দিল্লি, ২৩ ডিসেম্বর – বাংলাদেশ হাইকমিশন আজ তার নোটিশ বোর্ডে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানায় যে, অনিবার্য পরিস্থিতির কারণে হাইকমিশনের কনসুলার ও ভিসা সেবা অবিলম্বে স্থগিত করা হয়েছে এবং পুনরায় চালু হবে না এমন কোনো নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করা হয়নি। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই সিদ্ধান্তের ফলে সৃষ্ট অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।
এই পদক্ষেপের পূর্বে, দু-দিন দিন আগে, হাইকমিশনের সামনে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল প্রতিবাদে সমবেত হয়। অংশগ্রহণকারীরা ময়মনসিংহের গার্মেন্টস কর্মী দীপু চন্দ্র দাসের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়ে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সুরক্ষার দাবি তুলে ধরে। প্রতিবাদকারীরা নিরাপদ কূটনৈতিক অঞ্চলে প্রবেশের অনুমতি পেয়েছিল বলে কিছু সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে কয়েক মিনিটের মধ্যে দলকে বিচ্ছিন্ন করে।
বহু সূত্রে জানানো হয়েছে যে, বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে শনিবার সন্ধ্যায় প্রতিবাদকারীদের কাছ থেকে মৃত্যুদণ্ডের হুমকি পাওয়া গিয়েছিল। এই তথ্যের ভিত্তিতে, হাইকমিশনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করে সেবাসমূহ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রন্ধির জয়সওয়াল একই দিনে একটি মিডিয়া ব্রিফিংয়ে জানান যে, কোনো সময়ই নিরাপত্তা বেড়া লঙ্ঘনের কোনো প্রচেষ্টা করা হয়নি এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ দ্রুতই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। তিনি উল্লেখ করেন যে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
দিল্লিতে ঘটনার পর, চট্টগ্রামের ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র (IVAC)ও তার কার্যক্রম স্থগিত করেছে। কেন্দ্রের কর্মকর্তারা নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে বলেন যে, চট্টগ্রামের সহায়ক হাইকমিশনের (AHCI) সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে। একই সময়ে, ঢাকা, খুলনা ও সিলেটের IVAC গুলোও পূর্বে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে একদিনের জন্য আংশিকভাবে বন্ধ ছিল।
দুই দেশের হাইকমিশনারকে এই ঘটনায় ডাকা হয়েছে। উভয় পক্ষের কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক প্রোটোকল বজায় রাখতে অতিরিক্ত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
একজন বিশ্লেষক মন্তব্য করেন যে, সাম্প্রতিক তিনটি ঘটনার (দিল্লিতে প্রতিবাদ, চট্টগ্রামের নিরাপত্তা উদ্বেগ, এবং অন্যান্য শহরে IVAC বন্ধ) সমন্বয় একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের অংশ হতে পারে। তিনি বলেন, যদি এই ঘটনাগুলো একত্রে না ঘটত, তবে এত বড় আকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা কঠিন হতো। বিশ্লেষক আরও উল্লেখ করেন যে, এই ধরনের সমন্বিত পদক্ষেপের পেছনে রাজনৈতিক সমর্থন থাকতে পারে, যা কূটনৈতিক সম্পর্কের জটিলতা বাড়িয়ে তুলেছে।
দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কনসুলার ও ভিসা সেবা স্থগিতের ফলে বাংলাদেশে ভ্রমণ বা ব্যবসা করার ইচ্ছুক ভারতীয় নাগরিকদের জন্য অতিরিক্ত অসুবিধা সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে, ভারতীয় নাগরিকদের জন্য চট্টগ্রাম ও অন্যান্য শহরে ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত সময় ও প্রচেষ্টা প্রয়োজন হবে। নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে কূটনৈতিক মিশনগুলোতে প্রবেশের সীমাবদ্ধতা বাড়ার ফলে উভয় দেশের নাগরিক ও ব্যবসায়িক সংস্থাগুলোর উপর প্রভাব পড়বে।
এই পরিস্থিতি কূটনৈতিক সংলাপের গুরুত্বকে আবারও তুলে ধরেছে। উভয় দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কূটনৈতিক সেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ভবিষ্যতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত হলে, কনসুলার ও ভিসা সেবা পুনরায় চালু করার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে তা নির্ভর করবে নিরাপত্তা সংক্রান্ত মূল্যায়ন ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ফলাফলের ওপর।
দিল্লিতে এই ঘটনার পর, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা কূটনৈতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা এবং প্রতিবাদ ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় কূটনৈতিক মিশনের প্রস্তুতি সম্পর্কে প্রশ্ন তুলছেন। এই বিষয়গুলো সমাধানের জন্য উভয় দেশের কূটনৈতিক মিশন ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সমন্বিত কাজের প্রয়োজন হবে।



