রাংপুর রাইডার্সের নতুন প্রধান কোচ মিকি আর্থার আজই দলকে যোগদান করে প্রথম কাজ হিসেবে বাসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতে একটি প্রশিক্ষণ ম্যাচের তদারকি করেন। এই ম্যাচটি রাইডার্সের হোম গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হয় এবং দলকে আসন্ন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) মৌসুমের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। আর্থারকে দলকে গঠন ও কৌশল নির্ধারণে ব্যস্ত একটি দিন কাটাতে হয়, যেখানে তিনি খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ করেন।
প্রশিক্ষণ ম্যাচে রাইডার্সের বিপক্ষে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ১৮.১ ওভারে ১৩৬ রানের লক্ষ্য পূরণ করে ৫ উইকেটের মধ্যে চূড়ান্ত স্কোরে পৌঁছায়। রাজশাহী দলের শীর্ষ স্কোরার নাজমুল হোসেন শান্তো ৩৪ রান তৈরি করেন, আর তানজিদ তামিম ২২ বলে ৩১ রান যোগ করেন। উভয়ই দ্রুতগতির আউটিং দিয়ে রাইডার্সের রক্ষার চাপ বাড়িয়ে দেন।
রাইডার্সের ব্যাটিং দিক থেকে ইফতেখার ইফতি ৪৫ বলে ৫৮ রান করে দলকে স্থিতিশীলতা প্রদান করেন, আর তাওহিদ হ্রিদয় ১৯ বলে ২৬ রান করে দ্রুত গতি যোগান। তবে লিটন দাস ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ এই প্রশিক্ষণ ম্যাচে অংশ নেননি, যা দলের মূল শটের অভাবকে নির্দেশ করে। তাদের অনুপস্থিতি কোচের জন্য নির্বাচন সংক্রান্ত নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করে।
মিকি আর্থার প্রশিক্ষণ শেষে বললেন, তিনি প্রতিবার এই মাঠে ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গে আরও বেশি তরুণ প্রতিভা আবিষ্কার করেন, যা দেশের ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের তরুণ খেলোয়াড়দের দক্ষতা এবং সম্ভাবনা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের অবস্থানকে শক্তিশালী করবে।
দল গঠনের ব্যাপারে আর্থার জানান, লিটন দাস, ড্যাভিড মালান এবং কাইল মেয়ার্সের মতো আন্তর্জাতিক স্তরের খেলোয়াড়দের উপস্থিতি রাইডার্সকে প্রতিপক্ষের ওপর কৌশলগত সুবিধা দেয়। এই বহুমুখী দল গঠন কোচকে বিভিন্ন ম্যাচের শর্ত, পিচের ধরন এবং প্রতিপক্ষের শক্তি অনুযায়ী সঠিক সংমিশ্রণ বেছে নিতে সক্ষম করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিদেশি ও দেশীয় উভয় খেলোয়াড়েরই একমাত্র লক্ষ্য হল পারফরম্যান্সের মাধ্যমে জয় অর্জন করা।
এই প্রশিক্ষণ ম্যাচের ফলাফল কোচকে দলীয় গভীরতা নিয়ে ইতিবাচক ধারণা দেয়, তবে একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে তরুণ খেলোয়াড়দের সঙ্গে অভিজ্ঞ বিদেশি খেলোয়াড়দের সমন্বয় কীভাবে সর্বোত্তম করা যায় তা এখনও একটি চ্যালেঞ্জ। রাইডার্সের পরবর্তী বিপিএল ম্যাচগুলোতে এই সংমিশ্রণ পরীক্ষা করার সুযোগ পাবেন, যেখানে কোচের নির্বাচন নীতি এবং কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে।
সারসংক্ষেপে, মিকি আর্থারের নেতৃত্বে রাইডার্সের প্রস্তুতি ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে, যেখানে তরুণ প্রতিভা এবং অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়দের সমন্বয় দলকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। দলটি এখন আসন্ন বিপিএল সিজনের জন্য কৌশল নির্ধারণে মনোযোগী, এবং প্রশিক্ষণ ম্যাচে দেখা পারফরম্যান্স ভবিষ্যৎ ম্যাচের জন্য আশাব্যঞ্জক সূচক হিসেবে কাজ করবে।



