প্রাক্তন পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ ও তার পারিবারিক সম্পদ দুদক (দুর্নীতি দমন কমিশন) দ্বারা বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং আদালতের আদেশ অনুসারে প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিলে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই পদক্ষেপটি ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজের রায়ের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে, যেখানে সম্পদের অবৈধতা প্রমাণিত হওয়ার পর তা জনসাধারণের কল্যাণে ব্যবহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের আদেশে গুলশান‑১ এলাকার র্যাংকন আইকন টাওয়ারে বেনজীরের নামে নিবন্ধিত চারটি ফ্ল্যাট (১২/এ, ১২/বি, ১৩/এ, ১৩/বি) বাজেয়াপ্ত করা হয়। এছাড়া ফ্ল্যাটের ভিতরে সংরক্ষিত পচনশীল সামগ্রী, ব্যবহারিক ও অপ্রয়োজনীয় কাপড়-চোপড়, তৈজসপত্র এবং রান্নাঘরের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালত নিলামযোগ্য মালামালের নমুনা সংরক্ষণ করে অবশিষ্ট সম্পদকে ত্রাণ তহবিলে জমা দিতে আদেশ দেয়।
বন্দী করা সামগ্রীর তালিকায় শার্ট‑প্যান্ট, লুঙ্গি‑গেঞ্জি, ওড়না‑শাড়ি, জুতা‑অন্তর্বাস, কাঁথা‑বালিশ, টিভি, ওভেন, ডিশওয়াশার, ওয়াশার, রান্নাঘরের হাড়িকুড়ি, থালা‑গ্লাস, পাটা‑পুতা এবং মশা মারার ব্যাটসহ নানা গৃহস্থালি জিনিসপত্র অন্তর্ভুক্ত। এসব জিনিসপত্রের মধ্যে কিছু পচনশীল হওয়ায় আদালত নমুনা সংরক্ষণ করে অবশিষ্ট অংশকে ত্রাণ তহবিলে স্থানান্তর করার নির্দেশ দেয়।
বেনজীর আহমেদ বাংলাদেশের প্রথম পুলিশ প্রধান হিসেবে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর অবসর গ্রহণ করেন। তিনি এক সময় ঢাকা মহানগর পুলিশ ও র্যাব (র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন) উভয়ের প্রধান ছিলেন। তার দীর্ঘ সেবা শেষে অবসর নেওয়ার পরেও তার সম্পদের ওপর বিভিন্ন অভিযোগ উঠে আসে।
২০২৪ সালের ৩১ মার্চ দৈনিক কালের কণ্ঠ “বেনজীরের ঘরে আলাদীনের চেরাগ” এবং ৩ এপ্রিল “বনের জমিতে বেনজীরের রিসোর্ট” শিরোনামে দুটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যেখানে বেনজীরের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তোলা হয়। এই প্রতিবেদনের পর মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয় এবং দুদকের নজরদারিতে বিষয়টি তীব্রতর হয়।
দুদক সচিব খোরশেদা ইয়াসমিন ২২ এপ্রিল জানিয়েছেন যে, মিডিয়ায় প্রকাশিত অভিযোগের ভিত্তিতে তারা তদন্ত শুরু করেছে। একই দিনে হাই কোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী এবাদাত হোসেনের বেঞ্চকে দুই মাসের মধ্যে একটি প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এই নির্দেশনা অনুসরণে দুদক বাংলাদেশ ব্যাংকসহ আটটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চিঠি পাঠিয়ে বেনজীরের সম্পদের তথ্য সংগ্রহের অনুরোধ করে।
পরবর্তীতে দুদক বেনজীর, তার স্ত্রী ও তিন মেয়ের স্থাবর সম্পদের ওপর ক্রোকের আদেশ পেয়ে তা বাজেয়াপ্ত করে। বাজেয়াপ্ত সম্পদকে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিলে স্থানান্তর করা হয়, যাতে তা জনকল্যাণে ব্যবহার করা যায়। সম্পদের তালিকা, নমুনা সংরক্ষণ এবং হস্তান্তরের প্রক্রিয়া আদালতের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছে।
বর্তমান পর্যায়ে দুদক ও হাই কোর্টের বেঞ্চ উভয়ই তদন্তের ফলাফল সংকলন করছে। দুই মাসের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর বেঞ্চের প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হবে, যার ভিত্তিতে অতিরিক্ত সম্পদ জব্দ, আইনি ব্যবস্থা বা অপরাধমূলক অভিযোগ আনা হতে পারে। বিষয়টি এখনো বিচারিক পর্যবেক্ষণে রয়েছে এবং ভবিষ্যতে কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করবে।



