ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের পুরব‑রাসুলপুর এলাকায় ১৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ১৫ বছর বয়সী রুমন নামের এক ছাত্রের ওপর ছুরি চালিয়ে মারধর করা হয়; আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রোগীকে তৎক্ষণাৎ আইসিইউতে ভর্তি করা হলেও আজ সকালে মঘবাজারের A‑One হাসপাতালের আইসিইউতে তার প্রাণ শেষ হয়।
রুমন তার বাবা জালাল ফকিরের সঙ্গে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা পরিবারে বসবাস করতেন; জালাল ফকির শারিয়াতপুরের জাজিরা উপজেলায় জন্মগ্রহণকারী রিকশা চালক। রুমন তার পরিবারে একমাত্র সন্তান এবং প্রতিবেশীদের কাছে পড়াশোনায় মনোযোগী ও শালীন ছেলেটি হিসেবে পরিচিত ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রুমনের সঙ্গে একটি বয়স্ক‑যুবক গোষ্ঠীর মধ্যে ছোটখাটো বিরোধের ফলে তর্কের উত্তাপে রুমনের বক্ষ ও হাতে ছুরি আঘাত হানেন। ঘটনাটি রাতের বেলা ঘটেছে এবং প্রতিবেশীরা তৎক্ষণাৎ পুলিশকে জানিয়ে তৎকালীন তদন্ত শুরু হয়। তর্কের মূল কারণটি এখনও স্পষ্ট না হলেও সূত্রগুলো এটিকে বয়সের পার্থক্য ও গোষ্ঠীর মধ্যে পুরোনো বিরোধের সঙ্গে যুক্ত বলে ইঙ্গিত করে।
পুলিশের মতে, ১৯ বছর বয়সী সাইফুল ইসলাম সাগর, উপনাম ওমিম, ওই তর্কের পর রুমনের বক্ষ ও হাতে ছুরি ঢেলে। সন্দেহভাজনকে স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তার পরিচয় অপরাধ রেকর্ডে পূর্বে নেই। সাইফুলের পরিচয় এবং তার গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে তদন্তের পরিধি সম্প্রসারিত করা হয়েছে।
কামরাঙ্গীরচর থানা থেকে সাব‑ইনস্পেক্টর মো. আবু বকর সিদ্দিকি জানান, ঘটনাস্থলে উপস্থিত গ্যাং সদস্যদের সঙ্গে দ্রুত তদন্ত চালু করা হয়েছে এবং অপরাধীর গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রাথমিক তদন্তে রুমনের ওপর আক্রমণটি বয়সের পার্থক্য ও গোষ্ঠীর মধ্যে পুরোনো বিরোধের ফলাফল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তকারী দল এখনো গোষ্ঠীর মধ্যে সম্ভাব্য সহায়তাকারী বা পরিকল্পনা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করছে।
আহত রুমনকে প্রথমে কামরাঙ্গীরচর ৩১‑বেড হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তার অবস্থা দ্রুত খারাপ হয়ে যায়; রক্তক্ষরণ এবং শ্বাসকষ্টের লক্ষণ দেখা দেয়। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়, তবে তার শারীরিক অবস্থা অবনতির ধারায় থাকে এবং রক্তচাপ শূন্যের কাছাকাছি নেমে যায়।
অবশেষে রুমনকে মঘবাজারের A‑One হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে চিকিৎসা সত্ত্বেও তার শ্বাস বন্ধ হয়ে যায় এবং রক্তচাপ শূন্যে নেমে যায়। রুমনের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তার দেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজের মরগে পাঠানো হয় অটোপ্সি করার জন্য। অটোপ্সি ফলাফল এবং মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো সরকারি মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি।
রুমনের পিতা রক্তপাতের পরপরই রাত্রে অপরাধের বিরুদ্ধে ‘প্রয়াসী হত্যাকাণ্ড’ অভিযোগ দায়ের করেন এবং পুলিশ দ্রুত অনুসন্ধান চালায়। একই দিনে সন্দেহভাজন সাইফুল ইসলাম সাগকে গ্রেফতার করা হয় এবং তাকে জেলখানিতে রাখা হয়। তার বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে ‘প্রয়াসী হত্যাকাণ্ডের’ অভিযোগ দায়



