ঢাকা মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামান সোমবার প্রথম আলোর অফিসে ঘটিত ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মামলায় ১৫ জন অভিযুক্তের জামিনের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে জেলে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালতে উপস্থিত তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার পরিদর্শক আবদুল হান্নান মামলার মূল তথ্য উপস্থাপন করেন।
হামলা বৃহস্পতিবার রাতেই ঘটেছে, যখন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর প্রথম আলোর এবং দ্য ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে অগ্নিকাণ্ড, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। গৃহস্থালির জানালার কাঁচ ভেঙে, ডেস্ক ও ফাইলের ওপর আগুন লাগানো হয়, এবং কিছু মূল্যবান সামগ্রী চুরি করা হয়।
রোববার রাতে তেজগাঁও থানায় প্রথম আলোর মামলায় প্রাথমিক তদন্তের অংশ হিসেবে ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। এই তালিকায় বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা অন্তর্ভুক্ত ছিল, যাদের মধ্যে কিছুই পরে গ্রেফতার করা হয় না। তালিকাভুক্তদের মধ্যে থেকে ১৫ জনকে শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের নাম হল: নাইম ইসলাম, সাগর ইসলাম, আহাদ শেখ, বিপ্লব, নজরুল ইসলাম (মিনহাজ নামে পরিচিত), জাহাঙ্গীর, সোহেল মিয়া, হাসান, মোহাম্মদ রাসেল, আব্দুল বাকের শেখ (আলামিন নামে পরিচিত), রাশেদুল ইসলাম, সাইদুর রহমান, আবুল কাশেম, প্রান্ত সিকদার এবং রাজু আহমেদ। এই অভিযুক্তরা বিভিন্ন থানা ও জেল থেকে গৃহবন্দী করা হয়।
সোমবার আদালতে উপস্থিত হয়ে তেজগাঁও থানার পরিদর্শক আবদুল হান্নান তাদের জেল শাস্তি নিশ্চিত করার আবেদন করেন। অভিযুক্ত বিপ্লব ও হাসানের পক্ষে আইনজীবী হোসেন আহামাদ এবং বাকি অভিযুক্তদের পক্ষে আইনজীবী এমদাদউল্লাহ মোল্লাহ ও মো. আব্দুল্লাহ জামিনের আবেদন করেন।
রাষ্ট্রপক্ষ থেকে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী জামিনের বিরোধিতা করেন এবং অভিযুক্তদের জেল শাস্তি বজায় রাখার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। উভয় পক্ষের যুক্তি শোনার পর বিচারক জামিনের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে অভিযুক্তদেরকে জেলে পাঠানোর আদেশ দেন।
বিচারকের রায়ের পরপরই অভিযুক্তদেরকে জেলখানায় স্থানান্তর করা হয়। আদালত নির্দেশ দেয় যে, পরবর্তী শুনানিতে মামলার অতিরিক্ত প্রমাণ ও সাক্ষী বিবেচনা করা হবে এবং তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী অতিরিক্ত অভিযুক্তদেরও তালিকাভুক্ত করা হতে পারে।
প্রতিবেদন অনুসারে, এই ঘটনার পর পুলিশ নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত গার্ড ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছে। এছাড়া, সংবাদমাধ্যমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
প্রথম আলোর প্রকাশনা সংস্থা এই ঘটনার পর কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন কোনো হিংসাত্মক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখবে।
মামলাটি এখনও চলমান এবং পরবর্তী আদালত তারিখে অতিরিক্ত সাক্ষী ও প্রমাণ উপস্থাপিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তদন্তকারী সংস্থা ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত ফোরেন্সিক প্রমাণ, গৃহীত ভিডিও রেকর্ডিং এবং সাক্ষ্য সংগ্রহের মাধ্যমে অপরাধের প্রকৃত দায়িত্ব নির্ধারণে কাজ চালিয়ে যাবে।



