গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠীর ভোটে হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে ভয় ও আতঙ্কের ব্যবহার নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বিকৃত করতে পারে।
সমাবেশটি গণসংহতি আন্দোলনের উদ্যোগে আয়োজিত হয়, যেখানে বিভিন্ন সমাজগোষ্ঠী ও নাগরিক সংগঠন একত্রিত হয়ে নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের দাবি জানায়। উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে এবং হত্যাকাণ্ডের দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেফতার করার আহ্বান জানায়।
সাময়িকভাবে, জোনায়েদ সাকি ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করেন, যা সাম্প্রতিক সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ শোকের ঘটনা। হাদির শহীদত্বের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে শোক ও ক্ষোভের সঞ্চার ঘটেছে, যা দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির তীব্রতা তুলে ধরে।
তিনি আরও জানান, ওসমান হাদির ওপর হামলাকারীদের সুনির্দিষ্ট তথ্য সরকার পর্যন্ত পৌঁছায়নি। এই তথ্যের ঘাটতি নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং জনমতকে আরও উদ্বিগ্ন করেছে।
সাকির মতে, যদি বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকে, তবে ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠী আবারও জনগণের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করে গণতান্ত্রিক অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভয়কে রাজনৈতিক সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহার করা দেশের ভবিষ্যৎকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
এদিকে, সরকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় জনগণের নিরাপত্তা অনুভূতি হ্রাস পেয়েছে। সাকি উল্লেখ করেন, কে কখন গুলিবিদ্ধ বা হামলার শিকার হবে তা অনিশ্চিত, আর সরকার এই ঝুঁকি মোকাবেলায় যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারছে না।
সাকির বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, বাংলাদেশি জনগণ আওয়ামী লীগের জাতিবাদী ফ্যাসিবাদকে গ্রহণ করেনি। তিনি উল্লেখ করেন, কোনো একক শক্তি যদি ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তবুও জনগণ তা প্রত্যাখ্যান করবে।
এ ধরনের ফ্যাসিবাদী প্রবণতা দেশের ঐতিহ্যবাহী ধর্মনিরপেক্ষতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ। সাকি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ পরিষ্কারভাবে গণতন্ত্রের পথে অগ্রসর হবে, যা শত শত শহীদদের রক্তের ঋণ।
তিনি সরকারকে আহ্বান জানান, ওসমান হাদিকে হত্যা করা অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে। পাশাপাশি, জুলাই মাসে ঘটিত সব হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচার সম্পন্ন করা উচিত, যাতে আইনের শাসন পুনরুদ্ধার হয়।
সাকির মতে, যদি সরকার এই দাবিগুলো পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে তারই জবাবদিহি নিতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ন্যায়বিচার না হলে সরকার নিজেই তার দায়িত্বের মুখোমুখি হবে এবং জনগণের আস্থা হারাবে।
এই সতর্কতা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠীর সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের কথা উল্লেখ করে সাকি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, সাকির মন্তব্যের ফলে আসন্ন নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দলগুলোকে নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার বিষয়ক প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে, যা ভোটারদের অংশগ্রহণের ইচ্ছাকে প্রভাবিত করতে পারে। এই পরিস্থিতি দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রগতির জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।



