ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের পর নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়ন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০ জনকে গানম্যান প্রদান করেছে। তালিকায় এনসিপির শীর্ষ নেতা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব অন্তর্ভুক্ত। নিরাপত্তা সংক্রান্ত কমিটির বৈঠকের পর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়ে দেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, এখন পর্যন্ত ২০ জনকে গানম্যান দেওয়া হয়েছে, তবে রাজনৈতিক ব্যক্তিরা কি গানম্যান পেয়েছেন—এ বিষয়ে তিনি কোনো বিশদ তথ্য প্রকাশ করেননি। ডিএফআই, এনএসআই, এসবিসি সহ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের একটি তালিকা প্রস্তুত করেছিল, যার মধ্যে অনেককে গানম্যান প্রদান করা হয়েছে। তবে কিছু ব্যক্তি নিরাপত্তা সরঞ্জাম গ্রহণে অনিচ্ছা প্রকাশ করে।
তালিকায় অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা নামেও উল্লেখ রয়েছে।
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর এবং সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানও গানম্যান পেয়েছেন, যা দলীয় পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। নিরাপত্তা চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেশ কয়েকজন রাজনীতিবিদ ও সংসদ সদস্য প্রার্থীও গানম্যান ও অস্ত্র লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছেন।
জামায়াতে ইসলামী দলের আমির শফিকুর রহমানের জন্য সার্বক্ষণিক গানম্যান এবং বাসভবনের নিরাপত্তার জন্য সশস্ত্র পুলিশ সদস্যের ব্যবস্থা চাওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা চাহিদা প্রকাশকারী অন্যান্য ব্যক্তির মধ্যে জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব ইউনুস আহম্মেদ সেখ অন্তর্ভুক্ত।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পেছনে মূল লক্ষ্য হল হুমকি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করা, যাতে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশে অস্থিরতা না বাড়ে। গানম্যানের পাশাপাশি নিরাপত্তা গার্ড, গাড়ি এবং অস্ত্র লাইসেন্সের আবেদনগুলোও যথাযথ পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে।
গানম্যান পাওয়া ব্যক্তিরা এখন থেকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো হুমকি মোকাবেলায় অতিরিক্ত সুরক্ষা পাবেন বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো উল্লেখ করেছে, কিছু প্রার্থী নিরাপত্তা সরঞ্জাম গ্রহণে অনিচ্ছুক, ফলে তাদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে।
এই নিরাপত্তা তালিকা ও আবেদন প্রক্রিয়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা নীতি ও প্রোটোকল অনুসারে পরিচালিত হচ্ছে। তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিত্বকারী হওয়ায় এই পদক্ষেপের রাজনৈতিক প্রভাবও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, গানম্যানের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে, তবে একই সঙ্গে নিরাপত্তা সরঞ্জামের অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ে প্রশ্নও উত্থাপিত হতে পারে। ভবিষ্যতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কীভাবে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্প্রসারিত বা সংশোধন করবে, তা রাজনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ বিষয় হবে।
গানম্যানের বিতরণ ও নিরাপত্তা আবেদন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিরাপত্তা সংক্রান্ত আপডেট পেতে থাকবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে অগ্রসর রয়েছে।
এই পদক্ষেপের পরবর্তী ধাপ হিসেবে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো অতিরিক্ত ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে নতুন আবেদনকারীদের তালিকায় যুক্ত করা বা বিদ্যমান তালিকাকে আপডেট করার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজনৈতিক পরিবেশের পরিবর্তন ও নিরাপত্তা চাহিদার ভিত্তিতে এই তালিকা নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে।



