27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাকৃষক ফসলের বীমা আইন সংশোধনের উদ্যোগ ও চ্যালেঞ্জ

কৃষক ফসলের বীমা আইন সংশোধনের উদ্যোগ ও চ্যালেঞ্জ

ঢাকার পল্টনে ইকোনোমিক রিপোর্টার্স ফোরামের আয়োজিত কর্মশালায় বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এর চেয়ারম্যান এম. আসলাম আলম কৃষক ফসলকে বীমার আওতায় আনার জন্য সরকার আইন সংশোধনের পরিকল্পনা চালু করেছে বলে জানালেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রতি বছর গৃহস্থালি ও কৃষিকাজে বড় ক্ষতি হচ্ছে, ফলে টেকসই বীমা ব্যবস্থা ও সামাজিক সুরক্ষার প্রয়োজন তীব্রতর হয়েছে।

আইডিআরএ এর খসড়া আইনের ভিত্তিতে ‘জলবায়ু ঝুঁকি বীমা’ নীতিমালা তৈরির কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। এই নীতিমালার মূল উদ্দেশ্য হল প্রচলিত ক্ষতি-ভিত্তিক বীমা থেকে সরে গিয়ে প্যারামেট্রিক বা আবহাওয়াভিত্তিক বীমা মডেল গ্রহণ করা, যা ভবিষ্যৎ ঝুঁকির পূর্বাভাসের ওপর ভিত্তি করে পেমেন্ট নির্ধারণ করে। বর্তমানে বাংলাদেশে এমন কোনো আইনি কাঠামো নেই, তাই নীতিমালা অনুমোদিত হলে প্রথমবারের মতো এই ধরনের বীমা বৈধতা পাবে।

আসলাম আলমের মতে, ফসলের বীমা কার্যকর করতে কয়েকটি কাঠামোগত বাধা অতিক্রম করতে হবে। প্রথমত, দেশের আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্যভাণ্ডার যথেষ্ট শক্তিশালী নয়; তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, বন্যা ইত্যাদির সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যানের অভাব রয়েছে। দ্বিতীয়ত, তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও বীমা পণ্য তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও দক্ষতা সীমিত। তৃতীয়ত, কৃষি, জলবায়ু, পানি উন্নয়ন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ministries এর মধ্যে সমন্বয় প্রক্রিয়া জটিল এবং ধীরগতি সম্পন্ন।

বাজারের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, আবহাওয়া সূচকভিত্তিক বীমা চালু হলে বীমা শিল্পে নতুন পণ্য ও সেবা তৈরি হবে, যা কৃষকদের ঝুঁকি হ্রাসে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে, মাইক্রোইনস্যুরেন্সের কাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে দরিদ্র কৃষকগোষ্ঠীর আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি পাবে। এই ধরনের পণ্য ব্যাংক ও বীমা সংস্থার জন্য নতুন আয়ের উৎস খুলে দেবে, বিশেষ করে গ্রামীণ আর্থিক সেবা বাজারে।

আইডিআরএ, আবহাওয়া অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড, কৃষি মন্ত্রণালয় ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি সমন্বিত কাঠামো গঠন করা হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে বহু সংস্থার অংশগ্রহণের ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব ও অপ্রয়োজনীয় জটিলতা দেখা দিতে পারে, যা প্রকল্পের বাস্তবায়নকে ধীর করে। এই সমস্যার সমাধানে একক সংস্থা বা সমন্বিত টাস্কফোর্সের মাধ্যমে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে।

বীমা আইন সংস্কারের অংশ হিসেবে দরিদ্র কৃষকদের জন্য মাইক্রোইনস্যুরেন্স ফ্রেমওয়ার্ক এবং ক্লাইমেট রিস্ক ইনস্যুরেন্স (সিআরআই) গাইডলাইন প্রস্তুত করা হচ্ছে। এই গাইডলাইনগুলোতে প্যারামেট্রিক বীমার পেমেন্ট শর্ত, ডেটা সংগ্রহের পদ্ধতি এবং ঝুঁকি মূল্যায়নের মানদণ্ড নির্ধারিত হবে। একবার নীতিমালা অনুমোদিত হলে, বীমা সংস্থাগুলোকে নির্দিষ্ট সূচকের ভিত্তিতে পেমেন্ট করতে হবে, যা ক্ষতির পরিমাণের বদলে পূর্বনির্ধারিত মানদণ্ডের ওপর নির্ভরশীল।

বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপ্রবণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশে শীতের স্থায়িত্ব কমে ১৫ দিন, যা ফসলের চাষাবাদ ও গৃহস্থালির জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। অতিরিক্ত গরম, অতি বৃষ্টিপাত ও তীব্র বাতাসের পরিবর্তনও ফসলের উৎপাদনকে হুমকির মুখে ফেলছে। এসব পরিবর্তনকে বিবেচনা করে বীমা পণ্য তৈরি করলে কৃষকরা অপ্রত্যাশিত ক্ষতির মুখে আর্থিক সুরক্ষা পাবে।

বাজার বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদি প্যারামেট্রিক বীমা কার্যকরভাবে চালু হয়, তবে আগামী পাঁচ বছরে কৃষক বীমা বাজারে ২০-৩০ শতাংশের বৃদ্ধি হতে পারে। এই বৃদ্ধির ফলে বীমা সংস্থাগুলোকে নতুন ডেটা অ্যানালিটিক্স প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগ করতে হবে, যাতে সূচকভিত্তিক পেমেন্টের সঠিকতা নিশ্চিত করা যায়। একই সঙ্গে, ডেটা সংগ্রহের জন্য স্যাটেলাইট ও রিমোট সেন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে তথ্যের গুণগত মান উন্নত করা সম্ভব হবে।

অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, ফসলের বীমা ব্যবস্থা স্থাপনের মাধ্যমে কৃষক ঋণগ্রহণের ঝুঁকি কমবে, ফলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কৃষি ঋণ প্রদান সহজ হবে। ফলে কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং রপ্তানি সম্ভাবনা উন্নত হবে। তবে, বীমা প্রিমিয়াম নির্ধারণে সঠিক ঝুঁকি মূল্যায়ন না হলে প্রিমিয়াম অতিরিক্ত হতে পারে, যা দরিদ্র কৃষকদের জন্য বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তাই মাইক্রোইনস্যুরেন্সের কাঠামোতে প্রিমিয়াম সাবসিডি বা সরকারী সহায়তা অন্তর্ভুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ।

সারসংক্ষেপে, সরকার ফসলের বীমা আইন সংশোধনের মাধ্যমে জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলার নতুন দিক তৈরি করতে চাচ্ছে, তবে তথ্যভাণ্ডার, প্রযুক্তি ও সংস্থার সমন্বয় ইত্যাদি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। এই চ্যালেঞ্জগুলো সমাধান হলে বীমা শিল্পের নতুন বাজার উন্মোচিত হবে এবং কৃষকরা আর্থিক নিরাপত্তা পাবে।

ভবিষ্যতে, যদি প্যারামেট্রিক বীমা নীতি দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, তবে বাংলাদেশের কৃষি খাতের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা উন্নত হবে, আর বীমা সংস্থাগুলোর ব্যবসা মডেলও পরিবর্তিত হবে। তবে এই প্রক্রিয়ার সাফল্য নির্ভর করবে ডেটা গুণমান, সংস্থার সমন্বয় এবং সরকারী সহায়তার ওপর।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments