চট্টগ্রাম বিভাগের সন্দ্বীপ উপজেলার হারামিয়া ইউনিয়নে দুই তরুণকে হাঁস চুরির অভিযোগে গ্রামবাসীরা আটক করে শারীরিক শাস্তি প্রদান করে। ঘটনাটি স্থানীয় বাসিন্দাদের জানামতে, দুজনই একটি গৃহস্থের দুটো হাঁস চুরি করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। চোরদের ধরা পড়ার পরই গ্রামবাসীরা তাদের গ্রেফতার করে, এরপর শারীরিক হিংসা চালায়।
ধরা পড়া তরুণদের মাথা ন্যাড়া করা হয় এবং এককে গলায় সাউন্ডবক্স ঝুলিয়ে গান গাইতে বাধ্য করা হয়, যাতে তিনি নাচতে বাধ্য হন। অন্য তরুণের হাতে একটি হাঁস দেওয়া হয়, যেন চুরি করা প্রাণীটি ফেরত দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের শাস্তি স্থানীয় মানুষদের মতে, চোরদের সতর্ক করার জন্য করা হয়েছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা ও উপজেলা বিএনপি আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ফসিউল আলম মিডিয়াকে জানিয়ে বলেন, ওই দুই তরুণ কয়েকদিন ধরে এলাকায় হাঁস চুরি করে আসছিল। তিনি জানেনেই তাদেরকে গ্রামবাসীর হাতে তুলে দেন এবং পুলিশে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তিনি গ্রাম থেকে চলে যাওয়ার আগে শারীরিক হিংসা ইতিমধ্যে ঘটেছে।
হাঁস চুরির অভিযোগে গ্রামবাসীর হাতে ধরা পড়া তরুণদের ওপর যে শারীরিক শাস্তি দেওয়া হয়েছে, তা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার দৃষ্টিতে অপরাধমূলক। চট্টগ্রাম পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে, গ্রাহ্য তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি শিকারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তদন্ত শুরু করেছে।
পুলিশের মতে, চোরদের ওপর শারীরিক হিংসা, মাথা ন্যাড়া এবং বাধ্যতামূলক গানের মতো কাজগুলো আইনের পরিপ্রেক্ষিতে ‘শারীরিক হিংসা’ এবং ‘অবৈধ শাস্তি’ হিসেবে গন্য হবে। সংশ্লিষ্ট অপরাধের জন্য অপরাধী ও গ্রামবাসীর ওপর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফসিউল আলমের বক্তব্য অনুসারে, তিনি চোরদেরকে পুলিশে হস্তান্তর করার পরেও গ্রামবাসীর দ্বারা শারীরিক শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে না থাকলেও শারীরিক হিংসা ঘটার পরই গ্রাম থেকে চলে গেছেন।
পুলিশের তদন্তে দেখা যাচ্ছে, গ্রামবাসীরা স্বেচ্ছায় শারীরিক শাস্তি প্রদান করে, যা আইনগতভাবে অনুমোদিত নয়। চোরদের ওপর শারীরিক হিংসা, মাথা ন্যাড়া এবং বাধ্যতামূলক গানের মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া, ‘শারীরিক হিংসা’ এবং ‘অবৈধ শাস্তি’ ধারা অনুযায়ী অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
অধিকন্তু, চোরদের ওপর শারীরিক শাস্তি প্রদানকারী গ্রামবাসীরাও আইনের আওতায় আনা হবে। পুলিশ জানাচ্ছে, সংশ্লিষ্ট সকলকে গ্রেফতার করে, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
এই ঘটনার পর, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা দু’জনের ওপর ‘হাঁস চুরি’, ‘শারীরিক হিংসা’ এবং ‘অবৈধ শাস্তি’ সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আদালতে মামলার শুনানি শীঘ্রই নির্ধারিত হবে, যেখানে উভয় পক্ষের যুক্তি শোনা হবে।
সন্দ্বীপের এই ঘটনা স্থানীয় সমাজে শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য স্বেচ্ছা শাস্তির সীমা কোথায়, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে, চোরদের শাস্তি প্রদানকারী কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে আইনের শাস্তি দেওয়া হবে, এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের স্বেচ্ছা হিংসা রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে।



