেষকরা ক্যান্সার কোষের গতি ও ইমিউন সিস্টেমের পারস্পরিক ক্রিয়া নিয়ে নতুন পর্যবেক্ষণ উপস্থাপন করেছেন। ফ্লুরোসেন্স মাইক্রোস্কোপি ব্যবহার করে রেকর্ড করা ভিডিওতে দেখা যায়, কিছু ক্যান্সার কোষ ইমিউন কোষের (ম্যাক্রোফেজ) আক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে দ্রুত নড়াচড়া করে। ফলে ম্যাক্রোফেজগুলো পুরো কোষকে গ্রাস করার পরিবর্তে কোষের প্রান্ত থেকে ছোট ছোট টুকরা খেয়ে ফেলে, যা শেষ পর্যন্ত ক্যান্সার কোষকে মুক্তি দেয়।
গবেষক দলের প্রধান লক্ষ্য ছিল ক্যান্সার কোষের গতি কীভাবে তাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়ায় তা বোঝা। প্রথম পর্যায়ে তারা বি-সেল লিম্ফোমা থেকে প্রাপ্ত ক্যান্সার কোষ ব্যবহার করে পরীক্ষা চালায়। কোষগুলোকে “খাওয়া-চিহ্ন” (eat‑me signal) যুক্ত একটি ওষুধ দিয়ে চিহ্নিত করা হয়, যা ম্যাক্রোফেজকে কোষকে লক্ষ্যবস্তু করতে সাহায্য করে। ম্যাক্রোফেজগুলোকে ছোট প্যাক‑ম্যানের মতো ক্যান্সার কোষকে গ্রাস করতে দেখা যায়, তবে সব কোষই সম্পূর্ণভাবে নিখুঁতভাবে গ্রাস হয় না।
একটি পরীক্ষায়, সাধারণত স্থির থাকা ক্যান্সার কোষটি হঠাৎ করে সক্রিয়ভাবে নড়তে শুরু করে এবং ম্যাক্রোফেজের আক্রমণ থেকে বাঁচে। গবেষকরা এই ঘটনাকে “কেন খাওয়া হয়নি?” প্রশ্নের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করেন। এরপর তারা দ্রুত নড়াচড়া করা লিউকেমিয়া কোষ ব্যবহার করে একই “খাওয়া-চিহ্ন” ওষুধ প্রয়োগ করে দেখেন, তবু ম্যাক্রোফেজগুলো পুরো কোষকে গ্রাস করতে সমস্যায় পড়ে।
ভিডিওতে দেখা যায়, ম্যাক্রোফেজগুলো ক্যান্সার কোষের বাইরের স্তর থেকে ছোট টুকরা খেয়ে ফেলে, ফলে কোষের উপর থাকা “খাওয়া-চিহ্ন” ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়। চিহ্নের অনুপস্থিতি কোষকে ইমিউন সিস্টেমের দৃষ্টিতে অদৃশ্য করে তুলতে পারে। গবেষকরা অনুমান করেন, কোষের চলাচল এই চিহ্নগুলোকে সরিয়ে নেয়ার একটি প্রক্রিয়া হিসেবে কাজ করে, যা ক্যান্সারকে ইমিউন সেল থেকে লুকিয়ে রাখে।
অধিকন্তু, যখন লিউকেমিয়া কোষকে এমন একটি ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করা হয় যা তাদের গতি সীমিত করে, তখন ম্যাক্রোফেজগুলো কোষকে সহজে গ্রাস করতে সক্ষম হয়। এই ফলাফল ইঙ্গিত করে যে ক্যান্সার কোষের গতি তাদের ইমিউন এড়ানোর মূল কৌশল হতে পারে, এবং গতি দমনকারী থেরাপি ইমিউন সেলকে ক্যান্সার ধ্বংসে সহায়তা করতে পারে।
এই গবেষণার ফলাফল ক্যান্সার চিকিৎসায় নতুন দৃষ্টিকোণ প্রদান করে। যদি ক্যান্সার কোষের গতি বাধা দেয়া যায়, তবে ইমিউন সিস্টেমের স্বাভাবিক কাজকে শক্তিশালী করে রোগীর জন্য আরও কার্যকর থেরাপি সম্ভব হতে পারে। ভবিষ্যতে গতি-নিয়ন্ত্রণকারী ওষুধের সংমিশ্রণ কীভাবে ক্লিনিক্যাল প্রয়োগে রূপ নেবে, তা নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
আপনার মতামত কী? ক্যান্সার কোষের গতি দমন করে ইমিউন থেরাপি উন্নত করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে আলোচনা করুন।



