রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর ও দুই প্রো-ভিসেলর আজ ছয়টি ফ্যাকাল্টির সাময়িক দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন। এটি ঘটে যখন ছয়জন ডিন একসাথে পদত্যাগ করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোতে পরিবর্তন আনা হয়।
অ্যাক্টিং রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. ইফতিখারুল আলম মাসুদ আজই নিশ্চিত করেন যে ডিনদের পদত্যাগের পর ফ্যাকাল্টিগুলোর দায়িত্ব তাত্ক্ষণিকভাবে ভি-সি ও প্রো-ভি-সিগুলোর হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে এই ব্যবস্থা অস্থায়ী এবং নতুন ডিনের নিয়োগ পর্যন্ত চলবে।
ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. সেলাহ হসান নাকিব বিজ্ঞান ও প্রকৌশল ফ্যাকাল্টির তত্ত্বাবধান করবেন। উভয় ফ্যাকাল্টি দেশের শীর্ষস্থানীয় গবেষণা ও শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত, তাই তার দায়িত্বের গুরুত্ব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন ব্যবসা ও আইন ফ্যাকাল্টির দায়িত্বে নিয়োজিত হবেন। এই দুই ফ্যাকাল্টি শিক্ষার্থীদের পেশাগত প্রশিক্ষণ ও আইনি শিক্ষা প্রদান করে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মূল স্তম্ভ।
প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মো. ফারিদ উদ্দিন খান সমাজবিজ্ঞান ও ভূবিজ্ঞান ফ্যাকাল্টির তত্ত্বাবধান নেবেন। উভয় ফ্যাকাল্টি মানবিক ও প্রাকৃতিক বিজ্ঞান ক্ষেত্রে গবেষণা ও পাঠ্যক্রমের জন্য দায়ী।
ডিন পদত্যাগের পেছনে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ছাত্রগণ দাবি করেন যে ডিনদের নেতৃত্বে শিক্ষার গুণগত মান হ্রাস পাচ্ছিল এবং তারা তাদের পদ থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
প্রতিবাদে রুকসু (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়ন) সাধারণ সম্পাদক সালাহুদ্দিন আম্মার নেতৃত্ব দেন। তিনি এবং তার সমর্থকরা ডিনদের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবি জানিয়ে ক্যাম্পাসে প্রতিবাদমূলক শিবির গঠন করেন।
ডিনদের রাজনৈতিক সংযোগের কথাও উঠে এসেছে; ছয়জন ডিনকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত বলে অভিযোগ করা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি, তবে এটি শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন জানিয়েছে যে নতুন ডিনের নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুততর করা হবে, তবে তা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান অস্থায়ী ব্যবস্থাই কার্যকর থাকবে। এই সময়ে শিক্ষার্থীদের কোনো শিক্ষাগত ক্ষতি না হয় তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের অগ্রাধিকার।
ফ্যাকাল্টি স্তরে শিক্ষাদান, পরীক্ষার সময়সূচি ও গবেষণা কার্যক্রম চলমান থাকবে। অস্থায়ী দায়িত্বপ্রাপ্তরা নিশ্চিত করেছেন যে পাঠ্যক্রমে কোনো পরিবর্তন না করে নিয়মিত ক্লাস চালু থাকবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল নোটিশে শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করা হয়েছে যে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ও অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি মাধ্যমে সর্বশেষ তথ্য অনুসরণ করুন। এভাবে কোনো গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন বা সময়সূচি পরিবর্তন সম্পর্কে দ্রুত জানানো সম্ভব হবে।
শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ব্যবহারিক পরামর্শ: ক্যাম্পাসে চলমান কোনো কার্যক্রম বা নীতি পরিবর্তন সম্পর্কে সন্দেহ হলে সরাসরি ফ্যাকাল্টি অফিসে যোগাযোগ করুন এবং অফিসিয়াল নথি সংগ্রহ করুন। এভাবে তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করে শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা যাবে।



