ফোল্ডেবল স্মার্টফোনের বাজার প্রায় দশ বছর আগে থেকেই গড়ে উঠছে। ২০১৯ সালে প্রথম দেখা মডেলটি, যা স্যামসাং গ্যালাক্সি ফোল্ডের আগের সংস্করণ, তখনো বেশ অগোছালো এবং হিঞ্জে ধুলো‑পানি প্রবেশের সমস্যায় ভুগছিল। তবু ছোট এক্সটার্নাল স্ক্রিন এবং ট্যাবলেটের মতো বড় অভ্যন্তরীণ স্ক্রিনের সমন্বয় ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির সম্ভাবনা দেখিয়েছিল।
এরপর স্যামসাং ধারাবাহিক আপডেটের মাধ্যমে ফোল্ডেবল ফোনের গুণগত মান বাড়াতে শুরু করে। জেড ফোল্ড ৩-এ জলরোধী ক্ষমতা এবং এস পেন সাপোর্ট যুক্ত করা হয়, যা ব্যবহারকারীর কাজের পরিসরকে বিস্তৃত করে। জেড ফোল্ড ৫-এ দুইটি স্ক্রিনের মধ্যে থাকা ফাঁকটি সম্পূর্ণভাবে দূর করা হয়, ফলে ডিভাইসের দৃঢ়তা এবং ব্যবহারিকতা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়।
একই সময়ে ওয়ানপ্লাস, গুগল এবং চীনের অপ্পো, শাওমি ইত্যাদি ব্র্যান্ডগুলোও ফোল্ডেবল সেক্টরে প্রবেশ করে, ফলে ডিজাইন ও সফটওয়্যারের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা তীব্র হয়। এই প্রতিযোগিতা বাজারকে দ্রুত অগ্রসর করতে সাহায্য করে এবং ব্যবহারকারীর চাহিদা অনুযায়ী নতুন ফিচার যুক্ত হয়।
২০২৫ সালে গুগলের পিক্সেল ১০ প্রো ফোল্ড উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নিয়ে আসে। যদিও বাহ্যিক আকারে বড় পরিবর্তন না আনা হয়, তবে এই মডেলটি IP68 রেটিং পায়, যা ধূলিকণা ও পানির প্রবেশ থেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষা দেয়। হিঞ্জের জটিল গঠন থাকা সত্ত্বেও এই সুরক্ষা ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন ব্যবহারে বড় স্বস্তি এনে দেয়, বিশেষ করে যখন ডিভাইসের ভিতরে ধূলিকণা বা ছোট কণিকা প্রবেশের ঝুঁকি থাকে।
সামসাং একই বছর জেড ফোল্ড ৭ চালু করে, যা ঐতিহ্যবাহী গ্লাস-স্ল্যাব ফোনের আকার ও ওজনের সমান। ৮ ইঞ্চি বড় অভ্যন্তরীণ ডিসপ্লে থাকা সত্ত্বেও ডিভাইসের মোট ভর এবং পুরুত্ব প্রায় ঐতিহ্যবাহী স্মার্টফোনের মতোই, ফলে ব্যবহারকারীরা ফোল্ডেবল ফোনকে অতিরিক্ত ভারী বা অস্বস্তিকর হিসেবে আর গণ্য করে না। এই মডেলটি ফোল্ডেবল প্রযুক্তিকে মূলধারার স্মার্টফোনের সঙ্গে সমন্বিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়।
ফোল্ডেবল ফোনের সব প্রধান প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধান হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও, দাম এখনও একটি বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে। উচ্চমানের হিঞ্জ, ডায়নামিক AMOLED প্যানেল এবং IP68 রেটিংসহ উন্নত ফিচার যুক্ত ডিভাইসের উৎপাদন খরচ বেশি, ফলে বাজারে বিক্রয়মূল্যও প্রিমিয়াম স্তরে থাকে। ফলে সাধারণ ভোক্তাদের জন্য এই ডিভাইসগুলো এখনও সাশ্রয়ী নয়।
সারসংক্ষেপে, ফোল্ডেবল স্মার্টফোনের প্রযুক্তিগত দিক থেকে এখন পর্যন্ত দেখা সবচেয়ে বড় অগ্রগতি হয়েছে। হিঞ্জের দৃঢ়তা, জলরোধী ক্ষমতা, স্লিক ডিজাইন এবং প্রচলিত ফোনের সমান আকারে পৌঁছানো—all these milestones have been achieved. তবে দামকে কমিয়ে সাধারণ ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছাতে হলে উৎপাদন প্রক্রিয়া ও উপাদানের খরচে আরও সাশ্রয়ী সমাধান দরকার। ভবিষ্যতে যদি এই দিকটি সমাধান হয়, তবে ফোল্ডেবল ফোনের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিতভাবে বাড়বে।



