কেরালা রাজ্যের পালাক্কাড় জেলার এক হিন্দু শ্রমিকের ওপর গৃহীত হিংসাত্মক আক্রমণের পর তার মৃত্যু ঘটেছে। ৩১ বছর বয়সী রামনারায়ণ বঘেল, ছত্তীসগড়ের শক্তি জেলার বাসিন্দা, কাজের জন্য পালাক্কাড়ে আসা ছিলেন এবং তার দুইটি সন্তান, আট ও দশ বছর বয়সী, তার সঙ্গে ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রামনারায়ণকে গোষ্ঠীভুক্ত হিংসা গোষ্ঠীর সদস্যরা ‘বাংলাদেশি সন্দেহে’ লক্ষ্যবস্তু করে মারধর করে শেষ পর্যন্ত তার প্রাণহানি ঘটায়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, আক্রমণকারীদের মধ্যে কিছু ব্যক্তি রাশিয়ান সানস্টার (RSS) সংগঠনের সদস্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে পূর্বে বিভিন্ন ফৌজদারি মামলার রেকর্ড রয়েছে। কেরালার বাম শাসন দল ঘটনাটিকে ‘ঘৃণার রাজনীতি’ ও ‘জাতিগত বিদ্বেষের’ উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
পালাক্কাড়ের সিপিএম নেতা ও রাজ্যের মন্ত্রী এম.বি. রাজেশ ঘটনাটির পর প্রকাশ্যে মন্তব্য করে বলেন, “এই শ্রমিকের ওপর গোষ্ঠীভুক্ত হিংসা ও জাতিগত বিদ্বেষের আক্রমণ ঘটেছে। বাংলাদেশি সন্দেহে তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয় এবং আক্রমণকারীদের মধ্যে RSS কর্মীরাও অন্তর্ভুক্ত।” তিনি আরও যোগ করেন যে, এই ধরনের অপরাধের জন্য আইনি ব্যবস্থা কঠোরভাবে নেওয়া হবে।
স্থানীয় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফাস্ট‑ইনফরমেশন রিপোর্ট (FIR) দাখিল করেছে। তদন্তের অধীনে, গৃহীত হিংসা গোষ্ঠীর সদস্যদের গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি প্রক্রিয়া চালু করা হবে। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, গৃহীত হিংসা গোষ্ঠীর সদস্যদের সঙ্গে সংযুক্ত রেকর্ড ও পটভূমি যাচাই করা হচ্ছে, যাতে অপরাধের প্রকৃত দায়িত্ব নির্ধারণ করা যায়।
রামনারায়ণের দেহকে বিমানে করে ছত্তীসগড়ে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে পরিবারকে শেষ বিদায় জানাতে পারে। কেরলা সরকার রামনারায়ণ বঘেলের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা হিসেবে দশ লক্ষ টাকা প্রদান করার ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়াও, সরকার দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি শাস্তি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এধরনের হিংসা রোধ করা যায়।
এই ঘটনার পর, কেরলার শাসন দল এবং কেন্দ্রীয় সরকার উভয়ই হিংসা বিরোধী কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারও এই ঘটনার পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে হিংসা বিরোধী নীতি প্রয়োগের পরিকল্পনা করছে।
সামাজিক সংস্থা ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোও এই ঘটনার প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করে, তারা হিংসা ও ঘৃণার বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য তৎপরতা দাবি করে। বিশেষ করে, হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক সহাবস্থান বজায় রাখতে এবং জাতিগত বৈষম্য দূর করতে সামাজিক সংস্থা গুলো বিভিন্ন কর্মসূচি চালু করার পরিকল্পনা করেছে।
এই ঘটনার তদন্ত এখনও চলমান, এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আপডেট পাওয়া পর্যন্ত এই হিংসা ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়িত্ব নির্ধারণের জন্য তদন্তের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।
কেসটি বর্তমানে কেরলা পুলিশ ও কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার তত্ত্বাবধানে রয়েছে, এবং আদালতে প্রমাণ উপস্থাপনের পর দোষী সাব্যস্ত হলে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। রামনারায়ণ বঘেলের পরিবার এখনো শোকাহত, তবে সরকারী আর্থিক সহায়তা ও আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা চলমান।



